ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

শজিমেক হাসপাতাল

হামের রোগীদের ওষুধ নিয়ে ভোগান্তি

হামের রোগীদের ওষুধ নিয়ে ভোগান্তি
×

বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতাল

 সমকাল প্রতিবেদক ও বগুড়া ব্যুরো

প্রকাশ: ২৫ আগস্ট ২০২৬ | ০৮:৪৮ | আপডেট: ২৫ আগস্ট ২০২৬ | ০৯:৫১

| প্রিন্ট সংস্করণ

বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতালে হামের রোগীদের চিকিৎসা করাতে এসে ভোগান্তিতে পড়ছেন স্বজনরা। হাসপাতাল থেকে প্রয়োজনীয় ওষুধ না পাওয়ায় কিনতে হচ্ছে বাইরে থেকে। পরীক্ষা-নিরীক্ষার খরচ তো আছেই। এতে দরিদ্র পরিবারের রোগীদের চিকিৎসা চালিয়ে যাওয়া কঠিন হয়ে পড়ছে।

গতকাল সোমবার শজিমেক হাসপাতালের শিশু বিভাগে হামের রোগীদের জন্য নির্ধারিত অংশে গিয়ে এমন চিত্র দেখা যায়। সেখানে ১৩ জন রোগী ভর্তি ছিল। শয্যার সংকটে পাঁচজনকে মেঝেতে রাখা হয়েছে।

সিরাজগঞ্জের বেলকুচি উপজেলার মিনারা খাতুনের ছেলে দুই বছর আট মাস বয়সী ইউনুস আলী দুই সপ্তাহ ধরে জ্বরে ভুগছিল। শরীরে হামের উপসর্গ দেখা দেওয়ার পর গত বৃহস্পতিবার তাকে শজিমেক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। 

মিনারা জানান, হাসপাতাল থেকে শুধু জ্বরের সিরাপ দেওয়া হয়। বাকি ওষুধ ও স্যালাইন বাইরে থেকে কিনতে বলা হয়। রক্ত পরীক্ষা ও এক্সরে করাতেও ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। সব মিলিয়ে প্রায় ছয় হাজার টাকা প্রয়োজন হলেও তাঁর কাছে ছিল মাত্র ৩৫০ টাকা। মিনারা আরও বলেন, হাসপাতালে বিনামূল্যে ওষুধ পাব ভেবেছিলাম। এখন ওষুধ কিনতে না পেরে কী করব বুঝতে পারছি না।
বগুড়ার ধুনট উপজেলার সোহেল রানার ছেলে চার বছর ১০ মাস বয়সী সোহানকে গত শুক্রবার রাতে ভর্তি করা হয়। সোহেল রানা জানান, হাসপাতাল থেকে জ্বরের সিরাপ ছাড়া অন্য ওষুধ পাননি। বাইরে থেকে ওষুধ ও স্যালাইন কিনতে তাঁর প্রায় তিন হাজার ৮০০ টাকা খরচ হয়েছে। রক্ত পরীক্ষা ও এক্সরেতেও ৫৫০ টাকা লেগেছে।

গাইবান্ধার সাঘাটার অটোরিকশাচালক সুরুজ মিয়া অভিযোগ করেন, তাঁর ১০ মাস বয়সী ছেলে ইয়াসিনকে ভর্তি করার পর এক ওয়ার্ডবয় ওষুধ কেনার কথা বলে দুই হাজার টাকা নেন। পরে ওষুধ না দেওয়ায় তাঁকে বাইরে থেকে আড়াই হাজার টাকার ওষুধ কিনতে হয়েছে।
হাসপাতালের এক নার্স জানান, হামের রোগীদের জন্য আলাদা চিকিৎসক নেই। শিশু বিভাগের চিকিৎসকরাই তাদের চিকিৎসাসেবা দিচ্ছেন। কয়েক দিন ধরে জ্বরের সিরাপ ছাড়া অন্য ওষুধ সরবরাহ নেই বলেও তিনি দাবি করেন।

তবে রোগীদের ওষুধ না দেওয়ার অভিযোগ মানতে নারাজ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। শজিমেকের উপপরিচালক ডা. মঞ্জুর-ই মোর্শেদ বলেন, হামের রোগীদের প্রয়োজনীয় ওষুধ, ইনজেকশন ও স্যালাইন সরবরাহ আছে। বাইরে থেকে ওষুধ কেনার প্রয়োজন নেই। মেরোপেনসহ দামি ইনজেকশনও বিনামূল্যে দেওয়া হচ্ছে। 
জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্যমতে, গত ২৯ মার্চ থেকে জেলার বিভিন্ন হাসপাতালে এক হাজার ১২৮ জন হামের রোগী ভর্তি হয়েছে। সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে এক হাজার ১১২ জন। হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে মারা গেছে ১৮ জন। এর মধ্যে শজিমেক হাসপাতালে মারা গেছে ১৫ জন।

এদিকে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের গতকাল সোমবারের বুলেটিন অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে হামের উপসর্গ নিয়ে আরও পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত উপসর্গ নিয়ে মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৮৩৯-এ। এ ছাড়া হাম শনাক্ত হয়ে মারা গেছে ৯৯ জন। একই সময়ে হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে গেছে এক লাখ ৫০ হাজার ৬৫২ জন। নমুনা পরীক্ষায় এ পর্যন্ত ১৮ হাজার ৪৮৭ জনের শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সাবেক রোগনিয়ন্ত্রণ পরিচালক বে-নজির আহমেদ সতর্ক করে বলেন, হাম যেভাবে ছড়িয়ে পড়ছে, তাতে জরুরি ক্যাম্পেইন খুব দ্রুত এই মহামারি থামাতে পারবে না। সরকারের উচিত দ্রুত জনস্বাস্থ্য জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা। সেটা করা হয়নি। টিকাদানের বাইরে সরকার অন্য কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করতে পারেনি।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, দেশে হাম, সংক্রমণ বাড়লেও জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থায় কোনো দুর্বলতা নেই। আমরা টিকা দিয়ে যাচ্ছি, কিন্তু অনেক মা তাদের সন্তানদের টিকা দেননি। 
 

আরও পড়ুন

×