সমকালে প্রকাশিত ফজলে হাসান আবেদের সাক্ষাৎকার
দরিদ্রদের জীবন আরও অর্থবহ করে তুলতে চায় ব্র্যাক
ফজলে হাসান আবেদ -ফাইল ছবি
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ২১ ডিসেম্বর ২০১৯ | ০৯:০৫ | আপডেট: ২১ ডিসেম্বর ২০১৯ | ১১:০৯
ফজলে হাসান আবেদ ছিলেন সমকালের ঘনিষ্ঠ শুভানুধ্যায়ী। তার এই সাক্ষাৎকার ২০১০ সালের ৪ জানুয়ারি সমকাল সম্পাদকীয় পাতায় প্রকাশ হয়। সমকালের পক্ষে সাক্ষাৎকার গ্রহণ করেন অজয় দাশগুপ্ত। ফজলে হাসান আবেদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে সাক্ষাৎকারটি পুনঃপ্রকাশ করা হলো।
সমকাল : শাল্লা থেকে বিশ্বজয়- এভাবেই আপনার কাজের মূল্যায়ন করা যায়...
ফজলে হাসান আবেদ : সুনামগঞ্জের শাল্লায় পুনর্বাসন কাজ শুরু করেছিলাম। স্বাধীনতা-সংগ্রামে প্রায় এক কোটি লোক শরণার্থী হয়েছিল। তাদের মধ্যে শাল্লা থানার অনেকে ছিল। তাদের জন্য ১৮ হাজার ঘর নির্মাণ করে দিই আমরা। জেলেদের নৌকা ও কৃষকদের পাওয়ার টিলারের ব্যবস্থা করি। চাষাবাদ ও মাছ ধরা এসবই ওই এলাকার মানুষের মূল পেশা। আমরা উপার্জনের ব্যবস্থা করার পাশাপাশি স্বাস্থ্য ও শিক্ষা খাতের ওপর গুরুত্ব দিতে থাকি। প্রথমে ভেবেছিলাম, বছর দুয়েক কাজ করব। কিন্তু কিছুদিন কাজ করার পর বুঝতে পারি, দারিদ্র্য দূর করার কাজ এত কম সময়ের মধ্যে সম্ভব নয়।
সমকাল : এভাবেই কি দীর্ঘমেয়াদি কাজে যুক্ত হয়ে পড়েন?
ফজলে হাসান আবেদ : ঠিক তাই। আমরা এ অভিজ্ঞতা থেকে দারিদ্র্য নিরসনের বহুমুখী কাজ নিয়ে ভাবতে থাকি এবং সেভাবে পরিকল্পনা ও কর্মসূচি গ্রহণ করি। আমরা দরিদ্রদের ক্ষমতায়নের বিষয়টিও গুরুত্ব দিয়ে ভাবতে থাকি। এ ক্ষেত্রে অর্থনৈতিক উন্নয়নের পাশাপাশি সামাজিক পরিবেশ-পরিস্থিতি উন্নয়নের বিষয়টিও বিবেচনায় নিই। কৃষিকাজ, হাঁস-মুরগি-পশুপালন, মাছ চাষ এসবের পাশাপাশি শিক্ষা-স্বাস্থ্য-পরিবার পরিকল্পনা এসবও যুক্ত হয়। মোটকথা, মানুষের ক্ষমতায়ন লক্ষ্য হয়ে দাঁড়ায়। আর তা বাস্তবায়নের অভিজ্ঞতায়ই গড়ে ওঠে বহুমুখী উন্নয়ন মডেল।
সমকাল : এ কাজে তিন যুগের অভিজ্ঞতাকে কীভাবে মূল্যায়ন করবেন?
