ঢাকা মঙ্গলবার, ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

জাবেদের সম্পদের নথি পাঠিয়েছে ইউএস ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস

জাবেদের সম্পদের নথি পাঠিয়েছে ইউএস ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস
×

ফাইল ছবি

সমকাল প্রতিবেদক

প্রকাশ: ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ০৩:০০

যুক্তরাষ্ট্র সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদের সম্পদের কিছু নথিপত্র পাঠিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) কাছে। জাতিসংঘের আনকাক চুক্তি অনুযায়ী দুদকের মিউচ্যুয়াল লিগ্যাল অ্যাসিস্ট্যান্স রিকোয়েস্ট (এমএলএআর) অনুযায়ী যুক্তরাষ্ট্রের ইউএস ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস দালিলিক ওইসব নথি পাঠিয়েছে। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রে এই তথ্য জানা গেছে।

জানা গেছে, সম্প্রতি দুদকের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকার আদালত যুক্তরাষ্ট্রে জাবেদের ৪১টি ফ্ল্যাট জব্দের আদেশ দেন। দুদক ওই এমএলএআরের সঙ্গে আদালতের আদেশের কপি ইংরেজিতে অনুবাদ করে পরে আদালতের স্বাক্ষরসহ যুক্তরাষ্ট্রের ইউএস ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস বিভাগে পাঠিয়েছিল চলতি বছরের মে মাসে।

সূত্র জানায়, দুদকের চিঠি ও আদালতের আদেশ ওই ডিপার্টমেন্ট পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দেখে এমএলএআরে উল্লেখ করা জাবেদের ফ্ল্যাটগুলোর ঠিকানা, মালিকানা খতিয়ে দেখেছে। ওইসব সম্পদের মধ্যে যেগুলোর দালিলিক প্রমাণ মিলেছে সেগুলোর নথিপত্র দুদকে পাঠানো হয়েছে। এমএলএআরে দুদকের চাহিদা অনুযায়ী সব সম্পদের নথি পাঠাতে পারেনি ইউএস ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস। তারা প্রথম পর্যায়ে আংশিক প্রমাণাদি পাঠিয়েছে। পর্যায়ক্রমে অন্যান্য সম্পদের নথিপত্রও পাঠানো হবে।

দুদক জানায়, যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন ঠিকানায় জাবেদের নামে ৪১টি ফ্ল্যাট/বাড়ি রয়েছে। এসবের মূল্য মূল্য ৫৬০ কোটি টাকা। 
দুদক যুক্তরাষ্ট্র থেকে পাঠানো ওইসব নথিপত্র আদালতে জমা দেবেন। পরে এ নিয়ে আদালতের পরবর্তী আদেশের কপি ইউএস ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস বিভাগে পাঠানো হবে। এরপর বাংলাদেশের আদালতের আদেশে অনুযায়ী যুক্তরাষ্ট্রের আদালতে এ নিয়ে বিচার চলবে। ওই বিচারে সম্পদ ফেরত দেওয়ার রায় হলে জাবেদের ওইসব সম্পদের অর্থ বাংলাদেশে পাঠানো হবে। 

দুদক সূত্র জানায়, যুক্তরাজ্য, দুবাইসহ ৯টি দেশে সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী ও তার পরিবারের সদস্যদের নামে প্রায় ৬ হাজার কোটি টাকার সম্পদের তথ্য-প্রমাণ রয়েছে দুদকের হাতে। ক্ষমতার অপব্যবহার করে বিভিন্ন সময়ে ওইসব দেশে অর্থ পাচার করে দেশগুলোতে ওই বিপুল অঙ্কের ওই সম্পদ অর্জন করেছেন। ওইসব দেশ থেকে পাচার সম্পদ ফিরিয়ে দেশগুলোতে এমএলএআর পাঠানো হয়েছে। 

