ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

৬ মাস পূর্তিতে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়

ধ্বংসস্তূপ থেকে দেশকে পুনর্গঠন করছে সরকার

বড় সাফল্য জনসম্পৃক্ততা ও নির্বাচনী অঙ্গীকার বাস্তবায়ন

ধ্বংসস্তূপ থেকে দেশকে পুনর্গঠন করছে সরকার
×

সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের ১৮০ দিন পূর্তি উপলক্ষে গতকাল সোমবার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইং আয়োজিত মতবিনিময় সভায় বক্তারা- পিএমও

 সমকাল প্রতিবেদক

প্রকাশ: ১৮ আগস্ট ২০২৬ | ০৮:১২

| প্রিন্ট সংস্করণ

ফ্যাসিবাদী শাসনের রেখে যাওয়া ‘জঞ্জাল’ আর ভঙ্গুর রাষ্ট্রকাঠামো সামলে ছয় মাস পার করেছে বিএনপি সরকার। দায়িত্ব নেওয়ার পর অর্থনীতি, প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা, দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ ও জনকল্যাণে নানা উদ্যোগের পাশাপাশি নির্বাচনী ইশতেহারের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নেও অগ্রগতি হয়েছে বলে দাবি ক্ষমতাসীন দলটির। এর মধ্যে রয়েছে কৃষক, ফ্যামিলি ও প্রবাসী কার্ড, জনপ্রশাসন সংস্কার কমিশন, আর্থিক খাত সংস্কার, যানজট নিরসনে এআই ট্রাফিকব্যবস্থা এবং নতুন পে স্কেলের মতো উদ্যোগ। সরকারের দাবি, ধ্বংস্তূপ থেকে রাষ্ট্র এখন পরিকল্পিত পুনর্গঠনের পথে রয়েছে।

দায়িত্ব গ্রহণের ১৮০ দিন পূর্তি উপলক্ষে গতকাল সোমবার প্রধানমন্ত্রীর তেজগাঁও কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় এমনটাই জানান সংশ্লিষ্টরা। এ সময় সরকারের বিভিন্ন কর্মকাণ্ড তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও বিএনপি স্থায়ী কমিটি সদস্য নজরুল ইসলাম খান, রুহুল কবির রিজভী, ইসমাইল জবিউল্লাহ, তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও তাঁর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহ্দী আমিন এবং তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান।

এ সময় জনপ্রশাসনকে ঢেলে সাজাতে শিগগিরই ‘জনপ্রশাসন সংস্কার কমিশন’ গঠন করা হবে বলে জানিয়েছেন নজরুল ইসলাম খান। তিনি বলেন, সংস্কার কার্যক্রমকে কার্যকর করতে এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে আগে যথাযথভাবে প্রস্তুত করা প্রয়োজন। প্রশাসনের ভেতরে থাকা বিভিন্ন সমস্যা চিহ্নিত ও দূর করার পরই সংস্কার কমিশনকে কার্যকরভাবে কাজ করার সুযোগ দিতে চান তারা। 
প্রশ্নোত্তর পর্বে দেশের চলমান জ্বালানি ও গ্যাস সংকট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সংকটের কারণে জনগণকে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। এ জন্য সরকার দুঃখিত। তবে পরিস্থিতি মোকাবিলায় সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হচ্ছে। 
সরকারের ছয় মাসের কার্যক্রম প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর এ উপদেষ্টা বলেন, বড় বড় যে সমস্যা আরও তীব্র হয়েছে, সেগুলোর সমাধানে যতটুকু সম্ভব কাজ করা হয়েছে। প্রয়োজনের তুলনায় তা হয়তো যথেষ্ট নয়, তবে একেবারে কমও নয়। 

রুহুল কবির রিজভী বলেন, একটি ভঙ্গুর অবস্থা, অরাজকতা, গুম এবং বিচারবহির্ভূত হত্যার রাজনৈতিক নৈরাজ্যের উত্তরাধিকারের ওপর দাঁড়িয়ে বর্তমান সরকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। সামাজিক সুরক্ষা থেকে শুরু করে অবকাঠামোগত উন্নয়ন, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য–প্রতিটি ক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রী নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি পূরণে দিনরাত নিরন্তর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। 
জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, জনগণ নির্বাচনের মাধ্যমে রায় দিয়েছে এবং সেই রায় নিয়ে তারেক রহমান সরকার পরিচালনা করছেন। সরকার জানে যে জনগণের কাছে তাদের জবাবদিহিতার দায় রয়েছে। তিনি বলেন, ধ্বংস্তূপের ওপর নতুন ভবন নির্মাণের আগে জঞ্জাল পরিষ্কার করতে হয়। একইভাবে অর্থনীতি, সমাজ, রাষ্ট্র এবং রাষ্ট্রের প্রতিটি প্রতিষ্ঠান ও অঙ্গকে প্রথমেই এমনভাবে পুনর্গঠন করতে হচ্ছে, যাতে আমাদের প্রধানমন্ত্রী ঘোষিত ‘আই হ্যাভ এ প্ল্যান’ বাস্তবসম্মত কর্মপরিকল্পনায় রূপ দেওয়া যায়। 

দেশে ‘মব কালচার’ সহ্য করা হবে না বলে জানিয়েছেন ইসমাইল জবিউল্লাহ। তিনি বলেন, মব কালচার যখনই হোক, তা অনভিপ্রেত। আশা করি, মব কালচার হবে না; কখনোই তা হওয়া উচিত নয়। 
অনুষ্ঠানের শুরুতে সরকারের গত ছয় মাসের সার্বিক কার্যক্রম, উল্লেখযোগ্য অর্জন এবং আগামী দিনের উন্নয়ন পরিকল্পনা নিয়ে বিস্তারিত তথ্য উপস্থাপন করেন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহ্দী আমিন। সরকারের ইশতেহার বাস্তবায়ন ও জনকল্যাণমূলক উদ্যোগের বিভিন্ন দিক তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘‘ভোট গ্রহণের পরপরই সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ১৯ দফা, খালেদা জিয়ার ‘ভিশন ২০৩০’, বিএনপির ২৭ দফা এবং যুগপৎ আন্দোলনের ৩১ দফার আলোকে কর্মসূচি বাস্তবায়ন শুরু হয়। প্রথম মন্ত্রিসভার বৈঠকেই ১৩ লাখ কৃষক পরিবারের জন্য ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত সুদসহ ঋণ মওকুফ করা হয়। এছাড়া কৃষকদের জন্য ‘কৃষক কার্ড’, নারীদের জন্য ‘ফ্যামিলি কার্ড’, প্রবাসীদের জন্য ‘প্রবাসী কার্ড’, ইমাম-মুয়াজ্জিন ও অন্যান্য ধর্মীয় গুরুদের জন্য সম্মানী ভাতা এবং দেশজুড়ে খাল খনন ও বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি পুনরুজ্জীবিত করা হয়েছে।’’
প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব সালেহ শিবলীর সঞ্চালনায় মতবিনিময় অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী শাহে আলম, তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী, প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির, প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্যবিষয়ক বিশেষ সহকারী এস এম জিয়াউদ্দিন হায়দার, প্রধানমন্ত্রীর পরিবেশ, বন ও জলবায়ুবিষয়ক বিশেষ সহকারী সাইমুম পারভেজ প্রমুখ।

আরও পড়ুন

×