ঢাকা মঙ্গলবার, ১১ আগস্ট ২০২৬

পদ্মা সেতু হয়ে নতুন ট্রেন ঢাকা-গোপালগঞ্জ রুটে

পদ্মা সেতু হয়ে নতুন ট্রেন ঢাকা-গোপালগঞ্জ রুটে
×

ছবি: সংগৃহীত

সমকাল প্রতিবেদক ও গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি

প্রকাশ: ১১ আগস্ট ২০২৬ | ০১:০০ | আপডেট: ১১ আগস্ট ২০২৬ | ০১:০২

পদ্মা সেতু হয়ে ঢাকা-গোপালগঞ্জ-ঢাকা রুটে ‘অভিযাত্রী কমিউটার’ নামের এক জোড়া নতুন ট্রেন চালু হয়েছে। সোমবার বেলা সাড়ে তিনটায় ঢাকার কমলাপুর রেলস্টেশনে ট্রেনটির উদ্বোধন করেন রেলমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম।

বহুল প্রত্যাশিত এই রেলসেবা চালু হওয়ায় মহেশপুর ও আশপাশের এলাকার মানুষের মধ্যে দেখা দিয়েছে আনন্দ-উচ্ছ্বাস। স্থানীয়দের দীর্ঘদিনের দাবির পর মহেশপুর রেলস্টেশনটিতে ট্রেনের যাত্রাবিরতি চালু হওয়াকে যোগাযোগ ব্যবস্থার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে রেল প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ, রেল সচিব মো. ফাহিমুল ইসলাম, রেলওয়ের মহাপরিচালক মো. আফজাল হোসেনসহ  ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

সোমবার দুপুরে সাধারণ যাত্রীদের সঙ্গে স্ত্রীকে নিয়ে ঢাকা থেকে ‘অভিযাত্রী কমিউটার’ ট্রেনে চড়ে মহেশপুর রেলস্টেশনে পৌঁছান গোপালগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য সেলিমুজ্জামান সেলিম।

মহেশপুর রেলস্টেশন চত্বরে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে গোপালগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য সেলিমুজ্জামান সেলিম বলেন, মহেশপুরের সাধারণ মানুষের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা পূরণে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ভবিষ্যতেও এলাকার যোগাযোগ ও জনসেবার উন্নয়নে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গোপালগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য ডা. কে এম বাবর, গোপালগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য এস এস এম জিলানীসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি ও স্থানীয়রা।

পরে ফিতা কেটে মহেশপুর রেলস্টেশনে ‘অভিযাত্রী কমিউটার’ ট্রেনের যাত্রাবিরতির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়। এর মধ্য দিয়ে মহেশপুর ও আশপাশের জনপদের মানুষের জন্য নিয়মিত রেলযাত্রার নতুন সুযোগ তৈরি হলো।

স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, মহেশপুরে ট্রেনের যাত্রাবিরতি শুধু যাতায়াতের সুবিধাই বাড়াবে না; এর প্রভাব পড়বে স্থানীয় ব্যবসা-বাণিজ্য ও অর্থনীতিতেও। সহজ যোগাযোগের ফলে ঢাকার সঙ্গে পণ্য ও মানুষের চলাচল বাড়ার পাশাপাশি শিক্ষা ও চিকিৎসার ক্ষেত্রেও নতুন সুযোগ তৈরি হবে বলে তাদের প্রত্যাশা।

প্রতি শনিবার ট্রেনটির সাপ্তাহিক বন্ধ থাকবে বলে রেল মন্ত্রণালয় জানিয়েছে।

ঢাকা থেকে গোপালগঞ্জ পর্যন্ত ১৪৮ কিলোমিটার পথে ট্রেনটির কেরানীগঞ্জ, শ্রীনগর, মাওয়া, ভাঙ্গা জংশন, নগরকান্দা, মহেশপুর ও কাশিয়ানী জংশনসহ সাত জায়গায় যাত্রা বিরতি করবে। আট বগির (কোচ) ট্রেনটিতে আসন সংখ্যা ৬৩০।

রেলপথ মন্ত্রণালয় বলছে, গোপালগঞ্জ ও আশপাশের এলাকার চাকরিজীবী, শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ীসহ সাধারণ যাত্রীরা এই ট্রেনের মাধ্যমে কম খরচে ঢাকায় যাতায়াতের সুযোগ পাবেন। গোপালগঞ্জ ও আশপাশের এলাকার কৃষিপণ্য, মাছ, শাকসবজি ও অন্যান্য স্থানীয় পণ্য তুলনামূলক কম খরচে ঢাকার বাজারে পরিবহনের সুযোগ তৈরি হবে।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, পর্যাপ্ত যাত্রীবাহী কোচ ও লোকোমোটিভের (ইঞ্জিন) সীমাবদ্ধতার মধ্যেও দক্ষ সম্পদ ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে দায়িত্ব গ্রহণের ১৮০ দিনের মধ্যে সরকার ঢাকা-গোপালগঞ্জ রুটে নতুন এই কমিউটার ট্রেন চালু করেছে।

আরও পড়ুন

×