ঢাকা মঙ্গলবার, ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

পানিতে বেশি অ্যামোনিয়া, অক্সিজেন কমে মাছে মড়ক

পানিতে বেশি অ্যামোনিয়া, অক্সিজেন কমে মাছে মড়ক
×

নলডাঙ্গা উপজেলার বারনই নদে গত শুক্রবার মাছ মরে ভেসে ওঠে সংগৃহীত

 নাটোর সংবাদদাতা

প্রকাশ: ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ০৮:৫৩

| প্রিন্ট সংস্করণ

খালে-বিলে জাগ দেওয়া পাটের পচা পানি ও জৈব পদার্থের পচন থেকে সৃষ্ট বর্জ্য বৃষ্টির পানিতে মিশে নদের পানিতে একত্র হয়ে অ্যামোনিয়ার মাত্রা বেড়ে অক্সিজেনের মাত্রা কমে গিয়েছিল। এ জন্যই মূলত বারনই নদে মাছ মরে ভেসে উঠেছিল বলে জানিয়েছেন নাটোর জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. ওমর আলী।

জেলা মৎস্য অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, শনিবার বিকেলে বারনই নদ থেকে নমুনা সংগ্রহ করে রাসায়নিক পরীক্ষা করা হয়। যেখানে পানিতে অ্যামোনিয়ার সহনীয় মাত্রা প্রতি লিটারে ০.২৫ মিলিগ্রাম থাকার কথা সেখানে ঘনত্ব বেড়ে প্রতিলিটারে ছিল ১.৫ মিলিগ্রাম। আবার অক্সিজেনের মাত্রা ছিল ৩ মিলিগ্রাম প্রতি লিটারে, যেখানে থাকার কথা ছিল ৭ থেকে ৮ মিলিগ্রাম প্রতি লিটারে।
এর আগে গত শুক্রবার ভোরে নলডাঙ্গা উপজেলার বারনই নদে বিপুল পরিমাণ মাছ মরে ভেসে ওঠে। উপজেলার ব্রহ্মপুর ইউনিয়নের ইয়ারপুর রাবারড্যাম থেকে পাটুল পর্যন্ত সাড়ে তিন কিলোমিটারজুড়ে মাছে মড়ক লাগে বলে জানান নলডাঙ্গা উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা আবু সাঈদ।

নদতীরের বাসিন্দা রফিকুল ইসলাম বলেন, নদের পানি দুর্গন্ধযুক্ত ছিল। শুক্রবার নদে মাছ মরে ভেসে উঠতে শুরু করে। পরে সবাই মাছ ধরতে নদে নামে। 
এদিকে, মাছে মড়ক লাগার কারণ জানতে শনিবার নাটোর সদর ও নলডাঙ্গা উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা আবু সাঈদকে প্রধান এবং বাগাতিপাড়া উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা এসএম মাহমুদ হোসেন ও সিংড়া উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা শাহাদত হোসেনকে সদস্য করে তদন্ত কমিটি গঠন করেন জেলা মৎস্য কর্মকর্তা। 

তদন্ত কমিটির প্রধান আবু সাঈদ জানান, শনিবার বিকেলে নদের চারটি স্থান থেকে পানি সংগ্রহ করে পরীক্ষা শেষে রোববার প্রতিবেদন জেলা মৎস্য কর্মকর্তার কাছে জমা দেওয়া হয়। 
জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. ওমর আলী বলেন, তদন্ত কমিটির রাসায়নিক পরীক্ষা শেষে দেখা গেছে, অক্সিজেনের মাত্রা দ্রুত কমে যাওয়ার পাশাপাশি অ্যামোনিয়ার ঘনত্ব বেড়ে যাওয়ায় এই মড়ক। 
মৎস্য কর্মকর্তা আরও বলেন, পরীক্ষায় পিএইচ অক্সিজেন, অ্যামোনিয়া, রং ও গন্ধ পর্যবেক্ষণ করা হয়েছে। নদটি রাজশাহী থেকে তাহেরপুর হয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। নদটির পাশের বিলে পাট পচানোর ফলে পানিতে প্রচুর পরিমাণে জৈব বর্জ্য মিশেছে। এ ছাড়া জৈব পদার্থের পচন বর্জ্য বৃষ্টির পানিতে নদটির পানিতে একত্র হয়েছে। ফলে নদের পানির গুণমান আরও খারাপ হয়েছে। পানিদূষণ রোধ এবং জলজ জীববৈচিত্র্য রক্ষায় নদীতীরের বাসিন্দাদের মধ্যে সচেতনতা বাড়াতে হবে। বৃষ্টি ও রোদ ওঠায় এবং নদটিতে পানির প্রবাহ বাড়ায় এখন পরিস্থিতির উন্নতি হচ্ছে। 

আরও পড়ুন

×