ঢাকা শনিবার, ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে সমন্বিত ভর্তিব্যবস্থার উদ্যোগ

পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে সমন্বিত ভর্তিব্যবস্থার উদ্যোগ
×

ছবি: সমকাল

সাব্বির নেওয়াজ

প্রকাশ: ২৩ আগস্ট ২০২৬ | ০৭:৫৭ | আপডেট: ২৩ আগস্ট ২০২৬ | ১১:৪৯

| প্রিন্ট সংস্করণ

উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষা শেষে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির প্রস্তুতিতে ব্যস্ত শিক্ষার্থীরা। কেউ ভর্তি কোচিং করছেন, কেউ ভর্তি পরীক্ষার সম্ভাব্য সময়সূচি নিয়ে হিসাব-নিকাশ কষছেন। অন্যদিকে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে চলছে ভর্তি পরীক্ষা আয়োজনের প্রস্তুতি। ভর্তি মৌসুমে শিক্ষার্থীদের দীর্ঘ অপেক্ষা, একাধিক বিশ্ববিদ্যালয়ে আলাদা আবেদন, পরীক্ষা ও যাতায়াতের ভোগান্তি কমাতে এবার সমন্বিত ভর্তিব্যবস্থার উদ্যোগ নিচ্ছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। দেশের সব পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি কার্যক্রমকে একটি নির্দিষ্ট সময়সূচির মধ্যে আনতে ‘কেন্দ্রীয় ভর্তি ক্যালেন্ডার’ তৈরির পরিকল্পনা করা হয়েছে।

উচ্চমাধ্যমিকের ফল প্রকাশের পর নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে আবেদন, ভর্তি পরীক্ষা, ফল প্রকাশ ও ভর্তি কার্যক্রম শেষ করার লক্ষ্য নেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে গুচ্ছ ভর্তিব্যবস্থাকে আরও কার্যকর করার উদ্যোগও রয়েছে। সম্প্রতি বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনে (ইউজিসি) উচ্চশিক্ষা খাতের রূপান্তরে পাঁচ বছর মেয়াদি পরিকল্পনা নিয়ে বৈঠকে বিষয়টি গুরুত্ব পায়। বৈঠকে শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন, ইউজিসি চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদসহ কমিশনের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

ভর্তি ক্যালেন্ডার তৈরির উদ্যোগ
বর্তমানে উচ্চমাধ্যমিকের ফল প্রকাশের পর বিশ্ববিদ্যালয়গুলো নিজেদের সুবিধামতো ভর্তি বিজ্ঞপ্তি দেয়। এরপর আবেদন, পরীক্ষা, ফল প্রকাশ, সাক্ষাৎকার ও চূড়ান্ত ভর্তি শেষ করতে কয়েক মাস লেগে যায়। অনেক ক্ষেত্রে এক শিক্ষাবর্ষের ভর্তি কার্যক্রম বছরের শেষদিকে শুরু হয়ে পরের বছরের প্রথম কয়েক মাস পর্যন্ত চলে। এতে শিক্ষার্থীদের দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয়। একই সময়ে একাধিক বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা পড়লে পছন্দের সব প্রতিষ্ঠানে অংশ নেওয়ার সুযোগও থাকে না। ঢাকার বাইরে পরীক্ষা দিতে গেলে যাতায়াত ও আবাসনের বাড়তি খরচও বহন করতে হয়।

এ পরিস্থিতি বদলাতে কোন বিশ্ববিদ্যালয় কখন আবেদন নেবে, কখন পরীক্ষা হবে এবং কখন ফল ও ভর্তি শেষ হবে–এসব বিষয়ে সমন্বিত সময়সূচি তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। শিক্ষামন্ত্রী ইউজিসিকে ভর্তি ক্যালেন্ডার তৈরির উদ্যোগ নিতে বলেছেন।

বড় বিশ্ববিদ্যালয়গুলোই বড় বাধা
দেশের বড় ও পুরোনো পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলো এখনও প্রথম বর্ষে নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় ভর্তি পরীক্ষা নেয়। ঢাকা, রাজশাহী, চট্টগ্রাম ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ১৯৭৩ সালের আইনের অধীনে পরিচালিত। এসব বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশাপাশি বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় বিশেষ আইনের আওতায় নিজস্ব ভর্তি প্রক্রিয়া অনুসরণ করে।

