উপসচিবের স্বাক্ষর জাল করে ভুয়া নিয়োগপত্র, সতর্ক করল জনপ্রশাসন
অফিস সহায়ক পদে চাকরি দেওয়ার নামে অর্থ হাতানোর চেষ্টা
ফাইল ফটো
সমকাল প্রতিবেদক
প্রকাশ: ১৭ আগস্ট ২০২৬ | ১৪:১৪ | আপডেট: ১৭ আগস্ট ২০২৬ | ১৪:৩৭
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের উপসচিবের স্বাক্ষর জাল করে অফিস সহায়ক পদে নিয়োগের ভুয়া আদেশ জারি করেছে একটি প্রতারক চক্র। এ আদেশের মাধ্যমে চাকরিপ্রার্থীদের কাছ থেকে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার চেষ্টা চলছে। বিষয়টি নজরে আসার পর চাকরিপ্রার্থীদের সতর্ক করেছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়।
মন্ত্রণালয়ের প্রশাসন-১ শাখার উপসচিব শরিফুল ইসলামের স্বাক্ষর নকল করে তৈরি করা ভুয়া অফিস আদেশটি সম্প্রতি মন্ত্রণালয়ের নজরে আসে। এতে মো. রেদুয়ান আহম্মেদ নামের এক ব্যক্তিকে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের অফিস সহায়ক পদে নিয়োগ দেওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
১০ আগস্ট তারিখে জারি করা ওই ভুয়া আদেশে বলা হয়েছে, ‘জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের জনবল সংকট মোকাবিলায় বিভাগীয় নির্বাচন কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী শূন্য পদের বিপরীতে সরকারি বিধি মোতাবেক রাজস্ব খাতে বেতন স্কেল ২০১৫ অনুযায়ী ৮ হাজার ২৫০ থেকে ২০ হাজার ১০ টাকা বেতন স্কেলে নিয়োগের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।’ নিয়োগটি ১১ আগস্ট থেকে কার্যকর হবে বলেও আদেশে উল্লেখ করা হয়।
তবে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের প্রশাসন-১ শাখা থেকে এ ধরনের কোনো নিয়োগপত্র বা অফিস আদেশ জারি করা হয়নি বলে নিশ্চিত করেছেন উপসচিব শরিফুল ইসলাম। অর্থাৎ, পুরো নিয়োগ আদেশটিই ভুয়া এবং জালিয়াতির মাধ্যমে তৈরি করা হয়েছে।
পরীক্ষা ছাড়া সরাসরি নিয়োগের সুযোগ নেই
মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, সংবাদমাধ্যমে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ এবং যথাযথ নিয়োগ পরীক্ষা ছাড়া সরাসরি কোনো পদে জনবল নিয়োগের সুযোগ নেই। ফলে এ ধরনের নিয়োগপত্র বা চাকরির প্রস্তাবে বিভ্রান্ত হয়ে কারও সঙ্গে আর্থিক লেনদেন না করার জন্য চাকরিপ্রার্থীদের সতর্ক করা হয়েছে।
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে প্রতারক চক্রের সঙ্গে কোনো ধরনের আর্থিক লেনদেন চুক্তি করা যাবে না। কোনো চাকরিপ্রার্থী যেন এ ধরনের প্রতারণার শিকার না হন, সে জন্য সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।
ওয়েবসাইটেই নিয়োগের সব তথ্য
মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সব নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি নিয়মিত মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়। প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার মাধ্যমে আবেদনকারীদের মধ্য থেকে যোগ্য প্রার্থীদের নিয়োগ দেওয়া হয়। নিয়োগ প্রক্রিয়া স্বচ্ছ রাখতে অনলাইনে আবেদন নেওয়া হয়।
এ ছাড়া নিয়োগের বিভিন্ন ধাপের তথ্য প্রার্থীদের মোবাইল ফোনে এসএমএস এবং মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটের মাধ্যমে জানানো হয়। তাই চাকরির বিষয়ে কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের দেওয়া তথ্যের ওপর নির্ভর না করে মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইট অনুসরণ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
মন্ত্রণালয়ের ভাষ্য, চাকরিপ্রার্থীদের সরলতা ও অসহায়ত্বের সুযোগ নিয়ে একটি অসাধু চক্র মাঝেমধ্যেই ভুয়া নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি ও নিয়োগ আদেশ তৈরি করে প্রতারণা করছে। এ ধরনের প্রতারণা থেকে বাঁচতে নিয়োগসংক্রান্ত তথ্য যাচাই করে নেওয়া জরুরি।