বুল্লাবাজার-সিংহগ্রাম বেহাল সড়কে সীমাহীন দুর্ভোগ
সংস্কারের অভাবে বেহাল হবিগঞ্জের বুল্লাবাজার-সিংহগ্রাম সড়ক। গতকাল সোমবার তোলা সমকাল
হবিগঞ্জ প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ০৮:২৭
| প্রিন্ট সংস্করণ
হবিগঞ্জের লাখাই উপজেলার বুল্লাবাজার থেকে সিংহগ্রামে যাতায়াতের একমাত্র সড়কটির বেহালদশা তৈরি হয়েছে। সড়কের অনেক স্থানে কার্পেটিং ও পিচ উঠে গেছে। আবার কোথাও কোথাও সৃষ্টি হয়েছে বড় বড় গর্তের। যে কারণে ওই সড়ক দিয়ে চলাচলকারী সাধারণ মানুষকে প্রচণ্ড দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। এমতাবস্থায় দ্রুত সড়কটি সংস্কারের জোরালো দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বুল্লাবাজার থেকে সিংহগ্রাম সড়কের পুনর্বাসনকাজ শুরু হয়েছিল কিছুদিন আগে। কাজ দৃশ্যমান হওয়ার আগে নির্ধারিত সময়সীমা শেষ হয়ে যায়। স্থানীয়দের অভিযোগ, ঠিকাদারের গাফিলতি ও নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সংস্কারকাজ শেষ না হওয়ায় বর্তমানে সড়কটির অবস্থা অত্যন্ত শোচনীয়। ফলে এ সড়কে চলাচলকারী মানুষের ভোগান্তির যেন আর শেষ নেই।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, সড়কটির মধ্য সিংহগ্রাম অংশে রয়েছে একটি কমিউনিটি ক্লিনিক, একাধিক মাদ্রাসা ও একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। এসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ছাড়াও গ্রামের মানুষ বুল্লাবাজারে নিয়মিত যাতায়াত করে এ সড়কটি দিয়ে। সড়কের এমন বেহাল অবস্থায় স্থানীয় বাসিন্দাদের দুর্ভোগ এখন নিত্যদিনের সঙ্গী। বর্তমানে এ সড়ক দিয়ে যানচলাচল প্রায় অর্ধেকে নেমে এসেছে।
উপজেলা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) সূত্র জানায়, ৮০০ মিটার দীর্ঘ সড়কটি পুনরায় কাজ করার জন্য ৩০ লাখ টাকা ব্যয়ে খাদিজা এন্টারপ্রাইজ নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে কার্যাদেশ দেওয়া হয়। কার্যাদেশ পাওয়ার পর ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কাজ শুরু করলেও আংশিক কাজ করে তা ফেলে রাখে। এরপর অসমাপ্ত কাজ আর এগোয়নি। এরই মধ্যে গত আগস্ট মাসে সড়কটির কাজের নির্ধারিত সময়সীমা শেষ হয়ে গেছে।
স্থানীয় বাসিন্দা সজল মিয়া জানান, এই সড়ক দিয়ে নিয়মিত চলাচল করি। সড়কের এমন দশায় সাধারণের দুর্ভোগের শেষ নেই। এখন গাড়ির পরিবর্তে হেঁটে চলাচল করতে হয়। গাড়িতে উঠলে অতিরিক্ত ঝাঁকুনিতে শরীর অসুস্থ হয়ে পড়ে।
রফিকুল ইসলাম নামের এক বাসিন্দা জানান, বছরের শুরুতে যখন কাজ শুরু হয়েছিল, তখন ভেবেছিলেন দুর্ভোগ বুঝি শেষ হলো। তা না কমে উল্টো দুর্ভোগ আরও বেড়েছে। অটোরিকশাচালক মনি মিয়া বলেন, খানাখন্দে সড়কটি বেহাল হয়ে গেছে। বৃষ্টির দিনে অটোরিকশা চালানো দায় হয়ে পড়ে। খানাখন্দের ঝাঁকুনির কারণে এখন মানুষ অটোরিকশায় উঠতে চায় না।
এ ব্যাপারে খাদিজা এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী সাইদুল ইসলাম সপু বলেন, কাজের সময়সীমা বাড়ানোর জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরে আবেদন করা হয়েছে।
উপজেলা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)-এর প্রকৌশলী শহীদুল ইসলাম বলেন, নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ না হওয়ায় পুনরায় সড়কের সংস্কার কাজ শুরু করা হবে।
- বিষয় :
- সড়ক