ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

অর্থনৈতিক চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে উচ্চশিক্ষার বিষয় নির্ধারণ করতে হবে

অর্থনৈতিক চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে উচ্চশিক্ষার বিষয় নির্ধারণ করতে হবে
×

আমির খসরু মাহমুদ

 বাসস

প্রকাশ: ২২ আগস্ট ২০২৬ | ০৮:৩৭

| প্রিন্ট সংস্করণ

অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, দেশের অর্থনৈতিক চাহিদা ও শ্রমবাজারের বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে উচ্চশিক্ষার বিষয় ও পাঠ্যক্রম নির্ধারণ করতে হবে। কেবল সনদ অর্জন নয়, শিক্ষার্থীদের কর্মসংস্থান ও উদ্যোক্তা হওয়ার উপযোগী করে গড়ে তোলাও উচ্চশিক্ষার অন্যতম লক্ষ্য হওয়া উচিত।  

গতকাল শুক্রবার সাভারের ব্র্যাক সেন্টার ফর ডেভেলপমেন্ট ম্যানেজমেন্টে (ব্র্যাক সিডিএম) ‘উপাচার্যদের সংলাপ: উচ্চশিক্ষার ভবিষ্যৎ গড়ে তোলা’ শীর্ষক দুই দিনব্যাপী জাতীয় সংলাপে অর্থমন্ত্রী এসব কথা বলেন। বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) হায়ার এডুকেশন এক্সিলারেশন অ্যান্ড ট্রান্সফরমেশন (হিট) প্রকল্পের আওতায় এ আয়োজন করা হয়।
ইউজিসি চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদের সঞ্চালনায় সেশনের প্রশ্নোত্তর পর্বে দেশের উচ্চশিক্ষার বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ, গবেষণা ও উদ্ভাবন, বিশ্ববিদ্যালয় ও শিল্পখাতের সহযোগিতা এবং স্নাতকদের কর্মসংস্থান নিয়ে উপাচার্যদের প্রশ্নের উত্তর দেন অর্থমন্ত্রী।

আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, সরকার ক্ষমতা নেওয়ার পর স্বল্প সময়ের মধ্যে দেশের অর্থনীতিকে ভঙ্গুর অবস্থা থেকে স্থিতিশীল পর্যায়ে নিয়ে আসার উদ্যোগ নিয়েছে। অর্থনৈতিক সংকটের মধ্যেও শিক্ষা খাতকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে বাজেট বরাদ্দ উল্লেখযোগ্য হারে বাড়ানো হয়েছে। তিনি বলেন, আগামী বছরগুলোতে শিক্ষা খাতে বরাদ্দ পর্যায়ক্রমে মোট দেশজ উৎপাদনের ৫ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্য নিয়ে সরকার কাজ করছে। তবে শুধু বরাদ্দ বাড়ালেই হবে না। এর কার্যকর ও স্বচ্ছ ব্যবহারও নিশ্চিত করতে হবে। শিক্ষার মান, গবেষণা এবং শিক্ষার্থীদের দক্ষতা উন্নয়নে বিনিয়োগের প্রত্যাশিত ফল নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

বর্তমান বাজারমুখী অর্থনীতিতে শিক্ষারও অর্থনৈতিক মূল্য রয়েছে উল্লেখ করে অর্থমন্ত্রী বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে নিজেদের গবেষণা সক্ষমতা ও উদ্ভাবন সম্পর্কে শিল্প ও বাণিজ্য প্রতিষ্ঠানগুলোকে জানাতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয় ও শিল্প খাতের কার্যকর সহযোগিতা ছাড়া দেশের গবেষণা ও উদ্ভাবন ব্যবস্থা টেকসই হবে না।
অর্থমন্ত্রী আরও বলেন, দেশের শিল্প ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোর বাস্তব সমস্যা সমাধানে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে গবেষণা পরিচালনা করতে হবে। একই সঙ্গে বেসরকারি খাতকে বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণায় অর্থায়ন এবং গবেষণার ফল বাণিজ্যিকভাবে ব্যবহারে এগিয়ে আসতে হবে। গবেষণা যেন শুধু প্রকাশনার মধ্যে সীমাবদ্ধ না থাকে, বরং জাতীয় উন্নয়ন ও মানুষের কল্যাণে কাজে লাগে, তা নিশ্চিত করতে হবে।

