জ্বালানি পরিস্থিতি
গ্যাসের সরবরাহ বাড়েনি শিল্পের সংকটও কাটেনি
গাজীপুরে ২০-২২% কারখানায় উৎপাদন বন্ধ
গ্যাস সংকটের কারণে চট্টগ্রামের ইস্পাত কারখানাগুলোর উৎপাদন গড়ে ২৫ শতাংশ কমে গেছে। গতকাল বৃহস্পতিবার জিপিএইচ ইস্পাত কারখানা থেকে তোলা -সমকাল
হাসনাইন ইমতিয়াজ
প্রকাশ: ২১ আগস্ট ২০২৬ | ০৯:৪৪ | আপডেট: ২১ আগস্ট ২০২৬ | ০৯:৫৭
| প্রিন্ট সংস্করণ
সামিটের টার্মিনালে গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেলে একটি এলএনজি কার্গো যুক্ত হলেও গ্যাস সরবরাহ বাড়েনি। অন্যদিকে এলএনজির মজুত না থাকায় এক্সিলারেট এনার্জির টার্মিনাল থেকে সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। ফলে নতুন কার্গো এলেও জাতীয় গ্রিডে বাড়তি গ্যাস যোগ হয়নি। এর সরাসরি প্রভাব পড়েছে শিল্পকারখানায়।
গাজীপুর ও চট্টগ্রামের অনেক কারখানায় উৎপাদন কমেছে। কোথাও কারখানা বন্ধ রাখতে হচ্ছে। পাশাপাশি রাজধানীসহ বিভিন্ন এলাকায় চুলায় গ্যাসের চাপ কমে যাওয়ায় রান্নায় ভোগান্তি বেড়েছে। সিএনজি স্টেশনগুলোতেও তৈরি হয়েছে দীর্ঘ সারি।
পেট্রোবাংলার কর্মকর্তারা জানান, গতকাল বিকেল ৪টায় দেশে মোট গ্যাস সরবরাহ ছিল প্রায় ২২০ কোটি ঘনফুট। এর মধ্যে এলএনজি থেকে এসেছে প্রায় ৫৭ কোটি ঘনফুট। পুরো এলএনজিই দিয়েছে সামিটের টার্মিনাল।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, সামিটের টার্মিনাল বর্তমানে যতটুকু গ্যাস দিতে পারে, ততটুকুই জাতীয় গ্রিডে দেওয়া হচ্ছে। তাই গতকাল আসা কার্গোটি তাৎক্ষণিক সরবরাহ বাড়ানোর সুযোগ তৈরি করেনি। এক্সিলারেটের টার্মিনাল চালু করতে প্রয়োজন নতুন কার্গো। আগামী রোববার আরেকটি কার্গো আসার কথা রয়েছে। সেটি এলে ওই টার্মিনাল থেকে আবার গ্যাস সরবরাহ শুরু হতে পারে। দেশে দৈনিক গ্যাসের চাহিদা প্রায় ৩৮০ কোটি ঘনফুট। বিপরীতে সরবরাহ হচ্ছে প্রায় ২২০ কোটি ঘনফুট। অর্থাৎ ঘাটতি প্রায় ১৬০ কোটি ঘনফুট। সীমিত সরবরাহের মধ্যেও গতকাল বিদ্যুৎ উৎপাদনে প্রায় ৯৫ কোটি
ঘনফুট গ্যাস দেওয়া হয়েছে। সার কারখানায় গেছে ২১ কোটি এবং সিএনজিতে প্রায় ২ কোটি ঘনফুট। শিল্প ও আবাসিক খাত মিলিয়ে পেয়েছে প্রায় ১০২ কোটি ঘনফুট। গত মাসের একই সময়ে এ দুই খাতে সরবরাহ ছিল প্রায় ১৬০ কোটি ঘনফুট।
সংকটের প্রভাব সম্পর্কে ঢাকা ও আশপাশের জেলাগুলোতে গ্যাস সরবরাহের দায়িত্বে থাকা তিতাস গ্যাসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শাহনেওয়াজ পারভেজ গতকাল সমকালকে বলেন, সাধারণ সময়ে তিতাসের সরবরাহ লাইনে দৈনিক প্রায় ১৫০ কোটি ঘনফুট গ্যাস পাওয়া যায়। এলএনজি সংকট শুরুর পর তা কমে ১০০ থেকে ১২০ কোটি ঘনফুটে নেমেছে। সরবরাহ কমে যাওয়ার সরাসরি প্রভাব পড়েছে শিল্পাঞ্চলে।
