ঢাকা বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬

এআই বিজনেস সামিট কাল

এআই বিজনেস সামিট কাল
×
×

ছবি- সংগৃহীত

সমকাল প্রতিবেদক

প্রকাশ: ০৪ নভেম্বর ২০২৬ | ০৫:০০

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক প্রযুক্তির ব্যবহার ও ব্যবসায়িক সম্ভাবনা বাড়াতে আগামীকাল বৃহস্পতিবার ঢাকায় অনুষ্ঠিত হবে ‘বাংলাদেশ এআই বিজনেস সামিট ২০২৬’। বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে দিনব্যাপী এ সামিটের উদ্বোধন করবেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় এবং ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই) যৌথভাবে এ আয়োজন করছে। গতকাল মঙ্গলবার মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে সংবাদ সম্মেলনে সামিটের বিস্তারিত তুলে ধরেন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম।

মন্ত্রী বলেন, চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের এ সময়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকে কেন্দ্র করে বিশ্ব অর্থনীতিতে বড় পরিবর্তন ঘটছে। এ বাস্তবতায় মানুষ, ব্যবসা ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সমন্বয়ে নতুন অর্থনৈতিক সম্ভাবনা তৈরি এবং শিল্প-বাণিজ্যে এআইয়ের ব্যবহার বাড়ানোর লক্ষ্য নিয়ে এ সামিটের আয়োজন করা হয়েছে।

সামিটে তিনটি বিষয়ভিত্তিক অধিবেশন হবে। দুপুর ১২টায় প্রথম অধিবেশনে এআই বিপ্লবের গতিপথ, নীতি, দক্ষতা ও অবকাঠামোগত চ্যালেঞ্জ নিয়ে আলোচনা করবেন নীতিনির্ধারক ও বিশেষজ্ঞরা। একই সময়ে দ্বিতীয় অধিবেশনে শিক্ষা ও শিল্প খাতের অংশীদারি জোরদার এবং প্রযুক্তি হস্তান্তরের কৌশল নিয়ে আলোচনা হবে। বিকেল ৩টায় তৃতীয় অধিবেশনে ডিজিটাল সহকর্মী হিসেবে এআই এজেন্টের ভূমিকা এবং স্থানীয় সমস্যা সমাধানে এর ব্যবহার নিয়ে আলোচনা হবে।

সামিটে থাকবে ১৪২ প্রদর্শনী স্টল। দেড় শতাধিক স্টার্টআপ ও প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান তাদের উদ্ভাবন ও প্রকল্প তুলে ধরবে। এ ছাড়া ১৯টি বিশ্ববিদ্যালয় ও একটি কলেজের শিক্ষার্থীরা এআইভিত্তিক প্রকল্প এবং প্রটোটাইপ নিয়ে আলাদা স্টলে অংশ নেবেন। বিদেশি প্রদর্শক থাকবেন পাঁচটি প্রতিষ্ঠানের–একটি যুক্তরাষ্ট্রের এবং চারটি পাকিস্তানের।

মন্ত্রী জানান, সামিটে প্রায় ছয় হাজার দর্শনার্থী ও দুই হাজার আমন্ত্রিত অতিথি অংশ নেবেন। দেশি-বিদেশি নীতিনির্ধারক, শিল্প বিশেষজ্ঞ, শিক্ষাবিদ, গবেষক, করপোরেট প্রতিনিধি ও উন্নয়ন সহযোগী সংস্থার প্রতিনিধিসহ প্রায় ২৭ জন বক্তা ও আলোচক থাকবেন। ঢাকা চেম্বার ও মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে ২০০ জন বিশেষ অতিথিকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। এ আয়োজন শিল্প ও বাণিজ্য খাতে দায়িত্বশীলভাবে এআই প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানো এবং দেশে টেকসই এআইব্যবস্থা গড়ে তুলতে ভূমিকা রাখবে বলে আশা করেন মন্ত্রী।

সংবাদ সম্মেলনে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সচিব মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন বলেন, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি খাতের উন্নয়নে মন্ত্রণালয় চারটি বিষয়ে গুরুত্ব দিচ্ছে। এগুলো হলো– প্রাথমিক থেকে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, প্রকৌশল ও গণিত শিক্ষার প্রসার; গবেষণার ফল বাজার উপযোগী করা; গবেষকদের সঙ্গে বিনিয়োগকারী ও বাজারের সংযোগ তৈরি এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সেমিকন্ডাক্টর, জীবপ্রযুক্তি, ন্যানোপ্রযুক্তি, মহাকাশ গবেষণা ও নীল অর্থনীতির বিকাশ।

তিনি আরও বলেন, দেশে প্রচুর মেধাবী তৈরি হচ্ছে। তাদের কাজে লাগানো এবং নতুন ওষুধ ও জীবনযাত্রার প্রয়োজনীয় পণ্য উদ্ভাবনে বায়োটেক পার্ক স্থাপনের বড় সুযোগ রয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে ঢাকা চেম্বারের সভাপতি মোহাম্মদ তাসকীন আহমেদ উপস্থিত ছিলেন। 

আরও পড়ুন

×