সমন্বিত স্টার্টআপ ইকোসিস্টেম গড়তে চায় সরকার: মাহ্দী আমিন
সংলাপে প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষাবিষয়ক উপদেষ্টা ড. মাহ্দী আমিন বলেন, উচ্চশিক্ষার মানোন্নয়নে সরকার দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে উদ্ভাবন, গবেষণা ও উদ্যোক্তা তৈরির কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ভিত্তিক ইনোভেশন হাব, ইনকিউবেশন সেন্টার এবং সমন্বিত স্টার্টআপ ইকোসিস্টেম গড়ে তুলতে চায়।
মাহ্দী আমিন বলেন, প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয়কে একটি পূর্ণাঙ্গ ইনোভেশন ইকোসিস্টেমের সঙ্গে যুক্ত করা হবে, যেন শিক্ষার্থীদের উদ্ভাবনী ধারণাগুলো কেবল প্রতিযোগিতায় সীমাবদ্ধ না থেকে সরকারি অনুদান ও অর্থায়নের মাধ্যমে সফল স্টার্টআপে পরিণত হতে পারে। তিনি বলেন, দেশের প্রায় প্রতিটি জেলায় শিল্পাঞ্চল, হাইটেক পার্ক বা অর্থনৈতিক অঞ্চল থাকলেও স্থানীয় বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সঙ্গে সেগুলোর কার্যকর সংযোগ এখনও গড়ে ওঠেনি। এই বিচ্ছিন্নতা দূর করে শিক্ষার্থী, বিশ্ববিদ্যালয় ও শিল্প খাতের মধ্যে একটি সমন্বিত সহযোগিতার কাঠামো তৈরি করাই সরকারের লক্ষ্য।
উদ্যোক্তা হতে আগ্রহী শিক্ষার্থীদের লাইসেন্সিংসহ বিভিন্ন প্রশাসনিক জটিলতা দূর করতে সরকার নীতিগত সহায়তা দেবে বলেও জানান তিনি। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট শিল্পপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে শিক্ষার্থীদের সংযোগ স্থাপনে সরকার সক্রিয় ভূমিকা রাখবে।

পরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে মাহ্দী আমিন বলেন, সংলাপে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যরা উচ্চশিক্ষার প্রতিবন্ধকতা ও মানোন্নয়নের করণীয় বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ মতামত তুলে ধরেছেন। পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে সরকার কীভাবে দেশের শিক্ষা ব্যবস্থাকে নতুনভাবে সাজানোর উদ্যোগ নিচ্ছে, তাও তাদের সামনে উপস্থাপন করা হয়েছে।
ইউজিসি চেয়ারম্যান অধ্যাপক মামুন আহমেদ বলেন, বিগত বছরগুলোতে দেশে উচ্চশিক্ষায় শিক্ষার্থীর সংখ্যা বৃদ্ধির পাশাপাশি উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সংখ্যাও উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। তবে শিক্ষার মান নিশ্চিত করা, শিক্ষার্থীদের দক্ষতা বাড়ানো এবং তাদের কর্মসংস্থানের উপযোগী করে গড়ে তোলা এখনও বড় চ্যালেঞ্জ।
মতবিনিময় সেশনে অন্যদের মধ্যে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব আব্দুল খালেক এবং বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ও ইউজিসির সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. এস এম এ ফায়েজ অংশ নেন। 
দুই দিনব্যাপী এ সংলাপে দেশের ৬৫টি সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, নীতিনির্ধারক, দেশি-বিদেশি শিক্ষাবিদ এবং উচ্চশিক্ষা বিশেষজ্ঞরা অংশ নিচ্ছেন।

আরও পড়ুন

×