ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সেমিনারে তথ্য

এক বছরে ২৭৪ সাংবাদিকের ওপর হামলা, হয়রানি ৪৯৬ 

এক বছরে ২৭৪ সাংবাদিকের ওপর হামলা, হয়রানি ৪৯৬ 
×

ছবি-সংগৃহীত

সমকাল প্রতিবেদক

প্রকাশ: ৩১ আগস্ট ২০২৬ | ২২:৩২

এক বছরে সাংবাদিকদের ওপর ২৭৪টি হামলার ঘটনা ঘটেছে। এসব হামলায় ১২৬ জন সাংবাদিক আহত, ৪৯৬ জন বিভিন্নভাবে হয়রানির শিকার এবং ১৫০ জন চাকরি হারিয়েছেন। ২০২৪ সালের আগস্ট থেকে ২০২৫ সালের জুলাই পর্যন্ত এ তথ্য নেওয়া হয়েছে। নারী সাংবাদিকদের ক্ষেত্রে ঝুঁকি আরও বেশি। গবেষণায় অংশ নেওয়া নারী সাংবাদিকদের ৭১ শতাংশ কর্মক্ষেত্রে যৌন হয়রানির শিকার হওয়ার কথা জানিয়েছেন।

মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন ও প্ল্যান ইন্টারন্যাশনালের যৌথ উদ্যোগে পরিচালিত ‘স্বাধীনতা: ফ্রিডম অব এক্সপ্রেশন ফর ডিজিটাল ডেমোক্রেসি’ প্রকল্পের গবেষণায় এসব তথ্য উঠে এসেছে। আজ সোমবার রাজধানীর একটি হোটেলে আয়োজিত সেমিনারে ‘বাংলাদেশে সাংবাদিক ও মানবাধিকারকর্মীদের জন্য সহায়তা সেবার ম্যাপিং এবং একটি রেফারেল ব্যবস্থা প্রস্তাব’ শীর্ষক গবেষণার ফলাফল উপস্থাপন করা হয়। পাশাপাশি প্রস্তাবিত রেফারেল ব্যবস্থা ও কৌশলগত সুপারিশ তুলে ধরা হয়।

সেমিনারে প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা ও সংসদ সদস্য জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, মানুষের মৌলিক অধিকার ও স্বাধীনতা নিশ্চিত করা ছাড়া একটি প্রগতিশীল সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব নয়। এ জন্য সরকার, নাগরিক সমাজ ও উন্নয়ন সহযোগীদের মধ্যে আরও শক্তিশালী সহযোগিতা প্রয়োজন। 

তিনি বলেন, প্রযুক্তি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা যেভাবে পৃথিবীকে বদলে দিচ্ছে, তাতে তরুণদের এসব পরিবর্তনের সঙ্গে দায়িত্বশীলভাবে মানিয়ে নেওয়ার পাশাপাশি প্রযুক্তিকে ইতিবাচক পরিবর্তনের জন্য ব্যবহারে সক্ষম করে তুলতে হবে। 

ইউরোপীয় ইউনিয়নের ডেপুটি হেড অব ডেলিগেশন এবং পলিটিক্যাল, ইকোনমিক, ট্রেড, প্রেস অ্যান্ড ইনফরমেশন সেকশনের প্রধান বাইবা জারিনা বলেন, হুমকির মুখে পড়লে কোনো সাংবাদিক বা মানবাধিকারকর্মী যেন সহায়তা পাওয়ার জায়গা নিয়ে দ্বিধায় না থাকেন। কার সঙ্গে যোগাযোগ করতে হবে, কোথায় সহায়তা পাওয়া যাবে এবং কী ধরনের সহায়তা মিলবে– এসব তথ্য তাদের কাছে স্পষ্ট থাকা প্রয়োজন।

প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশের (পিআইবি) মহাপরিচালক ফারুক ওয়াসিফ বলেন, সামাজিক মাধ্যম মানুষের মতপ্রকাশের সুযোগ বাড়িয়েছে। একই সঙ্গে অপতথ্য, ঘৃণা, অনলাইন হয়রানি এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার অপব্যবহারের ঝুঁকিও বাড়িয়েছে।

প্ল্যান ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর কবিতা বোস বলেন, ডিজিটাল ডেমোক্রেসি শুধু মোবাইল ফোন বা ইন্টারনেট ব্যবহারের সুযোগের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; মানুষ প্রযুক্তি কতটা নিরাপদ ও দায়িত্বশীলভাবে ব্যবহার করতে পারছে, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ।

মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক শাহীন আনাম বলেন, আইন ও নীতিমালা থাকা যথেষ্ট নয়, সেগুলোর কার্যকর বাস্তবায়ন নিশ্চিত করাও জরুরি। অপতথ্য, সামাজিক মাধ্যমের অপব্যবহার ও ডিজিটাল হয়রানি বাড়ছে। এ পরিস্থিতিতে নাগরিকদের সচেতন করার পাশাপাশি তরুণদের পরিবর্তনের অংশীদার হিসেবে গড়ে তুলতে হবে।

‘স্বাধীনতা: ফ্রিডম অব এক্সপ্রেশন ফর ডিজিটাল ডেমোক্রেসি’ প্রকল্পের আওতায় গবেষণাটি পরিচালিত হচ্ছে। গবেষণাটি দেশের আটটি প্রশাসনিক বিভাগে পরিচালনা করা হয়। এতে ১৬টি ফোকাস ও ছোট দলীয় আলোচনা, ২০টি কী ইনফরম্যান্ট সাক্ষাৎকার, আটটি বিভাগীয় অংশীজন পরামর্শ কর্মশালা এবং একটি জাতীয় ভ্যালিডেশন কর্মশালা করা হয়। গবেষণায় সম্ভাব্য তিনটি রেফারেল মডেল প্রস্তাব করা হয়েছে। এগুলো হলো কেন্দ্রীয় জাতীয় রেফারেল হাব, বিকেন্দ্রীভূত কমিউনিটিভিত্তিক নেটওয়ার্ক এবং জেলা বা বিভাগীয় পর্যায়ে বহুপক্ষীয় সমন্বয় ব্যবস্থা।

সেমিনারে সুপারিশ করা হয়, প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও রেফারেল ব্যবস্থাকে কার্যকর ও টেকসই রাখতে প্রাতিষ্ঠানিক দায়িত্ব নির্ধারণ এবং দীর্ঘমেয়াদি সমন্বয় নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে কোথায় আইনি, মনোসামাজিক, ডিজিটাল নিরাপত্তা বা জরুরি সহায়তা পাওয়া যাবে, সে বিষয়ে হালনাগাদ ও সহজে ব্যবহারযোগ্য তথ্যভান্ডার বা যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।

আরও পড়ুন

×