ঢাকা রোববার, ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

রেমা-কালেঙ্গা গহিন অরণ্যে ‘দৈত্য’ কাঠবিড়ালি, আনন্দে প্রকৃতিপ্রেমীরা

রেমা-কালেঙ্গা গহিন অরণ্যে ‘দৈত্য’ কাঠবিড়ালি, আনন্দে প্রকৃতিপ্রেমীরা
×

মাধবপুর (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধি

প্রকাশ: ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ২১:৫৭ | আপডেট: ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ২২:০৭

হবিগঞ্জের চুনারুঘাট উপজেলার রেমা-কালেঙ্গা বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যে দেখা মিলেছে বিরল ও বিশালাকৃতির মালয়ান জায়ান্ট স্কুইরেলের। স্থানীয়ভাবে বিশালাকৃতির এই কাঠবিড়ালির বৈজ্ঞানিক নাম ‘রাতুফা বাইকালার’। সম্প্রতি অভয়ারণ্যের গহিন অরণ্যে প্রাণীটির ছবি তুলেছেন শৌখিন বন্যপ্রাণী আলোকচিত্রী শাহেদ আহমেদ। এরপর থেকেই প্রকৃতি ও বন্যপ্রাণীপ্রেমীদের মধ্যে প্রাণীটি নিয়ে আগ্রহ তৈরি হয়েছে।

বাংলাদেশে পাওয়া কাঠবিড়ালির বিভিন্ন প্রজাতির মধ্যে মালয়ান জায়ান্ট স্কুইরেল আকারে সবচেয়ে বড়গুলোর অন্যতম। এর মাথা থেকে শরীরের দৈর্ঘ্য প্রায় ৬০ সেন্টিমিটার পর্যন্ত হতে পারে। লেজের দৈর্ঘ্যও প্রায় শরীরের সমান হওয়ায় পুরো দৈর্ঘ্য এক মিটারেরও বেশি হয়। পূর্ণবয়স্ক প্রাণীটির ওজন প্রায় দুই কেজি পর্যন্ত হতে পারে।

এর শরীরের রং, গঠনও অন্য কাঠবিড়ালি থেকে আলাদা। মাথা, পিঠ, কান ও ঝোপালো লেজ সাধারণত গাঢ় কালো, বাদামি বা লালচে-মেরুন বর্ণের হয়ে থাকে। শরীরের নিচের অংশ তুলনামূলকভাবে হালকা বা সাদাটে। বিশাল দেহ, দীর্ঘ লেজ ও উঁচু গাছের মগডালে চলাফেরার কারণে দূর থেকেও প্রাণীটিকে আলাদা করে চেনা যায়।

বন বিভাগ জানায়, মালয়ান জায়ান্ট স্কুইরেল মূলত গহিন ও পুরোনো বনের ওপর নির্ভরশীল প্রাণী। মাটিতে খুব কম নামলেও বড় বড় গাছের ডালপালায় বিচরণ করে। উঁচু গাছে ডালপালা ও পাতা দিয়ে বাসা তৈরি করে। বুনো ফল, বিভিন্ন ধরনের বীজ, বাদাম ও গাছের কচি পাতা এদের প্রধান খাদ্য। প্রাণীটির বেঁচে থাকার জন্য প্রয়োজন বড় আকারের পুরোনো গাছ ও বিস্তৃত বনভূমি। কিন্তু বন উজাড়, পুরোনো বৃক্ষ নিধন, মানুষের অনুপ্রবেশ এবং অবৈধ শিকারের কারণে এদের আবাসস্থল ক্রমেই সংকুচিত হচ্ছে। ফলে বিরল এই প্রজাতির ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে।

কালেঙ্গা বিট কর্মকর্তা আল আমিন বলেন, রেমা-কালেঙ্গা অভয়ারণ্যে মালয়ান জায়ান্ট স্কুইরেলের উপস্থিতি এ বনের জীববৈচিত্র্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। তিনি বলেন, এ ধরনের বিরল বন্যপ্রাণীর উপস্থিতি প্রমাণ করে যে, অভয়ারণ্যটি এখনো বিভিন্ন বন্যপ্রাণীর গুরুত্বপূর্ণ আবাসস্থল হিসেবে টিকে আছে। বন ও বন্যপ্রাণী রক্ষায় স্থানীয়দের সহযোগিতাও প্রয়োজন।

হবিগঞ্জ বৃন্দাবন সরকারি কলেজের প্রাণিবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. সুবাস চন্দ্র দেব বলেন, বড় ও পুরোনো গাছ সংরক্ষণ ছাড়া জায়ান্ট স্কুইরেলের মতো বৃক্ষনির্ভর প্রাণীকে রক্ষা করা সম্ভব নয়। তিনি বলেন, গহিন বন ও প্রবীণ বৃক্ষ কমে গেলে এসব প্রাণীর খাদ্য ও নিরাপদ আশ্রয় দুটিই সংকটে পড়বে। তাই রেমা-কালেঙ্গার প্রাকৃতিক বন ও বড় গাছগুলো সংরক্ষণে কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে।

বন্যপ্রাণী প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা আবুল কালাম বলেন, রেমা-কালেঙ্গা বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যে বিরল মালয়ান জায়ান্ট স্কুইরেলের দেখা পাওয়া এ অঞ্চলের জীববৈচিত্র্যের জন্য সুখবর। যথাযথ সংরক্ষণ ও বন রক্ষায় কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া গেলে ভবিষ্যতেও দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই বনাঞ্চলে বিরল বন্যপ্রাণীর নিরাপদ বিচরণ অব্যাহত থাকবে। বনকে জীববৈচিত্রে ভরে রাখতে সচেতন নাগরিকের সহযোগিতা দরকার।

আরও পড়ুন

×