ঢাকা শনিবার, ২০ জুন ২০২৬

ঢাকায় ইউএনডিপির প্রতিবেদন প্রকাশ

মানব উন্নয়নে বাংলাদেশের অর্জন অসাধারণ

মানব উন্নয়নে বাংলাদেশের অর্জন অসাধারণ
×

পরিকল্পনামন্ত্রী এমএ মান্নান ইউএনডিপির রিপোর্টটি আনুষ্ঠানিকভাবে উন্মোচন করেন

সমকাল প্রতিবেদক

প্রকাশ: ২১ ডিসেম্বর ২০২০ | ০২:৩২

আন্তর্জাতিকভাবে মানব উন্নয়ন সমীক্ষা ২০২০ প্রকাশ হয়েছে কয়েকদিন আগে। তাতে বাংলাদেশের দুই ধাপ অগ্রগতি। সেই আলোকে বাংলাদেশে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়েছে রিপোর্টটি। তাতে বলা হয়েছে, মানব উন্নয়নে বাংলাদেশের অর্জন অসাধারণ। ১৯৯০ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত মানব উন্নয়ন সূচক ৬০.৪ শতাংশ বেড়েছে। ২০১৯ সালে বাংলাদেশের সূচকের মান মধ্যম সারির দেশগুলোর গড় মানের চেয়ে বেশি ছিল।

সোমবার ঢাকায় পরিকল্পনামন্ত্রী এমএ মান্নান জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচির (ইউএনডিপি) রিপোর্টটি আনুষ্ঠানিকভাবে উন্মোচন করে বলেন, বাংলাদেশ সরকার পরিবেশ ও প্রকৃতির সুরক্ষায় সবসময় গুরুত্ব দিচ্ছে। বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়ে তুলতে অবিরাম কাজ করে যাচ্ছে।

রিপোর্ট উন্মোচনের পর প্যানেল আলোচনায় উপস্থিত ছিলেন পরিকল্পনা কমিশনের  সিনিয়র সচিব সামসুল আলাম, আইসিসিএডির জলবায়ু বিজ্ঞানী অধ্যাপক সালিমুল হক,  সেন্টার ফর পলিসি ডায়লগের নির্বাহী পরিচালক ড. ফাহমিদা খাতুন প্রমুখ।

মানব উন্নয়ন সূচকে একটি দেশের মানুষের স্বাস্থ্য, শিক্ষা, জীবনযাত্রার সামগ্রিক অবস্থা পরিমাপ করা হয়। তবে এবার মানব উন্নয়ন সমীক্ষা প্রবর্তনের ৩০তম বার্ষিকীতে দুটি বিষয় নতুনভাবে যুক্ত করা হয়েছে। কার্বনডাইঅক্সাইড নিঃসরণের মাত্রা ও মোট ব্যবহৃত সম্পদের পরিমাণ। এছাড়া এবারের রিপোর্টটির শিরোনাম ‘দ্য নেক্সট ফ্রন্টিয়ার: হিউম্যান ডেভলপমেন্ট অ্যান্ড এনথ্রোপোসিন’।

আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সমীক্ষাটি প্রকাশের সময় জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচির প্রধান আকিম স্টেইনার বলেন, পৃথিবীর প্রতিটি দেশই পরিবেশেকে ধ্বংস করে মানব উন্নয়নে সমৃদ্ধি লাভ করেছে। তবে প্রথম প্রজন্ম হিসেবে আমরা এই ভুল সংশোধনে এগিয়ে আসতে পারি। এটিই হওয়া উচিত মানব উন্নয়নের পরবর্তী পদক্ষেপ।

বাংলাদেশ এবারের সমীক্ষায় গতবছরের চেয়ে আরও দুই ধাপ এগিয়ে ১৩৩তম অবস্থানে রয়েছে। আটটি দক্ষিণ এশীয় দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান পঞ্চম। তবে পরিবেশের প্রভাবজনিত সমন্বিত মানব উন্নয়ন সূচক অনুযায়ী আরও নয় ধাপ এগিয়েছে বাংলাদেশ।

তবে ইউএনডিপির আবাসিক প্রতিনিধি সুদিপ্ত মুখার্জি বলেন, বাংলাদেশে কভিড-১৯ মাহামারিতে এখনও পর্যন্ত সাত হাজারের বেশি মানুষ মৃত্যুবরণ করলেও প্রাণহানির পাশাপাশি অতিমারি জনিত সামগ্রিক প্রভাব আরও অনেক বিস্তৃত ও প্রকট। বহু পরিবার জীবিকা হারিয়ে দারিদ্রসীমার নিচে নেমে গেছে। আয় অসমতা এবং লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতা বেড়েছে। লেখাপড়া থেকে দীর্ঘ বিরতির কারণে ছাত্রছাত্রীদের প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা থেকে ঝরে পড়ার আশঙ্কাও বেড়েছে।

রিপোর্টে আরও বলা হয়েছে, ১৯৯০ থেকে ২০১৯ সাল নাগাত বাংলাদেশের মানুষের প্রত্যাশিত গড় আয়ু বেড়েছে ১৪.৪ বছর। গড় শিক্ষাকাল বেড়েছে ৩.৪ বছর এবং প্রত্যাশিত শিক্ষাকাল বেড়েছে ছয় বছর। এছাড়া এ সময়ে মাথাপিছু আয়ের পরিমাণও বেড়েছে প্রায় ২২০.১ শতাংশ।

আরও পড়ুন

×