জ্বালানি বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ড. ইজাজ হোসেন বলেন, এলএনজি সরবরাহ স্বাভাবিক হলে আপাতত গ্যাস সংকট কিছুটা কাটবে। তবে এটি স্থায়ী সমাধান নয়। দেশে গ্যাসের চাহিদা ও সরবরাহের মধ্যে বড় ঘাটতি রয়েছে। নিয়মিত এলএনজি সরবরাহ নিশ্চিত না হলে আবারও সংকট তৈরি হতে পারে। দীর্ঘমেয়াদে পরিস্থিতি সামাল দিতে দেশীয় গ্যাসের অনুসন্ধান ও উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি এলএনজি আমদানি নিশ্চিত করতে হবে।
যে কারণে কাটছে না সংকট
গ্যাস সংকটের মূল কারণ এখন এলএনজি সরবরাহে ঘাটতি। গত ২১ জুলাই এক্সিলারেট এনার্জির টার্মিনালে অগ্নিকাণ্ডের পর প্রায় ২৫ দিন সেটি বন্ধ ছিল। মেরামত শেষে সরবরাহ শুরু হলেও প্রয়োজনীয় কার্গো না আসায় মজুত দ্রুত কমে যায়। এর মধ্যে ১৭ আগস্ট একটি কার্গো আসার কথা থাকলেও সেটি আসেনি। শেষ পর্যন্ত বুধবার বিকেল থেকে টার্মিনালটি আবার পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়।
চলতি মাসে দেশে মোট ৯টি এলএনজি কার্গো আসার কথা। এর মধ্যে চারটি সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে সংগ্রহের ব্যবস্থা করা হয়েছে। বাকি কার্গোর তিনটি দরপত্রের মাধ্যমে, একটি দীর্ঘমেয়াদি চুক্তিতে এবং একটি স্বল্পমেয়াদি চুক্তির আওতায় কেনা হচ্ছে। সরাসরি ক্রয় পদ্ধতির কার্গোগুলোর আসা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। একটি এর মধ্যেই নির্দিষ্ট তারিখে আসতে পারেনি। আরেকটি কার্গোর জাহাজের ওপর যুক্তরাজ্যের নিষেধাজ্ঞা থাকায় সেটি সময়মতো আসবে কিনা, তা নিয়েও রয়েছে অনিশ্চয়তা।
জ্বালানি বিভাগের একটি সূত্র জানায়, গ্যাস সংকটের পরিস্থিতি নিয়ে গতকাল সকালে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জ্বালানি সচিব মো. জিয়াউল হককে ডেকে পাঠান। তিনি সংকটের সার্বিক পরিস্থিতি বিষয়ে জানতে চান। পরে বিকেলে এলএনজি কেনার অর্থায়নসহ সংকট মোকাবিলায় অর্থ বিভাগের সঙ্গে বৈঠক করে জ্বালানি বিভাগ।
গাজীপুরে বন্ধ ২০-২২% কারখানা
গাজীপুরে গ্যাসের চাপ না বাড়ায় গতকালও শিল্পকারখানায় উৎপাদন ব্যাহত হয়েছে। জেলা ও মহানগরে প্রায় সাড়ে তিন হাজার শিল্পকারখানা রয়েছে। এর মধ্যে গ্যাসনির্ভর প্রায় সাড়ে ৪০০। টেক্সটাইল, ডাইং, ফিনিশিং, ডেনিম, নিটিং ও ওভেন কারখানা চালাতে সাধারণত ৭ থেকে ৮ পিএসআই গ্যাসের চাপ প্রয়োজন। অথচ অনেক কারখানায় চাপ নেমেছে এক পিএসআইর নিচে। কোথাও ছিল শূন্যের কাছাকাছি।
শিল্প পুলিশ-২ এর সুপার মো. আমজাদ হোসাইন বলেন, গ্যাস সংকটের কারণে গাজীপুর জেলা ও মহানগরের ২০ থেকে ২২ শতাংশ কারখানায় উৎপাদন বন্ধ রয়েছে। বড় কারখানাগুলো বিকল্প ব্যবস্থায় উৎপাদন চালানোর চেষ্টা করছে। তবে সেসব কারখানায় উৎপাদন প্রায় ৪০ শতাংশ কমে গেছে।
