ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ডব্লিউএইচও’র ৫৩২টির বিপরীতে বাংলাদেশে অত্যাবশ্যকীয় ওষুধ ১১৭

দুই বছর পরপর তালিকা হালনাগাদের কথা থাকলেও হয়নি

ডব্লিউএইচও’র ৫৩২টির বিপরীতে বাংলাদেশে অত্যাবশ্যকীয় ওষুধ ১১৭
×

ছবি: সমকাল

সমকাল প্রতিবেদক

প্রকাশ: ২৫ আগস্ট ২০২৬ | ১৪:২২

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) অত্যাবশ্যকীয় ওষুধের তালিকায় প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য ৫৩২টি ওষুধ রয়েছে। এর বিপরীতে বাংলাদেশে অত্যাবশ্যকীয় ওষুধের তালিকায় রয়েছে মাত্র ১১৭টি ওষুধ। নিয়ম অনুযায়ী দুই বছর পরপর তালিকা হালনাগাদ করার কথা থাকলেও বাংলাদেশে তা করা হয়নি। 

এ ছাড়া ওষুধের সহজলভ্যতা নিশ্চিত করতে শুধু অত্যাবশ্যকীয় ওষুধের তালিকা হালনাগাদ করাই যথেষ্ট নয়। একই সঙ্গে ওষুধের মূল্য, নিরাপত্তা, মান নিয়ন্ত্রণ ও সরবরাহব্যবস্থার মধ্যে সমন্বয় প্রয়োজন বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

মঙ্গলবার রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে গবেষণা প্রতিষ্ঠান Public Integrity Network for Evidence and Transparency (PINET) আয়োজিত ‘রোগীর নাগালে ওষুধ, উৎপাদকের টেকসইতা: ভারসাম্যপূর্ণ ওষুধনীতির সন্ধানে’ শীর্ষক জাতীয় নীতি সংলাপ ২০২৬-এ এসব কথা উঠে আসে।

অনুষ্ঠানে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) বাংলাদেশ প্রতিনিধি ও মিশন প্রধান ডা. মামুনুর রহমান মালিক বলেন, সর্বজনীন স্বাস্থ্যসেবা (ইউএইচসি) বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় ওষুধের তালিকা হালনাগাদ করা গুরুত্বপূর্ণ। তবে শুধু তালিকা করলেই মানুষের ওষুধপ্রাপ্তি নিশ্চিত হবে না। ওষুধ দেশের সর্বত্র পাওয়া যাচ্ছে কি না, মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে রয়েছে কি না এবং নিরাপদ ও কার্যকরভাবে সরবরাহ করা হচ্ছে কি না— এসব বিষয়ও নিশ্চিত করতে হবে।

তিনি বলেন, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ২০২৫ সালে প্রয়োজনীয় ওষুধের তালিকার ৩৪তম সংস্করণ হালনাগাদ করেছে। এতে প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য ৫৩২টি এবং শিশুদের জন্য প্রায় ৩৪২টি প্রয়োজনীয় ওষুধ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

ডা. মালিক বলেন, টেকসই ওষুধনীতি গড়ে তুলতে হলে তিনটি বিষয়কে গুরুত্ব দিতে হবে— ওষুধের প্রাপ্যতা, মানুষের ক্রয়ক্ষমতা এবং ওষুধের নিরাপত্তা। অনেক সময় বাজারে ওষুধ থাকার পরও দুর্বল স্টক ব্যবস্থাপনা, নকল ও নিম্নমানের ওষুধ এবং সরবরাহব্যবস্থার সমস্যার কারণে রোগীরা প্রয়োজনীয় ওষুধ থেকে বঞ্চিত হন।

ওষুধ খাতের মূল্যায়ন হয় না
বাংলাদেশে নিয়মিত Pharmaceutical Sector Assessment Survey পরিচালিত না হওয়ায় ওষুধ খাতের প্রকৃত চিত্র সম্পর্কে পর্যাপ্ত তথ্য পাওয়া যায় না বলে জানান ডব্লিউএইচও প্রতিনিধি।

তিনি বলেন, এ ধরনের জরিপে রোগীদের প্রয়োজনীয় ওষুধে প্রবেশাধিকার, ওষুধের মূল্য কাঠামো, মানুষের ক্রয়সামর্থ্য এবং ওষুধের নিরাপত্তা ও নিয়ন্ত্রক সংস্থার বিধি প্রতিপালন— এই চারটি বিষয় মূল্যায়ন করা হয়।

ডা. মালিক বলেন, বাংলাদেশ থেকে এ ধরনের তথ্য খুব একটা পাওয়া যায় না। অথচ ওষুধের মূল্য নির্ধারণ এবং মানুষের ক্রয়সামর্থ্য বিবেচনায় নীতি প্রণয়নের জন্য এসব তথ্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

শক্তিশালী নিয়ন্ত্রক সংস্থা দরকার
ওষুধের নিরাপত্তা ও মান নিশ্চিত করতে দেশের ড্রাগ রেগুলেটরি কর্তৃপক্ষকে আরও শক্তিশালী করার আহ্বান জানান তিনি। ডা. মালিক বলেন, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে শক্তিশালী করার কথা বলা হলেও ড্রাগ রেগুলেটরি অথরিটিকেও কার্যকর ও স্বাধীন প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। একই সঙ্গে ফার্মাকোভিজিল্যান্স বা ওষুধ নিরাপত্তা নজরদারি ব্যবস্থা জোরদার করা জরুরি।

এর মাধ্যমে নকল ও নিম্নমানের ওষুধ শনাক্ত করার পাশাপাশি ওষুধ সেবনের পর বিরূপ প্রতিক্রিয়া নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা সম্ভব হবে বলে জানান তিনি।

যুক্তিসঙ্গত ওষুধ ব্যবহারে জোর
দেশে বহু বছর ধরে ‘র‍্যাশনাল ইউজ অব ড্রাগস’ বা যুক্তিসঙ্গত ওষুধ ব্যবহারের কথা বলা হলেও এর বাস্তব প্রয়োগ এখনো দুর্বল বলে মন্তব্য করেন ডব্লিউএইচও প্রতিনিধি।

তিনি বলেন, অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল রেজিস্ট্যান্স (এএমআর) ভবিষ্যতে বিশ্বের অন্যতম বড় স্বাস্থ্যঝুঁকি হয়ে উঠতে পারে। তাই যুক্তিসঙ্গতভাবে অ্যান্টিবায়োটিকসহ সব ধরনের ওষুধ ব্যবহারের বিষয়টি এখনই কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করা প্রয়োজন।

সর্বজনীন স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে রোগীর নাগালে প্রয়োজনীয় ওষুধ পৌঁছে দেওয়ার পাশাপাশি উৎপাদকদের টেকসইতা এবং ওষুধের মান ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করে একটি ভারসাম্যপূর্ণ জাতীয় ওষুধনীতি প্রণয়নের ওপর গুরুত্ব দেন বক্তারা। 

আরও পড়ুন

×