প্রেম থেকে বিয়ে, এক বছরের মাথায় গলা-হাত বাঁধা মরদেহ
যৌতুকের জন্য স্বামীর বিরুদ্ধে হত্যার অভিযোগ পরিবারের
অ্যাম্বুলেন্সে মেয়ের মরদেহ, বাইরে বাবার আর্তনাদ। ছবি: সংগৃহীত
সমকাল ডেস্ক
প্রকাশ: ১০ অক্টোবর ২০২৬ | ০৮:২৪ | আপডেট: ১০ অক্টোবর ২০২৬ | ১১:৩৬
| প্রিন্ট সংস্করণ
চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে প্রায় এক বছর আগে কুমিরা ইউনিয়নের অজয় দাসের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্কে জড়ান চন্দনা রানী (২৬)। পরবর্তী সময় তারা গোপনে বিয়ে করেন। গতকাল শুক্রবার উপজেলার বাড়বকুণ্ড ইউনিয়নের টেরিয়াইল উচ্চ বিদ্যালয়ের পাশের কলাবাগান থেকে চন্দনার হাত ও গলা বাঁধা মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
এদিন নেত্রকোনার মোহনগঞ্জে সাবেক এক সেনাসদস্য, ভোলার লালমোহনে দলিল লেখক নেতা এবং মৌলভীবাজারের কুলাউড়ায় এক তরুণের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।
নিহত চন্দনা রানী সীতাকুণ্ডের মুরাদপুর ইউনিয়নের বসরতনগর গ্রামের রাজেন্দ্র দাসের মেয়ে।
পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, গতকাল শুক্রবার সকালে এলাকাবাসী টেরিয়াইল স্কুলের পাশের কলাবাগানে এক নারীর মরদেহ দেখতে পেয়ে পুলিশে খবর দেন। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে অজ্ঞাতপরিচয় হিসেবে মরদেহটি উদ্ধার করে। পরবর্তীতে ফেসবুকে মরদেহের ছবি দেখে বিকেলে নিহতের বাবা-মা থানায় গিয়ে মরদেহ শনাক্ত করেন।
নিহতের পরিবার জানায়, এক বছর আগে প্রেমের সম্পর্কে জড়িয়ে গোপনে বিয়ের পর থেকেই দাম্পত্য কলহ শুরু হয়। যৌতুকের দাবিতে চন্দনার ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালিয়ে আসছিলেন তাঁর স্বামী অজয় দাস। ঘটনার এক দিন আগেও নির্যাতনের শিকার হয়ে বাবার বাড়িতে চলে এসেছিলেন চন্দনা। তবে পরে তিনি নিজেই আবার স্বামীর বাড়িতে ফিরে যান। এর পরদিনই কলাবাগানে তাঁর হাত ও গলা বাঁধা মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
নিহতের বাবা রাজেন্দ্র দাস কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, ‘নিজে না খেয়েও মেয়েকে কখনও অভাব বুঝতে দিইনি। আমার আদরের একমাত্র মেয়েকে ফুসলিয়ে বিয়ে করে যৌতুকের জন্য মেরে ফেলা হয়েছে। আমি হত্যাকারীর ফাঁসি চাই।’
সীতাকুণ্ড মডেল থানার ওসি (তদন্ত) আলমগীর হোসেন বলেন, তাঁকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।
মোহনগঞ্জে সাবেক সেনাসদস্যের মরদেহ উদ্ধার
নেত্রকোনার মোহনগঞ্জে ফজলুল রহিম কাজল (৫৫) নামে সাবেক এক সেনাসদস্যের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। গতকাল সকাল সাড়ে ৯টার দিকে উপজেলার বিরামপুর গ্রামে কংস নদের পারের জঙ্গলে একটি গাছের ডালের ওপর থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। তাঁর গলায় রশি লাগানো ছিল। তবে এটি হত্যা নাকি আত্মহত্যা, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