কোনাবাড়ীর আমবাগ এলাকার পিএন কম্পোজিটের ব্যবস্থাপনা পরিচালক তাপস কুমার তালুকদার বলেন, বৃহস্পতিবার কারখানায় গ্যাসের চাপ ছিল শূন্যের কোঠায়। এরপরও নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় ডিজেল দিয়ে উৎপাদন চালু রাখা হয়েছে। এতে বাড়তি খরচ হচ্ছে।
সফিপুরের গোমতী টেক্সটাইলের উৎপাদন নেমেছে ৩০ শতাংশে। কারখানার প্রশাসন বিভাগের কর্মকর্তা ফরহাদ হোসেন উজ্জ্বল বলেন, শ্রমিকরা প্রতিদিন কারখানায় আসছেন। কিন্তু গ্যাসের চাপ না থাকায় অনেক সময় কাজ শুরু করা যাচ্ছে না। গ্যাসের চাপ বাড়ার আশায় অপেক্ষা করতে করতে বেলা শেষে বাড়ি ফিরছেন শ্রমিকরা।
শিল্প-সংশ্লিষ্টরা বলছেন, প্রায় এক মাস ধরে গাজীপুরের কারখানাগুলোতে এমন পরিস্থিতি চলছে। এতে শ্রমিকদের কর্মঘণ্টা নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি কারখানার আর্থিক ক্ষতি বাড়ছে। সময়মতো পণ্য সরবরাহ করতে না পারলে বিদেশি ক্রেতাদের আস্থা হারানোর ঝুঁকিও তৈরি হচ্ছে।
সাভার-আশুলিয়াতেও কমেছে উৎপাদন
সাভার-আশুলিয়া শিল্পাঞ্চলেও গ্যাস সংকট কাটেনি। রাজফুলবাড়িয়ার শোভারামপুরের আশিয়া ফ্যাশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আব্দুল হাকিম মাখন বলেন, গ্যাসের অভাবে কারখানার উৎপাদন অনেক কমে গেছে। বিশেষ করে ওয়াশিং ও ডাইং ইউনিট চালু রাখা কঠিন হয়ে পড়েছে। বাধ্য হয়ে এলপিজি ও ডিজেল ব্যবহার করে কারখানা সচল রাখছি। তিনি বলেন, কারখানাটি বন্ধ হয়ে গেলে হাজার হাজার শ্রমিকের কর্মসংস্থান অনিশ্চয়তায় পড়বে। সাভারের উলাইলের আনলিমা টেক্সটাইলের কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম বলেন, দিনের বেশির ভাগ সময়ই গ্যাস থাকে না। রাতে কিছুটা চাপ থাকলেও তাতে উৎপাদন চালানোয় কোনো সুবিধা হয় না। বিকল্প জ্বালানি হিসেবে এলপিজি ও ডিজেল ব্যবহার করতে গিয়ে উৎপাদন খরচ অনেক বেড়ে গেছে।
ভালুকার ২০ কারখানায় ছুটি
তীব্র গ্যাস সংকটে ময়মনসিংহের ভালুকা ও আশপাশের এলাকার ২০টি শিল্পকারখানায় গতকাল শ্রমিকদের ছুটি দেওয়া হয়েছে। সকালে কাজে যোগ দেওয়ার পর গ্যাসের চাপ না থাকায় ধাপে ধাপে তাদের বাড়ি পাঠানো হয়।
শিল্প পুলিশ জানায়, এ অঞ্চলের প্রধান কারখানাগুলোতে উৎপাদন নেমে এসেছে প্রায় অর্ধেকে। কোনো কোনো কারখানায় অর্ধেকের বেশি যন্ত্র বন্ধ রাখতে হচ্ছে। বিশেষ করে স্পিনিং ও টেক্সটাইল কারখানায় সংকট বেশি। গৌরীপুরের টয়ো স্পিনিং মিলসে ৫০টি যন্ত্রের মধ্যে ৪৩টি এবং ভালুকার সীমা স্পিনিং মিলে ৩০টি যন্ত্র বন্ধ রয়েছে। ভালুকার ২৯৩ শিল্পকারখানার মধ্যে ৯৯টি গ্যাসনির্ভর। শিল্প পুলিশ-৫ এর সুপার আনছার উদ্দিন বলেন, সকাল থেকেই গ্যাসের সংকট তীব্র আকার ধারণ করে।
চট্টগ্রামে উৎপাদন কমেছে ২৫%
চট্টগ্রামের বড় শিল্পকারখানাতেও গ্যাসের স্বল্প চাপের প্রভাব পড়েছে। সংশ্লিষ্টদের হিসাবে, উৎপাদন সক্ষমতা গড়ে ২৫ শতাংশ কমেছে। বিপরীতে খরচ বেড়েছে প্রায় ৩০ শতাংশ।
