ঢাকা মঙ্গলবার, ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সম্পত্তি হস্তান্তর আইনকে কোরআনবিরোধী আখ্যা, জামায়াতের বিক্ষোভ 

পর্যালোচনা দাবি হেফাজতের, সমালোচনা ইসলামী আন্দোলনের 

সম্পত্তি হস্তান্তর আইনকে কোরআনবিরোধী আখ্যা, জামায়াতের বিক্ষোভ 
×

ফাইল ফটো

সমকাল প্রতিবেদক

প্রকাশ: ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ০৯:৩১

সংসদে পাস হওয়া সম্পত্তি হস্তান্তর (সংশোধান) বিলকে কোরআন-সুন্নাহবিরোধী আখ্যা দিয়ে বিক্ষোভ করেছে জামায়াতে ইসলামী। সোমবার রাজধানীর বায়তুল মোকাররম মসজিদের উত্তর গেটে সমাবেশের পর মিছিল করে তারা। 

ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ জামায়াত আয়োজিত সমাবেশে দলটির সেক্রেটারি মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, বিএনপি কোরআন-সুন্নাহবিরোধী আইন না করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে ক্ষমতায় গিয়ে তা মানছে না। মদিনা সনদ অনুযায়ী দেশ পরিচালনার প্রতিশ্রুতি দিয়ে সরকারে গিয়ে কোরআন-সুন্নাহবিরোধী আইন পাস করেছে। এর প্রতিবাদে বিরোধী দলের এমপিরা মুখে কালো কাপড় বেঁধে সংসদ থেকে ওয়াকআউট করেছেন। 

জামায়াত সেক্রেটারি জেনারেল বলেছেন, সংখ্যাগরিষ্ঠতার জোরে কোরআন-সুন্নাহবিরোধী আইন পাস করে সরকার কর্তৃত্ববাদী শাসন কায়েমের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। এর করুণ পরিণতি সরকারকে ভোগ করতে হবে। মানবাধিকার কমিশন আইন ও গুম প্রতিরোধ আইনকে দুর্বল করে যে বিল পাস হয়েছে, তা বিএনপির ফ্যাসিবাদী হওয়ার লক্ষণ। 

জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল রফিকুল ইসলাম খান এমপি বলেন, বিএনপি একই সঙ্গে ইসলামবিরোধী ও গণবিরোধী সরকার। মানবাধিকার কমিশন আইন ও গুম প্রতিরোধ আইনকে দুর্বল করে ‘কালো আইন’ করেছে। সরকারের ফ্যাসিবাদী হওয়ার কোনো খায়েশ না থাকলে দ্রুত এসব আইন বাতিল করতে হবে।

ঢাকা মহানগর দক্ষিণ জামায়াতের আমির নূরুল ইসলাম বুলবুল এমপির সভাপতিত্বে সমাবেশে বক্তৃতা করেন উত্তরের মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন, দক্ষিণের সেক্রেটারি ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ এমপি,  উত্তরের সেক্রেটারি ড. রেজাউল করিম, দক্ষিণের সহকারী সেক্রেটারি মোহাম্মদ কামাল হোসেন এমপি প্রমুখ। 

পর্যালোচনা দাবি হেফাজতের
‘সম্পত্তি হস্তান্তর (সংশোধন) বিলে’ মুসলিম পারিবারিক ও সামাজিক বিধিব্যবস্থার যাতে ব্যত্যয় না ঘটে, সে বিষয়ে নজর রাখার আহ্বান জানিয়েছে হেফাজতে ইসলাম। একই দাবি জানিয়েছে চরমোনাই পীরের নেতৃত্বাধীন ইসলামী আন্দোলন। 

হেফাজত আমির শাহ মুহিববুল্লাহ বাবুনগরী ও মহাসচিব সাজিদুর রহমান সোমবার বিবৃতিতে বলেছেন, বৃদ্ধ বয়সে মা-বাবার নিরাপত্তা, সুচিকিৎসা ও সম্মানজনক জীবিকা নিশ্চিত করা প্রতিটি সন্তানের জন্য ইমানি ও নৈতিক দায়িত্ব। ইসলাম মা-বাবার হক আদায়কে সর্বোচ্চ প্রাধান্য দিয়েছে। তাই জ্যেষ্ঠ নাগরিকদের সুরক্ষায় যে কোনো ইতিবাচক পদক্ষেপ প্রশংসনীয়। তবে আইনের প্রয়োগ ও শরিয়াহর সামঞ্জস্য নিয়ে আলোকপাত করে হেফাজত নেতারা বলেন, মুসলমানদের সম্পত্তি বণ্টন, হেবা এবং মালিকানা হস্তান্তরের বিষয়টি সম্পূর্ণ শরিয়াহভিত্তিক ফারায়েজ আইনের অধীন। সম্পত্তি হস্তান্তরের নতুন কোনো পদ্ধতি বা ধারা যেন মূল ইসলামী মিরাস ও হেবার বিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক না হয়, তা নিশ্চিত করা জরুরি। 

সমালোচনা ইসলামী আন্দোলনের 
ইসলামী আন্দোলনের মহাসচিব গাজী আতাউর রহমান গতকাল এক বিবৃতিতে বলেছেন, সম্পত্তি হস্তান্তরের পদ্ধতি ইসলামী শরিয়াহতে বিস্তারিত বলা হয়েছে। নতুন পদ্ধতি সংযোজনের দরকার ও সুযোগ নেই। হেবার পরে সম্পত্তি থেকে মা-বাবাকে উচ্ছেদের ঘটনা রোধ করতে সমাজে, সংস্কৃতিতে ও শিক্ষায় মা-বাবার প্রতি সম্মানের ধারণাকে গ্রোথিত করতে হবে। একই সঙ্গে মা-বাবার প্রতি কর্তব্য অবহেলাকে শাস্তিযোগ্য অপরাধ বিবেচনা করে আইনের প্রয়োগ নিশ্চিত করতে হবে। এতে সমাধান সম্ভব। কিন্তু শরিয়াহকে অমান্য করা যায় না। আইনটি বাস্তবায়নযোগ্য নয়।

উলামায়ে কেরাম ও আইনবিদদের সঙ্গে সংশোধনী আনতে সরকারকে আহ্বান জানিয়েছে চরমোনাই পীরের দল। সতর্ক করে বলা হয়, সমস্যা সমাধানের নামে কোনো অবস্থাতেই শরিয়াহ অমান্য করা যাবে না।

আরও পড়ুন

×