নিহত ফজলুল রহিম কাজল নেত্রকোনার পার্শ্ববর্তী সুনামগঞ্জের ধর্মপাশা উপজেলার কাকিয়াম গ্রামের মৃত জবান আলীর ছেলে। দুই বছর আগে সেনাবাহিনী থেকে অবসরের পর তিনি মোহনগঞ্জে একটি সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পের হিসাবরক্ষক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। গত বুধবার সকালে প্রকল্পের টাকা তুলতে ব্যাংকে যাওয়ার জন্য বাড়ি থেকে বের হয়ে নিখোঁজ হন কাজল। স্থানীয়রা জানান, শুক্রবার সকাল ৮টার দিকে এক ব্যক্তি গরু চরানোর জন্য কংস নদের পারে যান। এ সময় পচা গন্ধ পেয়ে খোঁজাখুঁজি করতে গিয়ে একটি গাছের ওপরের ডালে হেলান দেওয়া অবস্থায় মরদেহটি দেখতে পান তিনি। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে।
নিহতের বড় ভাই ফজলুল করিম বুলবুল বলেন, এটি আত্মহত্যা নয়, পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। তাঁর মরদেহ গাছের ডালে বসানো অবস্থায় ছিল, ঝুলন্ত না। আমরা এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তসাপেক্ষে বিচার চাই। মোহনগঞ্জ থানার ওসি হাফিজুল ইসলাম হারুন বলেন, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে।
লালমোহনে দলিল লেখক নেতার মরদেহ উদ্ধার
ভোলার লালমোহনে ভাড়া বাসা থেকে আবদুল্লাহ আল মাহমুদ (৩৮) নামে চরফ্যাসন দলিল লেখক সমিতির সভাপতির ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। গতকাল সকাল ৬টার দিকে পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের একটি তিনতলা ভবন থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। মাহমুদ চরফ্যাসন পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা জয়নাল আবেদিনের ছেলে। তাঁর স্ত্রী নাহিদা পারভীন বর্তমানে তজুমদ্দিন সাব-রেজিস্ট্রার কার্যালয়ের অফিস সহকারী হিসেবে কর্মরত।
নিহতের বাবা জয়নাল আবেদিনের অভিযোগ, ২০২৩ সালে বিয়ের পর তাঁর ছেলেকে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে দেওয়া হতো না। গতকাল শুক্রবার সকালে পুত্রবধূর কাছ থেকে ছেলের মৃত্যুর খবর পান তিনি। তাঁর দাবি, মাহমুদ আত্মহত্যা করতে পারেন না; তাঁকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করে মরদেহ ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে।
লালমোহন থানার ওসি নজরুল ইসলাম মজুমদার জানান, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে।
কুলাউড়ায় নিখোঁজের তিন দিন পর মরদেহ উদ্ধার
মৌলভীবাজারের কুলাউড়ায় নিখোঁজের তিন দিন পর জুবায়ের ইসলাম জুবেলের (২৩) মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। গতকাল উপজেলার মনু রেলস্টেশন সংলগ্ন রেললাইনের পাশ থেকে তাঁর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। জুবায়ের ব্রাহ্মণবাজার ইউনিয়নের উত্তর হিঙ্গাজিয়া গ্রামের কাছিম আলীর ছেলে।
পরিবার ও স্থানীয়রা জানান, গত মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ঢাকা বিমানবন্দর রেলওয়ে স্টেশন থেকে ট্রেনে চড়ে নিজ বাড়ি ব্রাহ্মণবাজারের উদ্দেশে রওনা হয়েছিলেন জুবায়ের। সন্ধ্যা ৭টার দিকে ট্রেনটি ভৈরব পার হওয়ার সময় পরিবারের সঙ্গে তাঁর সর্বশেষ কথা হয়। এর পর থেকে তাঁর ব্যবহৃত মোবাইল ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়। পরবর্তী সময় গতকাল দুপুর ১২টার দিকে মনু রেলস্টেশনে এলাকায় রেললাইনের পাশে তাঁর মরদেহ দেখে স্থানীয়রা পুলিশে খবর দেন।
(তথ্য দিয়েছেন সংশ্লিষ্ট প্রতিনিধি)
- বিষয় :
- মৃত্যু