কক্সবাজার সৈকতে রাস্তা নির্মাণ বন্ধে হাইকোর্টের নির্দেশকে স্বাগত জাতিসংঘের স্পেশাল র্যাপোটিয়ারের
ছবি: সংগৃহীত
সমকাল প্রতিবেদক
প্রকাশ: ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ০২:০০
কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতের বালিয়াড়ি কেটে রাস্তা নির্মাণ বন্ধে হাইকোর্টের দেওয়া নির্দেশকে স্বাগত জানিয়েছেন পরিচ্ছন্ন, সুস্থ ও টেকসই পরিবেশের অধিকারবিষয়ক জাতিসংঘের বিশেষ প্রতিবেদক অ্যাস্ট্রিড পুয়েন্তেস রিয়ানো। বাংলাদেশের অন্যতম ভঙ্গুর উপকূলীয় বাস্তুতন্ত্র রক্ষায় আদালতের এই হস্তক্ষেপ সময়োপযোগী বলেও মন্তব্য করেছেন তিনি।
সোমবার বিকেলে পেশাদারদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম লিংকডইনে দেওয়া এক বিবৃতিতে রিয়ানো এসব কথা বলেন।
বিবৃতিতে অ্যাস্ট্রিড পুয়েন্তেস রিয়ানো বলেন, কক্সবাজার বিশ্বের দীর্ঘতম অবিচ্ছিন্ন প্রাকৃতিক সমুদ্রসৈকত। একই সঙ্গে এটি বাংলাদেশের আইনত ঘোষিত পরিবেশগতভাবে সংকটাপন্ন এলাকা। ফলে এই এলাকার সুরক্ষায় রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ সতর্কতা প্রয়োজন।
বড় অবকাঠামো প্রকল্প বাস্তবায়নের আগে পরিবেশগত, সামাজিক ও মানবাধিকারগত প্রভাবের পূর্ণাঙ্গ, স্বাধীন ও অংশগ্রহণমূলক মূল্যায়ন করা জরুরি বলেও উল্লেখ করেন জাতিসংঘের এই বিশেষ প্রতিবেদক। একই সঙ্গে প্রকল্পের সম্ভাব্য জলবায়ু ঝুঁকিও খতিয়ে দেখার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।
রিয়ানো বলেন, এসব মূল্যায়ন রাষ্ট্রের ইচ্ছাধীন কোনো আনুষ্ঠানিকতা নয়; বরং এগুলো রাষ্ট্রের দায়িত্বেরই অংশ।
কক্সবাজারের বালিয়াড়ি কেটে রাস্তা নির্মাণের বিষয়টি আদালতের সামনে নিয়ে আসায় পরিবেশ ও মানবাধিকার সংগঠনগুলোরও প্রশংসা করেন তিনি। তাঁর মতে, পরিবেশ রক্ষায় বিচার পাওয়ার সুযোগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে এমন মানুষ ও বাস্তুতন্ত্রের ক্ষেত্রে এই সুযোগ আরও গুরুত্বপূর্ণ, যাদের নীতিনির্ধারণের টেবিলে নিজেদের হয়ে কথা বলার সুযোগ থাকে না।
কক্সবাজারের বালিয়াড়ি ও উপকূলীয় বাস্তুতন্ত্রের সুরক্ষায় আদালতের এই উদ্যোগকে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে উল্লেখ করে রিয়ানো বলেন, পরিবেশ ও মানবাধিকার রক্ষায় আইনি প্রতিকার পাওয়ার সুযোগ নিশ্চিত করা জরুরি।
এর আগে কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতের বালিয়াড়ি কেটে রাস্তা নির্মাণের উদ্যোগ বন্ধে হাইকোর্ট নির্দেশ দেন। আদালতের এই নির্দেশের পর বিষয়টি নিয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়েও আলোচনা শুরু হয়েছে।
- বিষয় :
- কক্সবাজার
- সমুদ্রসৈকত
- হাইকোর্টের নির্দেশনা