মহাস্থানগড়ে নির্মাণকাজে স্থিতাবস্থা জারি, আপিলের অনুমতি
ফাইল ছবি
সমকাল প্রতিবেদক
প্রকাশ: ০৯ আগস্ট ২০২৬ | ১৩:০২
বগুড়ার ঐতিহাসিক মহাস্থানগড় প্রত্নতাত্ত্বিক এলাকার সীমানার মধ্যে যেকোনো ধরনের নির্মাণকাজের ওপর স্থিতাবস্থা জারি করেছে আপিল বিভাগ। একইসঙ্গে মহাস্থানগড় সংরক্ষণের নির্দেশনা দিয়ে ২০১২ সালে হাইকোর্টের দেওয়া রায়ের বিরুদ্ধে সরকারকে আপিল করার অনুমতি দিয়েছে সর্বোচ্চ আদালত।
রোববার শুনানি নিয়ে এ আদেশ দেয় প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী নেতৃত্বাধীন চার সদস্যের আপিল বেঞ্চ। বেঞ্চের অন্য তিন সদস্য হলেন বিচারপতি মোহাম্মদ রেজাউল হক, বিচারপতি এস এম এমদাদুল হক ও বিচারপতি ফারাহ মাহবুব।
আদালতে সরকারের পক্ষে শুনানি করেন অ্যাটর্নি জেনারেল রুহুল কুদ্দুস কাজল। অন্যদিকে রিটকারী সংগঠন হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশের (এইচআরপিবি) পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মনজিল মোরসেদ।
ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল বলেন, মহাস্থানগড়ে আগত নারী পর্যটকদের নামাজের স্থান ও ওয়াশরুম তৈরির প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। মহাস্থানগড়ের ভেতর নির্মাণকাজে নিষেধাজ্ঞা থাকায় এ কাজগুলো করার জন্য রায় সংশোধনের আবেদন জানানো হয়।
শুনানিতে রিটকারীর পক্ষে সিনিয়র অ্যাডভোকেট মনজিল মোরসেদ বলেন, মহাস্থানগড় একটি ঐতিহাসিক প্রত্নতাত্মিক স্থাপনা। ইউনেস্কোর ওয়ার্ল্ড হেরিটেজের প্রাথমিক তালিকায় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে এটি। এই স্থাপনার ভেতরে কোনও নির্মাণকাজ হলে চূড়ান্ত তালিকা থেকে বাদ যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
সে কারণে আপিল দায়েরের অনুমতি প্রদান করলে যাতে বর্তমানে কোনও নির্মাণকাজ না করতে পারে তার উপর স্থিতাবস্থার আদেশ প্রদানের প্রার্থনা করেন তিনি।
২০১০ সালে মহাস্থানগড়ের সীমানার ভেতরে তৎকালীন মাজার কমিটি মসজিদ নির্মাণসহ উন্নয়নমূলক কাজ করতে গেলে গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হয়। মহাস্থানগড়ের সংরক্ষণের নির্দেশনা চেয়ে জনস্বার্থে এইচআরপিবি রিট পিটিশন দায়ের করে। এর পরিপেক্ষিতে
হাইকোর্ট বিভাগ একটি কমিটি গঠন করে বিষয়টি সম্পর্কে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেন। কমিটি মহাস্থানগড়ের সংরক্ষণের জন্য পার্শ্ববর্তী পূর্ব পাশে মসজিদ নির্মাণের সুপারিশ করে। শুনানি শেষে আদালত মহাস্থানগড়ের সীমানার মধ্যে যেকোনো উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডের ওপর নিষেধাজ্ঞা দেন।
রায়ের পরে ১৫ বছর পর্যন্ত অন্য কোনও কর্মকাণ্ড না হলেও ইদানিং সংশ্লিষ্ট এলাকার মন্ত্রী ৭৩ লাখ টাকা বরাদ্দ করে রাস্তার নির্মাণ কাজ শুরু করলে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ওই কাজ বন্ধ করার পরে রায়ের বিরুদ্ধে একটি আপিল দায়ের করা হয়। ওই আপিলের বিষয়ে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় ও ডিজি প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর তাদের আপত্তি জানিয়ে সলিসিটর অফিসকে চিঠি প্রদান করেন এবং বিষয়টি নিয়ে গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হয়।
- বিষয় :
- বগুড়া
- মহাস্থানগড়
- আপিল বিভাগ