বিএফএফ-সমকাল জাতীয় বিজ্ঞান বিতর্ক উৎসব উদ্বোধন
ছবি: সমকাল
সমকাল প্রতিবেদক
প্রকাশ: ২৯ আগস্ট ২০২৬ | ২২:১১
‘বিতর্ক মানেই যুক্তি বিজ্ঞানে মুক্তি’– প্রতিপাদ্যে শুরু হয়েছে বিএফএফ-সমকাল জাতীয় বিজ্ঞান বিতর্ক উৎসবের ১২তম আসর। গতকাল শনিবার রাজধানীর তেজগাঁওয়ে টাইমস মিডিয়া ভবনের অ্যাসেম্বলি চত্বরে শিক্ষার্থী, বিতার্কিক, শিক্ষক এবং অভিভাবক প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে এই আয়োজন উদ্বোধন করা হয়।
বাংলাদেশ ফ্রিডম ফাউন্ডেশন (বিএফএফ) ও সমকালের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এ বিতর্ক প্রতিযোগিতায় সহযোগী শাহ্জালাল ইসলামী ব্যাংক।
এই আয়োজন উদ্বোধন করে শিক্ষাবিদ অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ কায়কোবাদ বলেন, আমাদের দেশে বিজ্ঞানীদের যথাযথ মর্যাদা দেওয়া হয় না। রেডিও আবিষ্কারকের তিনজনের অন্যতম বাঙালি বিজ্ঞানী স্যার জগদীশ চন্দ্র বসু, যুক্তরাষ্ট্রের সিয়ার্স টাওয়ারের (বর্তমানে উইলস টাওয়ার) নকশাকার আমাদের দেশের স্থপতি এফ আর খান। ওই টাওয়ারের পাশের একটি রাস্তা তার নামে করা হয়েছে। আমরা কি তাদের যথাযথ সম্মান দিতে পেরেছি?
বিজ্ঞানী আচার্য প্রফুল্ল চন্দ্র রায়ের জীবনের একটি ঘটনা তুলে ধরে তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের সূর্যগ্রহণের কারণ সম্পর্কে শিখিয়েছিলেন তিনি। শিক্ষার্থীরা সেটা সুন্দর মতো শিখে পরীক্ষায় খাতায় লিখেছিলেন। কিন্তু পরে সূর্যগ্রহণ শুরু হলে তারাই আবার রাস্তায় ঢাক-ঢোল পিটিয়ে সূর্যকে রাহুর গ্রাস থেকে মুক্ত করার জন্য নেমে পড়েন।
শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, তোমরা শুধু বিজ্ঞান পড়বেই না, বিজ্ঞানমনস্কও হবে। সূর্যকে রাহুর গ্রাস থেকে মুক্ত করতে ঢাক-ঢোল নিয়ে রাস্তায় নেমে পড়বে না। আশা করছি এ আয়োজন তোমাদের বিজ্ঞানমনস্ক করে ভবিষ্যৎ বাংলাদেশ গড়ে তুলতে সহায়তা করবে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ডিবেটিং সোসাইটির মডারেটর অধ্যাপক ড. এস এম শামীম রেজা বলেন, সামনে অনেক চ্যালেঞ্জ রয়েছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার অপব্যবহার ও জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা করতে হবে। যা কিছু করি, বিজ্ঞান নিয়ে ভাবতে হবে, প্রশ্ন করতে হবে। এই আয়োজনের মধ্য দিয়ে আমরা শিক্ষার্থীদের বিজ্ঞানমনস্ক করে ভবিষ্যৎ নীতিনির্ধারক হিসেবে গড়ে তুলতে পারবো- এই প্রত্যাশাই করছি।
সমকালের প্রকাশক আবুল কালাম আজাদ বলেন, এই প্রতিযোগিতায় অনেক মেধাবি শিক্ষার্থী অংশ নিচ্ছেন। প্রত্যেকে চর্চা অব্যাহত রাখলে তারা অনেক বড় হতে পারবেন। এই আয়োজনকে আমরা কেবল প্রিন্টের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে ডিজিটালেও নিয়ে যাব।
বিএফএফের নির্বাহী পরিচালক সাজ্জাদুর রহমান চৌধুরী, বলেন, আশা করি- এই আয়োজনে আগামীতে আরও বেশিসংখ্যক শিক্ষার্থীকে যুক্ত করতে পারবো। একইসঙ্গে শিক্ষার্থীদের মধ্য থেকে বিজ্ঞানভীতি দূর করবে এবং তারা বিজ্ঞানচর্চায় উদ্বুদ্ধ হয়ে দেশগঠনে ভূমিকা রাখবেন।
