কলম্বিয়ায় ভূমিকম্পে নিহত অন্তত ১১১, ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকা অনেকে
ছবি: এএফপি
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ১১ আগস্ট ২০২৬ | ০১:৫১ | আপডেট: ১১ আগস্ট ২০২৬ | ০২:০৫
কলম্বিয়ায় শক্তিশালী ভূমিকম্পের আঘাতে অন্তত ১১১ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও অনেকে। সোমবার স্থানীয় সময় সকালে দেশটির পশ্চিমাঞ্চলে ৭ দশমিক ৪ মাত্রার ভূমিকম্পটি আঘাত হানে। ভূমিকম্পে বেশ কয়েকটি ভবন ধসে পড়েছে।
এসব ভবনের ধ্বংসস্তূপের নিচে অনেকে আটকা পড়েছেন। উদ্ধারকারী দলগুলো দ্রুত উদ্ধারকাজ চালাতে সর্বাত্মক চেষ্টা করছে। দেশজুড়ে ঘোষণা করা হয়েছে জাতীয় জরুরি অবস্থা। খবর রয়টার্সের।
যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস) জানিয়েছে, ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ছিল কলম্বিয়ার প্রশান্ত মহাসাগরীয় উপকূলের জনবিরল প্রদেশ চোকোর সান হোসে দেল পালমারের কাছে। ভূমিকম্পটির গভীরতা ছিল ১০৭ কিলোমিটার। উৎপত্তিস্থল থেকে কয়েকশ কিলোমিটার দূরে হলেও রাজধানী বোগোটা পর্যন্ত আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। সেখানেও মানুষ বাড়িঘর ছেড়ে রাস্তায় বেরিয়ে আসে।
সবচেয়ে বেশি প্রাণহানির খবর পাওয়া গেছে কলম্বিয়ার কফি উৎপাদনকারী অঞ্চল রিসারালদা প্রদেশে। প্রদেশটির গভর্নর হুয়ান দিয়েগো পাতিনিও জানিয়েছেন, সেখানে ৪২ জন নিহত হয়েছেন।
ভূমিকম্পের মাত্র কয়েকদিন আগেই গত শুক্রবার দেশটির নতুন প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নিয়েছেন আবেলার্দো দে লা এসপ্রিয়েলা। দায়িত্ব নেওয়ার পর এটিই তার সরকারের প্রথম বড় ধরনের সংকট। জরুরি উদ্ধার ও ত্রাণ তৎপরতায় নেতৃত্ব দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন তিনি। রাজধানী বোগোটায় জাতীয় দুর্যোগ সংস্থার সমন্বিত কমান্ড পোস্ট থেকে তিনি কার্যক্রম পরিচালনা করবেন। তিনি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মিত্র হিসেবে পরিচিত। যুক্তরাষ্ট্রও কলম্বিয়ার পাশে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে।
তিনি জানিয়েছেন, ভূমিকম্পে দেশটিতে নিহত বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১১১ জনে। এছাড়া ভবন ধসে ৮৭ জন মানুষ আহত হওয়ার তথ্যও জানান তিনি।
বোগোটার দক্ষিণ-পশ্চিমে কালি শহরে অন্তত ২৫টি ভবন ধসে পড়েছে। বিভিন্ন অঞ্চলের কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, রিসারালদা প্রদেশে ৪২ জন, ভায়েই দেল কাওকা প্রদেশে ২৭ জন, চোকো প্রদেশে ৪ জন, মানিসালেস শহরে ৩ জন এবং অ্যানতিওকিয়া প্রদেশে ১ জন নিহত হয়েছেন। অন্যান্য স্থানের তথ্য এখনও জানা যায়নি।
কলম্বিয়ার ভূমিকম্পের কম্পন প্রতিবেশী ইকুয়েডর ও ভেনেজুয়েলাতেও অনুভূত হয়েছে। রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভেনেজুয়েলার তাচিরা রাজ্য ও বারকিসিমেতো শহরের বাসিন্দারা কম্পন অনুভব করেছেন। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার বাসিন্দাদের সতর্ক থাকতে বলেছে।