গ্যাসের চাপ কম থাকায় বিএসআরএম, কেএসআরএম, জিপিএইচ ইস্পাতসহ কয়েকটি প্রতিষ্ঠান দুই শিফটের বদলে এক শিফটে উৎপাদন চালাচ্ছে। টিকে গ্রুপ, সিকম গ্রুপসহ কয়েকটি প্রতিষ্ঠান একাধিক কারখানা বন্ধ রেখেছে।
বিএসআরএমের বার্ষিক উৎপাদন সক্ষমতা প্রায় ২৪ লাখ টন, আবুল খায়ের স্টিলের ১৫ লাখ টন এবং জিপিএইচ ইস্পাত ও কেএসআরএমের সম্মিলিত সক্ষমতা প্রায় ১৬ লাখ টন। গ্যাস সংকটে এসব প্রতিষ্ঠানের উৎপাদন গড়ে ২৫ শতাংশ কমেছে।
বিএসআরএম গ্রুপের উপব্যবস্থাপনা পরিচালক তপন সেনগুপ্ত বলেন, গ্যাসের চাপ কম থাকলে কারখানা চালু রাখতে বেগ পেতে হয়। অনেক সময় যন্ত্রপাতি নষ্ট হওয়ার শঙ্কা থাকে। এ কারণে অনেকে উৎপাদন কমিয়ে কারখানা চালু রাখছেন।
জিপিএইচ ইস্পাতের অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক আলমাস শিমুল বলেন, দীর্ঘদিন ধরে চাহিদা অনুযায়ী গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে না। সম্প্রতি পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়েছে। উৎপাদন গড়ে ২৫ শতাংশ কমলেও কোনোভাবে কারখানা চালু রাখা হয়েছে। অন্যদিকে প্রতি টন রড উৎপাদনে খরচ বেড়েছে ৩০ শতাংশের বেশি।
কাচশিল্পে বাড়ছে শঙ্কা
গ্যাসনির্ভর কাচশিল্পে সংকটের ঝুঁকি আরও বেশি। কাচ তৈরির চুল্লি একবার চালু করলে দীর্ঘ সময় সচল রাখতে হয়। পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেলে সেটি আবার চালু করা কঠিন। অনেক ক্ষেত্রে পুরোনো চুল্লি ভেঙে নতুন চুল্লি বসাতে হয়। এতে বড় অঙ্কের বিনিয়োগ ও দীর্ঘ সময় প্রয়োজন।
গ্লাস ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের সভাপতি ও নাসির ফ্লোট গ্লাস ইন্ডাস্ট্রিজের ব্যবস্থাপনা পরিচালক নাসিম বিশ্বাস বলেন, পর্যাপ্ত জ্বালানির অভাবে ফার্নেস চালু রাখা কঠিন হয়ে পড়েছে। গ্যাসের বিকল্প হিসেবে ডিজেল বা ফার্নেস অয়েল ব্যবহার করা গেলেও এতে উৎপাদন খরচ অনেক বেড়ে যায়।
ব্যাহত হচ্ছে সার উৎপাদনও
গ্যাস সংকটে সার উৎপাদনও ব্যাহত হচ্ছে। চট্টগ্রাম ইউরিয়া ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেডের (সিইউএফএল) উৎপাদন গত ৪ মার্চ থেকে বন্ধ। প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মিজানুর রহমান জানান, আগামী ২ সেপ্টেম্বর থেকে গ্যাস সরবরাহের কথা জানিয়েছে কর্ণফুলী গ্যাস কোম্পানি। গ্যাস পাওয়া গেলে উৎপাদনে ফেরার প্রস্তুতি রয়েছে।
কাফকোতে গত ১ মে থেকে গ্যাস সরবরাহ দেওয়া হচ্ছে, তবে চাহিদার চেয়ে কম। দৈনিক ৩০ থেকে ৩২ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে বলে জানান কাফকোর অপারেশন বিভাগের মহাব্যবস্থাপক প্রকৌশলী আমিনুর রহমান।
অন্যদিকে গ্যাস ও ফসফরিক অ্যাসিডের সংকটে গত ২৮ জুন থেকে ডিএপি ফার্টিলাইজার কোম্পানির উৎপাদন বন্ধ রয়েছে।
কমছে ভোগ্যপণ্যের উৎপাদন
গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকটে ভোগ্যপণ্য উৎপাদনেও প্রভাব পড়েছে। টিকে গ্রুপের পরিচালক তারিক আহমেদ বলেন, তাদের কর্ণফুলী স্টিলের মাসিক উৎপাদন সক্ষমতা প্রায় ১৮ হাজার টন। গ্যাস সংকটে তা অর্ধেকে নেমেছে। কয়েকটি কারখানা বন্ধও রাখতে হয়েছে।
বাসাবাড়িতে রান্নায় ভোগান্তি
শিল্পের বাইরে আবাসিক গ্রাহকরাও গ্যাসের স্বল্প চাপের ভোগান্তিতে রয়েছেন। রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় দিনের নির্দিষ্ট সময়ে গ্যাসের চাপ এতটাই কম থাকছে, স্বাভাবিক রান্না করা কঠিন হয়ে পড়েছে। অনেক পরিবারকে রান্নার সময় বদলাতে হচ্ছে। কেউ ভোরে, কেউ রাত পর্যন্ত অপেক্ষা করে চুলা জ্বালাচ্ছেন। কোথাও আবার বিকল্প জ্বালানি ব্যবহার করতে হচ্ছে।
মগবাজারের মধুবাগের নতুন রাস্তা এলাকায় কয়েকটি পরিবার একটি রান্নাঘর ব্যবহার করে। দুটি চুলায় পালা করে রান্না করতে হয় তাদের। চাপ কম থাকায় এক পরিবারের রান্না শেষ হতে অনেকটা সময় চলে যাচ্ছে। পরের পরিবারকে অপেক্ষা করতে হচ্ছে। সেখানকার বাসিন্দা আফসানা বেগম বলেন, আগে যে রান্না এক থেকে দেড় ঘণ্টায় শেষ করা যেত, এখন কয়েক ঘণ্টা লেগে যাচ্ছে। চুলায় আগুন থাকলেও আঁচ এত কম যে, খাবার সিদ্ধ হতে সময় লাগছে।
সিএনজি স্টেশনেও দীর্ঘ সারি
গ্যাসের চাপ কম থাকায় সিএনজি স্টেশনগুলোতেও ভোগান্তি বেড়েছে। পর্যাপ্ত চাপ না থাকায় গাড়িতে গ্যাস ভরতে আগের চেয়ে বেশি সময় লাগছে। কোথাও স্টেশন বন্ধ রাখতে হচ্ছে, কোথাও তৈরি হচ্ছে দীর্ঘ সারি।
তেজগাঁওয়ের অল ইন ওয়ান সিএনজি স্টেশনের কর্মীরা জানান, চাপ কম থাকলে গাড়িতে গ্যাস দিতে সময় লাগছে। এতে স্টেশনের ভেতরে ও সড়কে গাড়ির সারি তৈরি হচ্ছে।
ব্যক্তিগত গাড়ির চালক রহিমুল সিকদার জানান, সকালে গ্যাস নিতে স্টেশনে গিয়ে প্রায় তিন ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হয়েছে। শেষ পর্যন্ত মাত্র ২০০ টাকারও কম গ্যাস পেয়েছেন।
যাত্রীবাহী গাড়ির চালকদের ভোগান্তিও বেড়েছে। গ্যাস কম পাওয়ায় দিনের শুরুতেই স্টেশনে যেতে হচ্ছে। দীর্ঘ অপেক্ষায় একটি ট্রিপ কমে যাচ্ছে। এতে আয়ও কমছে। কেউ কেউ সিএনজির বদলে এলপিজি ব্যবহার করছেন। এতে জ্বালানি খরচ বেড়েছে।
গ্যাস সংকটের প্রভাব পড়েছে সিএনজিচালিত অটোরিকশার ভাড়ায়ও। কয়েকটি রুটে আগের চেয়ে ১০ থেকে ২০ টাকা পর্যন্ত বেশি নেওয়ার অভিযোগ করেছেন যাত্রীরা। চালকদের দাবি, গ্যাসের জন্য স্টেশনে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হচ্ছে। অনেক সময় চাহিদামতো গ্যাসও মিলছে না। ফলে বাড়তি জ্বালানি ব্যয় ও সময়ের ক্ষতি পুষিয়ে নিতে ভাড়া বাড়াতে হচ্ছে।
(প্রতিবেদনে তথ্য দিয়েছেন চট্টগ্রাম ব্যুরো, গাজীপুর ও নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি)
- বিষয় :
- জ্বালানি খাত
- গ্যাস সংকট
- গ্যাস সরবরাহ