ঢাকা রোববার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬

বিশ্ব দৃষ্টি দিবসে বিশেষায়িত চিকিৎসা ক্যাম্প

প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা বাড়ানোর তাগিদ চিকিৎসকদের

প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা বাড়ানোর তাগিদ চিকিৎসকদের
×
×

ছবি- সমকাল

সমকাল প্রতিবেদক

প্রকাশ: ০৮ অক্টোবর ২০২৬ | ২০:৫৬ | আপডেট: ০৮ অক্টোবর ২০২৬ | ২১:০৫

শুধু হাসপাতালের সংখ্যা বাড়িয়ে দেশের চিকিৎসাব্যবস্থার সব সমস্যা সমাধান করা সম্ভব নয়। এর পাশাপাশি জনগণের বড় একটি অংশকে প্রাথমিক পর্যায়েই স্বাস্থ্যসেবার আওতায় আনতে হবে। কম খরচে মানুষের কাছে স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে এ ধরনের উদ্যোগ আরও বাড়ানো প্রয়োজন।

বিশ্ব দৃষ্টি দিবস উপলক্ষে আয়োজিত বিশেষায়িত চিকিৎসা ক্যাম্পে চিকিৎসকেরা এসব কথা বলেন। বৃহস্পতিবার সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত সমকাল কার্যালয়ের বোর্ডরুমে এ ক্যাম্প অনুষ্ঠিত হয়। এতে চোখ, হৃদ্‌রোগ, মেডিসিন ও নিউরোমেডিসিন বিষয়ে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকেরা স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও চিকিৎসাসেবা দেন।

সমকাল, আইরিচ আই হাসপাতাল এবং ড্রিমার্স কনসালটেশন অ্যান্ড রিসার্চ যৌথভাবে ক্যাম্পটির আয়োজন করে। দিনব্যাপী ক্যাম্পে প্রায় ৩০০ মানুষ বিভিন্ন ধরনের স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও চিকিৎসা পরামর্শ নেন। তাঁদের মধ্যে দুই শতাধিক ব্যক্তি চোখের স্ক্রিনিং ও চক্ষু চিকিৎসাসেবা নিয়েছেন। চোখ পরীক্ষা ছাড়াও ক্যাম্পে ইসিজি, রক্তের বিভিন্ন পরীক্ষা, রক্তে শর্করা ও প্রস্রাব পরীক্ষা এবং আল্ট্রাসনোগ্রাম করা হয়। প্রয়োজন অনুযায়ী রোগীদের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ দেওয়া হয়। পরীক্ষার ফলাফলও একই দিনে জানানো হয়।

ক্যাম্পে উপস্থিত ছিলেন আইরিচ আই হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এম এইচ কাউছার শিশির, সহযোগী অধ্যাপক ও রেটিনা বিশেষজ্ঞ ডা. নাহাল মোস্তাক অর্ণব, ড্রিমার্স কনসালটেশন অ্যান্ড রিসার্চের পরিচালক মেডিকেল সার্ভিসেস (ডিএমএস) ও নিউরোমেডিসিন বিশেষজ্ঞ সহযোগী অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ ইলিয়াস, ঢাকা মেডিকেল কলেজের সহকারী অধ্যাপক ও সার্জারি বিশেষজ্ঞ ডা. সৈয়দ মোহাম্মদ সারওয়ার, ডা. জাহাঙ্গীর আলম সজল, ডা. শাহনাজ সুপ্তি ও ডা. মোবাস্বির।

নিউরোমেডিসিন বিশেষজ্ঞ সহযোগী অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ ইলিয়াস বলেন, ক্যাম্পে ৪৫ বছরের বেশি বয়সী ব্যক্তিদের অগ্রাধিকার দিয়ে বিভিন্ন পরীক্ষা করা হয়েছে। কারও উচ্চ রক্তচাপ বা ডায়াবেটিসের সমস্যা থাকলে প্রয়োজন অনুযায়ী আল্ট্রাসনোগ্রাম করা হয়েছে। এর মাধ্যমে লিভার ও কিডনির অবস্থা সম্পর্কে প্রাথমিক ধারণা পাওয়া গেছে।

তিনি বলেন, ক্যাম্পে আসা অনেকের বয়স তুলনামূলক কম হলেও তাঁদের স্বাস্থ্যঝুঁকি উদ্বেগজনক। বিশেষ করে কর্মজীবী মানুষের অনিয়মিত কর্মঘণ্টা, রাতের শিফটে কাজ এবং অনিয়ন্ত্রিত জীবনযাপন নানা ধরনের স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করছে।

ডা. ইলিয়াস বলেন, জীবনযাত্রায় প্রয়োজনীয় পরিবর্তন আনা গেলে এসব স্বাস্থ্যঝুঁকি অনেকটাই কমানো সম্ভব। শুধু হাসপাতালের সংখ্যা বাড়ানোর দিকে নজর না দিয়ে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা জোরদার করতে হবে।

আইরিচ আই হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এম এইচ কাউছার শিশির বলেন, অন্ধত্বের ঝুঁকিতে থাকা মানুষের সুচিকিৎসা নিশ্চিত করার পাশাপাশি নিয়মিত চোখ পরীক্ষা করা জরুরি। এতে ডায়াবেটিক রেটিনোপ্যাথি ও গ্লুকোমার মতো ঝুঁকিপূর্ণ রোগ প্রাথমিক পর্যায়ে শনাক্ত করা সম্ভব। সময়মতো চিকিৎসা ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া গেলে এসব রোগের কারণে দৃষ্টিশক্তি হারানোর ঝুঁকি কমানো যায়।

সমকালের উপদেষ্টা সম্পাদক ও নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, কল্যাণরাষ্ট্রের মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত মানুষের সর্বোচ্চ কল্যাণ নিশ্চিত করা। স্বাস্থ্য, অর্থনীতি কিংবা অন্য যেকোনো ক্ষেত্রে মানুষের জন্য যত বেশি সেবা নিশ্চিত করা যায়, ততই ভালো।

তিনি বলেন, সীমিত সম্পদের মধ্যে কম খরচে মানুষের কাছে স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ। এ ধরনের উদ্যোগ তুলনামূলক কম ব্যয়ে বাস্তবায়ন করা সম্ভব। প্রয়োজনে সরকারও এ ধরনের উদ্যোগকে প্রকল্প হিসেবে নিতে পারে। এ ধরনের ক্যাম্পের মাধ্যমে মানুষ সহজে স্বাস্থ্যসেবা পেলে তাঁদের অনেক উপকার হবে। এ উদ্যোগ অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান তিনি।

সমকালের ব্যবস্থাপনা সম্পাদক শরীফুল ইসলাম বলেন, বিশেষায়িত চিকিৎসা ক্যাম্প দুটি প্রস্তাব নিয়ে এসেছে। এর একটি দেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থা নিয়ে, যা নিয়ে বিস্তৃত আলোচনা প্রয়োজন। অন্যটি হলো, সমকালকে মিডিয়া পার্টনার হিসেবে যুক্ত করা। এ উদ্যোগে সমকাল পাশে থাকবে।

অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে সমকাল সম্পাদক শাহেদ মুহাম্মদ আলী সংশ্লিষ্ট চিকিৎসক, আয়োজক ও অংশগ্রহণকারীদের ধন্যবাদ জানান।

আরও পড়ুন

×