জানা গেছে, ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর দুদকসহ সরকারের কতিপয় সংস্থা যৌথভাবে ১১ প্রভাবশালী ব্যক্তির বিরুদ্ধে অনুসন্ধান শুরু করে। এর মধ্যে সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ অন্যতম। দুদকের বিশেষ টিমের কাজ শুরু হওয়ার পর জাবেদ বিদেশের অনেক সম্পদ বিক্রি করে দিয়েছেন। ওই ৯ দেশে জাবেদের ১১ হাজার কোটি টাকার বেশি সম্পদের সন্ধান পাওয়া গেলেও বর্তমানে প্রায় ৬ হাজার কোটি টাকার সম্পদের প্রমাণ মিলেছে। কম-বেশি বাকি ৫ হাজার কোটি টাকার সম্পদ বিক্রি করে দিয়েছেন। এর মধ্যে যুক্তরাজ্যের সম্পদের একটি অংশ বাংলাদেশের আদালতের আদেশ অনুযায়ী জব্দ করেছে ওই দেশের সরকার।

দুদকের অনুসন্ধান থেকে জানা গেছে, ৯টি দেশের মধ্যে যুক্তরাজ্যে জাবেদের সম্পদের পরিমাণ বেশি। দেশটিতে ফ্ল্যাটসহ ৮০৬টি স্থাবর সম্পত্তির সন্ধান পাওয়া গেছে। ওই ৯টি দেশে ১ হাজার ১২২টি ফ্ল্যাট, আবাসিক বাড়ি, প্লট ও একাধিক আবাসন কোম্পানি রয়েছে। কম্বোডিয়ায় ১১৬টি, দুবাইতে ৭৩টি, মালয়েশিয়ায় ৪৭টি, যুক্তরাষ্ট্রে ৪১টি, থাইল্যান্ডে ২৪টি, ভারতে ১১টি, ভিয়েতনামে ৪টি এবং ফিলিপাইনে ২টি প্লট/বাড়ির খোঁজ মিলেছে। 

সূত্র জানায়, অবৈধ সম্পদ অর্জন ও মানিলন্ডারিংয়ের অভিযোগে এ পর্যন্ত জাবেদ ও তার পরিবারের সদস্যদের নামে ১২টি মামলা দায়ের করা হয়েছে। আরও মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। গত বছরের সেপ্টেম্বরে চট্টগ্রামে জাবেদের করপোরেট অফিসে অভিযান চালিয়ে ২৩ বস্তা গোপন কাগজপত্র উদ্ধার করা হয়েছে। এর মধ্যে প্রায় সবই বিদেশে অর্জিত সম্পদের নথিপত্র রয়েছে। 

যুক্তরাজ্যে জাবেদের ৮০৪টি ফ্ল্যাট/বাড়ির মূল্য ৮ হাজার ৫১০ কোটি, কম্বোডিয়ায় ১১১টি ফ্ল্যাট ও প্লটের মূল্য ৩৮০ কোটি, দুবাইতে ৭৩টি ফ্ল্যাট/বাড়ির মূল্য ৭৬১ কোটি, যুক্তরাষ্ট্রে ৪১টি ফ্ল্যাট/বাড়ির মূল্য ৫৬০ কোটি, মালয়েশিয়ায় ৪৭টি ফ্ল্যাটের মূল্য ৩১৩ কোটি টাকা এবং থাইল্যান্ডে ২৪টি ফ্ল্যাটের মূল্য ১৯০ কোটি, ভিয়েতনামে ৪টি ফ্ল্যাট/বাড়ির মূল্য ১৫৯ কোটি টাকা, ভারতে ১১টি ফ্ল্যাটের মূল্য ১৩ কোটি টাকা।

যৌথ অনুসন্ধান টিমের প্রধান ও দুদকের প্রধান কার্যালয়ের উপপরিচালক মো. মশিউর রহমানের নেতৃত্বে ৯ সদস্যের টিম জাবেদ ও তার পরিবারের সদস্যদের সম্পদ অনুসন্ধান, তদন্ত করছে।

আরও পড়ুন

×