দুই জেলায় ডেঙ্গুতে তিনজনের মৃত্যু, তথ্য নেই অধিদপ্তরে
ছবি: সমকাল
সমকাল প্রতিবেদক
প্রকাশ: ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ২১:৫৮
দেশে ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে শুক্রবার সকাল ৮টা পর্যন্ত আগের ২৪ ঘণ্টায় তিনজনের মৃত্যুর তথ্য পাওয়া গেছে। এর মধ্যে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে দুজন এবং ফরিদপুরে একজন মারা গেছেন। তবে তাদের মৃত্যুর তথ্য স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কেন্দ্রীয় হিসাবের মধ্যে নেই।
অধিদপ্তরের শুক্রবারের বুলেটিনে বলা হয়েছে, ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে দেশে কারও মৃত্যু হয়নি।
ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মারা যাওয়া দুজন হলেন আল-আমিন (৩৫) ও কুলসুমা (৫০)। হাসপাতালের ডেঙ্গু পরিস্থিতির সর্বশেষ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দুজনই নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন ছিলেন। এ নিয়ে চলতি বছর হাসপাতালটিতে ডেঙ্গুতে মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২০।
হাসপাতালের তথ্য অনুযায়ী, ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ৩৭ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়েছেন। সুস্থ হয়ে ছাড়পত্র পেয়েছেন ৭৫ জন। বর্তমানে হাসপাতালে ডেঙ্গু আক্রান্ত ১০৩ জন চিকিৎসাধীন। তাদের মধ্যে ৫৭ জন পুরুষ, ৩৬ জন নারী ও ১০ জন শিশু। চলতি বছরের মে মাস থেকে ১৮ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ডেঙ্গু আক্রান্ত দুই হাজার ৩৮৪ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন। এ সময়ে মারা গেছেন ২০ জন।
হাসপাতালের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আল-আমিন ময়মনসিংহের তারাকান্দা উপজেলার বাসিন্দা নুরুল আমিনের ছেলে। গত ১৬ সেপ্টেম্বর রাতে তিনি ভর্তি হন। পরদিন সকাল ৯টায় তার মৃত্যু হয়। চিকিৎসকদের দেওয়া প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, ডেঙ্গুর সঙ্গে তীব্র কিডনি জটিলতা, ডায়াবেটিস ও হৃদরোগ ছিল তাঁর।
কুলসুমা নেত্রকোনার বারহাট্টা উপজেলার গাছতলা এলাকার ইসহাক মিয়ার স্ত্রী। ১৬ সেপ্টেম্বর বিকেলে হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পর পরদিন সকালে তার মৃত্যু হয়। মৃত্যুর প্রাথমিক কারণ হিসেবে ডেঙ্গুর সঙ্গে তীব্র কিডনি জটিলতার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ডেঙ্গু ওয়ার্ডের ফোকাল পারসন অধ্যাপক ডা. এমদাদুল্লাহ খান বলেন, ২৪ ঘণ্টায় হাসপাতালে ডেঙ্গু আক্রান্ত দুজনের মৃত্যু হয়েছে। চলতি বছর এ পর্যন্ত মৃত্যু হয়েছে ২০ জনের। জ্বর হলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার জন্য তিনি সবাইকে আহ্বান জানান।
ফরিদপুরে একজনের মৃত্যু
ফরিদপুরে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে রেবেকা বেগম (৪৫) নামের এক নারীর মৃত্যু হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার রাতে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয় বলে জানিয়েছেন জেলার সিভিল সার্জন ডা. মাহমুদুল হাসান। রেবেকার বাড়ি গোপালগঞ্জের মুকসুদপুর উপজেলায়। ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে গত ১৪ সেপ্টেম্বর তিনি ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন। এ নিয়ে চলতি মৌসুমে ফরিদপুরে ডেঙ্গুতে মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে পাঁচ।
ফরিদপুর সিভিল সার্জন কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় জেলার বিভিন্ন সরকারি হাসপাতালে ডেঙ্গুর উপসর্গ নিয়ে ২৫ জন নতুন রোগী ভর্তি হয়েছেন। বর্তমানে সরকারি হাসপাতালগুলোতে ৮১ ডেঙ্গু রোগী চিকিৎসাধীন। চলতি মৌসুমে জেলার সরকারি হাসপাতালগুলোতে ৫২০ জন ডেঙ্গু রোগী চিকিৎসা নিয়েছেন।
সিভিল সার্জন মাহমুদুল হাসান বলেন, ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীদের যথাযথ চিকিৎসা নিশ্চিত করতে স্বাস্থ্য বিভাগ সতর্ক রয়েছে। জেলা প্রশাসন ও পৌর কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযান ও জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম চালানো হচ্ছে।
অধিদপ্তরের হিসাবে মৃত্যু নেই
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের শুক্রবারের ডেঙ্গুবিষয়ক বুলেটিনে বলা হয়েছে, বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা থেকে শুক্রবার সকাল ৮টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় দেশে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে কারও মৃত্যু হয়নি। তবে এই সময়ে ৭৪৭ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। চিকিৎসা নিয়ে হাসপাতাল ছেড়েছেন ৭৪৬ জন।
বুলেটিন অনুযায়ী, ২৪ ঘণ্টায় ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন এলাকার হাসপাতালে ৬১ জন এবং ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকার হাসপাতালে ৪০ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়েছেন। ঢাকার অন্যান্য এলাকার হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ২১৬ জন। এ ছাড়া বরিশালে ২৫ জন, চট্টগ্রামে ১৮০, খুলনায় ৮১, ময়মনসিংহে ৯২ এবং রংপুরে ৫২ জন ভর্তি হয়েছেন।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হিসাবে, চলতি বছর এ পর্যন্ত ৫৯ হাজার ১৪৭ জন ডেঙ্গু নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। তাদের মধ্যে ৫৪ হাজার ৮৩৮ জন সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছেন। সরকারি হিসাবে এ বছর ডেঙ্গুতে মারা গেছেন ১৭৬ জন। এর মধ্যে সেপ্টেম্বরেই মারা গেছেন ৭৯ জন, যা চলতি বছরের কোনো এক মাসে সর্বোচ্চ।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ২০০০ সাল থেকে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি ও মৃত্যুর তথ্য সংরক্ষণ করছে। সরকারি হিসাবে ২০২৩ সালে দেশে ডেঙ্গুর প্রকোপ সবচেয়ে বেশি ছিল। ওই বছর তিন লাখ ২১ হাজার ১৭৯ জন হাসপাতালে ভর্তি হন এবং মারা যান এক হাজার ৭০৫ জন। গত বছর ডেঙ্গুতে চার শতাধিক মানুষের মৃত্যু হয়। আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন প্রায় এক লাখ দুই হাজার জন।
(প্রতিবেদন তৈরিতে সহযোগিতা করেছেন সংশ্লিষ্ট জেলার প্রতিনিধি)
- বিষয় :
- ডেঙ্গুতে মৃত্যু