ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্রে বুয়েটের সাবেক ছাত্রের মৃত্যুর তদন্ত দাবি

যুক্তরাষ্ট্রে বুয়েটের সাবেক ছাত্রের মৃত্যুর তদন্ত দাবি
×

 বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক 

প্রকাশ: ২৩ আগস্ট ২০২৬ | ০৮:৩৩

| প্রিন্ট সংস্করণ

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় বুয়েটের সাবেক শিক্ষার্থী ইরফান আল-হুসাইনির (৩৩) রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনায় নিরপেক্ষ তদন্ত ও পূর্ণাঙ্গ ময়নাতদন্তের দাবি জানিয়েছেন তাঁর শিক্ষক, সহপাঠী ও পরিবারের সদস্যরা। গতকাল শনিবার দুপুরে বুয়েটের শহীদ মিনারে আয়োজিত এক মানববন্ধন থেকে এ দাবি জানানো হয়। 

ইরফান বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং (ইইই) বিভাগের ১২তম ব্যাচের শিক্ষার্থী ছিলেন। পরে যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়া টেক বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পিএইচডি সম্পন্ন করে এনভিডিয়ায় ডেটা সায়েন্টিস্ট হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন। মৃত্যুর প্রায় তিন মাস আগে তিনি সিনিয়র ডেটা সায়েন্টিস্ট পদে পদোন্নতি পেয়েছিলেন। 
পরিবার ও সহপাঠীদের ভাষ্য, গত ২২ জুলাই ক্যালিফোর্নিয়ার পালো অল্টোতে নিজ বাসা থেকে ইরফানকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। পরে স্ট্যানফোর্ড মেডিকেল সেন্টারের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন থাকার পর ৩০ জুলাই তাঁর মৃত্যু হয়। 

ইরফানের মৃত্যুর ঘটনাকে প্রাথমিকভাবে আত্মহত্যা হিসেবে দেখা হলেও ওই দিনের ঘটনাপ্রবাহ ও সময়সূচি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তাঁর পরিবার ও বন্ধুরা। তাদের দাবি, ঘটনার দিন সকাল ৯টার দিকে ইরফান একটি অনলাইন প্রেজেন্টেশন করেন। এর পর সকাল ১০টা ২ মিনিটে তাঁর মোবাইল ফোন থেকে কর্মস্থলে বার্তা পাঠিয়ে স্ত্রীর অসুস্থতার কথা উল্লেখ করে ছুটি চাওয়া হয়। এর প্রায় ২০ মিনিট পর সকাল ১০টা ২২ মিনিটে তাঁর বাসা থেকে ৯১১-এ ফোন করা হয়। ফোনে আত্মহত্যার ঘটনার কথা জানানো হয়েছিল। সেই সময় ইরফানের স্ত্রী ফাবিয়া ফারলিন অ্যাথেনা বাসায় ছিলেন। 
মানববন্ধনে অংশ নেওয়া সহপাঠীরা বলেন, এই সময়ের মধ্যে কী ঘটেছিল, তা এখনও স্পষ্ট নয়। তাদের দাবি, চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী ইরফানের মস্তিষ্কে ৩০ থেকে ৬০ মিনিট অক্সিজেনের ঘাটতি হয়েছিল, যার ফলে গুরুতর ক্ষতি হয়। 

পরিবারের অভিযোগ, ইরফানের মরদেহের এখনও পূর্ণাঙ্গ ময়নাতদন্ত করা হয়নি। বর্তমানে মরদেহ হিমাগারে রয়েছে। যদিও ঘনিষ্ঠ স্বজন ও বন্ধুদের না জানিয়ে দ্রুত দাফনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। পরে তাঁর বন্ধুদের পক্ষ থেকে মৃত্যুর ঘটনা নিয়ে প্রশ্ন তুলে যৌথ বিবৃতি প্রকাশ করা হলে জানাজার কর্মসূচি স্থগিত করা হয়। 
মানববন্ধন থেকে তিন দফা দাবি জানানো হয়। দাবিগুলো হলো– আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করে দ্রুত ইরফানের পূর্ণাঙ্গ অভ্যন্তরীণ ময়নাতদন্ত করা, মরদেহের হেফাজত তাঁর মা-বাবার কাছে হস্তান্তর করা এবং নিরপেক্ষ, স্বচ্ছ ও পূর্ণাঙ্গ তদন্তের মাধ্যমে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটন করা। 
মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা বলেন, তদন্তে যদি আত্মহত্যার বিষয়টি প্রমাণিতও হয়, তাহলে কী পরিস্থিতিতে ইরফান এমন সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছিলেন, সেটিও খুঁজে বের করতে হবে। এ ঘটনায় কোনো ব্যক্তির দায় প্রমাণিত হলে তার বিরুদ্ধে যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তারা।

আরও পড়ুন

×