শাহ্জালাল ইসলামী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (চলতি দায়িত্ব) মো. আবদুল্লাহ আল-মামুন,, আমাদের প্রত্যাশা- এ প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীরা আগামীদিনের বিজ্ঞানী, রাজনীতিবিদ ও নীতিনির্ধারক হয়ে উঠবেন। কেবল দেশের মধ্যেই নয়, আন্তর্জাতিক পর্যায়েও নিজেদের সুনাম ছড়িয়ে দেবেন। তাদের মাধ্যমেই ভবিষ্যৎ বাংলাদেশ বিনির্মাণ হবে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক কৃতি বিতার্কিক ও জেন্ডার বিশেষজ্ঞ নিশাত সুলতানা বলেন, এই বিতর্ক প্রতিযোগিতার মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা নিজেদের বিজ্ঞানমনস্ক করে ন্যায়ভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠার পথে অগ্রসর করবে বলে আশা করি।
শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন সমকালের সম্পাদক শাহেদ মুহাম্মদ আলী। সংক্ষিপ্ত আলোচনা শেষে বেলুন উড়িয়ে প্রতিযোগিতা উদ্বোধন করা হয়। অনুষ্ঠানে গত আসরের রানার্সআপ ঢাকার মিরপুরের শহীদ পুলিশ স্মৃতি কলেজ এবং হলিক্রস স্কুলের শিক্ষার্থীরা অংশ নেন।
অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন শহীদ পুলিশ স্মৃতি কলেজের শিক্ষক মেহেনাজ পারভীন এবং নারায়ণগঞ্জ আইডিয়াল কলেজের শিক্ষক বাছেদুল আলম, সমকালের উপসম্পাদক শাহেদ চৌধুরী, মাহবুব আজীজ, সহযোগী সম্পাদক জাকির হোসেন, অনলাইন ইনচার্জ গৌতম মণ্ডল, বার্তা সম্পাদক রফিকুল ইসলাম রঞ্জু, মফস্বল সম্পাদক মনিরুল ইসলাম, হেড অব ইভেন্টস হাসান জাকির প্রমুখ। সঞ্চালনায় ছিলেন সমকাল সুহৃদ সমাবেশের বিভাগীয় সম্পাদক মো. আসাদুজ্জামান।
অনুষ্ঠানে জানানো হয়, সমকালের পাঠক সংগঠন সুহৃদ সমাবেশের তত্ত্বাবধানে এবার ৬৪ জেলার ৫২০টি স্কুলের এক হাজার ৫৬০ জন বিতার্কিক এ প্রতিযোগিতায় অংশ নেবেন। প্রতিটি জেলা থেকে ৮টি দল বিতর্ক প্রতিযোগিতার প্রাথমিক রাউন্ডে অংশগ্রহণের সুযোগ পাবে। জেলা পর্যায়ের বিজয়ী দলগুলোকে নিয়ে অনুষ্ঠিত হবে বিভাগীয় প্রতিযোগিতা। বিভাগীয় প্রতিযোগিতার বিজয়ীরা পাবেন ঢাকায় অনুষ্ঠেয় চূড়ান্ত পর্বে অংশগ্রহণের সুযোগ।
স্কুল কর্তৃপক্ষের অনুমোদন সাপেক্ষে তিন সদস্যের দল গঠন করে অষ্টম, নবম ও দশম শ্রেণির শিক্ষার্থীরা এ বিতর্ক প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে পারবেন। আজ রোববার থেকে প্রচার প্রচারণা ও দল গঠনের কাজ শুরু হবে। জেলা পর্যায়ে আগামী ১০ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হবে প্রতিযোগিতা, যা শেষ হবে ৮ অক্টোবর। এর পর ১৪ অক্টোবর বিভাগীয় পর্যায়ে বিতর্ক শুরু হয়ে চলবে ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত। জাতীয় পর্যায়ে চূড়ান্ত আসরের বিতর্ক ১৩ নভেম্বর এবং ফাইনাল ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হবে ১৪ নভেম্বর।
প্রতিযোগিতায় জাতীয় পর্যায়ে চ্যাম্পিয়ন দলের প্রত্যেক সদস্য পুরস্কার হিসেবে পাবেন ল্যাপটপ। রানার্সআপ দলের সদস্যরা পাবেন নোটবুক এবং দ্বিতীয় রানার্সআপ দুইটি দলের প্রত্যেককে দেওয়া হবে স্মার্টফোন। জেলা পর্যায়ের সেরা দুইটি দলের জন্য থাকবে ক্রেস্ট, সনদপত্র ও টি-শার্ট। বিভাগীয় পর্যায়ের সেরা দুইটি দলের জন্য থাকবে ক্রেস্ট ও সনদপত্র। এছাড়া প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারী সবাই পাবেন সনদপত্র।
- বিষয় :
- সমকাল
- বিতর্ক প্রতিযোগিতা