স্বতন্ত্র ভর্তি পরীক্ষার পক্ষে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর একাধিক যুক্তি রয়েছে। তাদের মতে, নিজস্ব একাডেমিক বৈশিষ্ট্য ও প্রয়োজন অনুযায়ী ভর্তি পরীক্ষা নেওয়ার সুযোগ থাকলে কাঙ্ক্ষিত শিক্ষার্থী বাছাই করা সহজ হয়। তবে এর বিপরীতে রয়েছে ভর্তি পরীক্ষায় বড় অঙ্কের অর্থ লেনদেন ও প্রশাসনিক ব্যয়ের বিষয়টি। প্রতি বছর এসব বিশ্ববিদ্যালয়ে বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নেন এবং আবেদন ফি থেকে বড় অঙ্কের অর্থ আয় হয়। তাই গুচ্ছে যাওয়ার বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ভেতরে অনীহা থাকার বিষয়টিও আলোচনায় রয়েছে।

গুচ্ছে ভাঙন
শিক্ষার্থীদের ভোগান্তি কমাতে কয়েক বছর আগে সাধারণ এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে নিয়ে জিএসটি গুচ্ছ ভর্তি পরীক্ষা চালু করা হয়। একটি পরীক্ষার মাধ্যমে একাধিক বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ পাওয়ায় শুরুতে এটি শিক্ষার্থীদের মধ্যে ইতিবাচক সাড়া ফেলে। প্রকৌশল ও কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্যও পৃথক গুচ্ছ ব্যবস্থা রয়েছে।

তবে সময়ের সঙ্গে জিএসটি গুচ্ছে ভাঙন দেখা দিয়েছে। ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, হাজী দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় ও খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় গুচ্ছ থেকে বেরিয়ে নিজস্ব পদ্ধতিতে ভর্তি পরীক্ষা নেয়। আরও কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়ও গুচ্ছ ছাড়ার আগ্রহ দেখিয়েছে।

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. রইছ উদ্দীন সমকালকে বলেন, গুচ্ছে থাকার কারণে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বকীয়তা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং কাঙ্ক্ষিত মানের শিক্ষার্থী পাওয়ার ক্ষেত্রেও সমস্যা হয়েছে। তবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, বুয়েটসহ বড় বিশ্ববিদ্যালয়গুলো গুচ্ছে যুক্ত হলে ব্যবস্থাটি আরও কার্যকর ও গ্রহণযোগ্য হবে।

একাদশেও ভর্তি প্রক্রিয়ায় পরিবর্তন
পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশাপাশি একাদশ শ্রেণির ভর্তি প্রক্রিয়াতেও পরিবর্তনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তিন ধাপের পরিবর্তে এক ধাপে অনলাইনে আবেদন নেওয়া এবং আগের মতো মাইগ্রেশনের সুযোগ না রাখার পরিকল্পনা করা হচ্ছে।

গত ১৬ আগস্ট একাদশ শ্রেণির ভর্তি নীতিমালা কমিটির বৈঠকে এসব বিষয়ে আলোচনা হয়। তবে পুনর্নিরীক্ষার পর ফল পরিবর্তন হলে সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থী পুনরায় আবেদনের সুযোগ পাবেন। আবেদন করেও কলেজ না পাওয়া, নিশ্চায়ন না করা বা কোনো কারণে ভর্তি থেকে বাদ পড়লেও পুনরায় আবেদনের সুযোগ রাখার পরিকল্পনা রয়েছে।

একাদশের ভর্তি কার্যক্রমও দ্রুত শেষ করতে চায় শিক্ষা মন্ত্রণালয়। সেপ্টেম্বরের প্রথম সপ্তাহে আবেদন শুরু করে সেপ্টেম্বরের শেষ সপ্তাহেই ক্লাস শুরুর পরিকল্পনা করা হচ্ছে। আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সভাপতি ও ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক সৈয়দ আক্তারুজ্জামান বলেন, একাদশ শ্রেণির ভর্তি নীতিমালা নিয়ে কাজ চলছে। ভর্তি কার্যক্রম ও ক্লাস এগিয়ে এনে একাডেমিক শৃঙ্খলা ফেরানোর বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে। 

আরও পড়ুন

×