ফজলে হাসান আবেদ : এ সময়ে দেশ থেকে দারিদ্র্য নিরসন করা গেছে, সে দাবি করা যাবে না। তবে অনেকটা সহনীয় পর্যায়ে এসেছে। এ ক্ষেত্রে সরকার এবং বেসরকারি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা সবারই অবদান রয়েছে। আমাদের ধারণা, এ ধারা চলতে থাকলে বাংলাদেশের মধ্য আয়ের দেশে পরিণত হতে বেশি সময় লাগবে না। আমি মনে করি, উন্নয়ন শুধু সরকারের দায়িত্ব নয়। ব্র্যাক, গ্রামীণ ব্যাংকসহ অনেক বেসরকারি প্রতিষ্ঠান এতে অবদান রাখছে। উন্নয়ন হচ্ছে জাতীয় দায়িত্ব। ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান সবারই এতে অংশ নিতে হবে। প্রত্যেকের কাজের সুযোগ এখানে রয়েছে এবং তা কাজে লাগাতে হবে।
সমকাল : জীবনের দীর্ঘ পথপরিক্রমায় অনেক কাজে যুক্ত থেকেছেন এবং নেতৃত্ব দিয়েছেন। এর মধ্যে বিশেষভাবে কোনো একটিকে যদি বেছে নিতে বলি?
ফজলে হাসান আবেদ : আমি যা করেছি বা করতে চাই, এর সবই দেশের প্রয়োজন রয়েছে বলে মনে করি। কাজের সুযোগ বা ক্ষেত্র তৈরি করা হচ্ছে গুরুত্বপূর্ণ। আয় বাড়াতে হবে মানুষের। শিক্ষার অভাবে যেন আমাদের উত্তরসূরিরা দারিদ্র্যপীড়িত না থাকে, সে জন্য শিক্ষার আওতা সম্প্রসারণে আমি আমার গোটা সংগঠন নিয়ে কাজ করে চলেছি।
সমকাল : ব্র্যাক এখন দেশের বাইরে বিস্তৃত ও প্রশংসিত। এ অভিজ্ঞতা কেমন?
ফজলে হাসান আবেদ : কেউ কেউ বলেন, বাংলাদেশে দারিদ্র্যচিত্র এখনও উদ্বেগজনক। তারপরও ব্র্যাক কেন অন্য দেশে কাজ সম্প্রসারণ করে চলেছে। আমি এ মতের সঙ্গে থাকতে পারছি না। বাংলাদেশে আমাদের কাজ একটুও কমছে না। দারিদ্র্যসীমার নিচে যে প্রায় এক-তৃতীয়াংশ লোক রয়েছে, তাদের জীবনমান উন্নত করার কাজে আমরা ন্যস্ত রয়েছি। প্রকৃতপক্ষে দারিদ্র্যসীমা হচ্ছে আপেক্ষিক বিষয়। যুক্তরাষ্ট্রেও ১০ শতাংশ লোক দারিদ্র্যসীমার নিচে জীবন কাটায় বলে পরিসংখ্যান দেওয়া হচ্ছে। তবে সেখানে বছরে ১৫ হাজার ডলারের কম যাদের আয়, তাদের এ হিসাবের মধ্যে ধরা হয়। অন্যদিকে বাংলাদেশে ১৫০ ডলারের কম আয় যাদের, তাদের দরিদ্র বলা হয়। আমাদের দেশ থেকেও পিছিয়ে পড়া দেশ রয়েছে। আমরা সেসব দেশে কাজের ওপর গুরুত্ব দিচ্ছি।
সমকাল : আফগানিস্তানকে কি এ কাতারে ফেলতে চাইছেন?
ফজলে হাসান আবেদ : দক্ষিণ এশিয়ার যুদ্ধবিধ্বস্ত এ দেশটিতে ব্র্যাকের তিন হাজার ৯০০ কর্মী কাজ করছে। তাদের নিরাপত্তা ঝুঁকি রয়েছে। কিন্তু আমাদের কাজে সেখানকার সরকার ও জনগণ সন্তুষ্ট। সেখানকার বাস্তব পরিস্থিতি বিবেচনায় রেখে আমাদের কর্মীরা কাজ করছে। নারীদের কাছে পৌঁছানোর জন্য আমাদের সেখানে নারী কর্মী নিয়োগ করতে হয়েছে। কিন্তু বাংলাদেশে নারীর কাছে পুরুষ কর্মীরা গেলে সমস্যা নেই। এই সাংস্কৃতিক পার্থক্য আমরা বিবেচনায় রাখি।
সমকাল : পাকিস্তানেও ব্র্যাক কর্মীরা কাজ করছে। অথচ ব্র্যাকের জন্মের সঙ্গে পাকিস্তানের তিক্ত অভিজ্ঞতা যুক্ত রয়েছে...
ফজলে হাসান আবেদ : পাকিস্তানে আমাদের দেড় হাজার কর্মী কাজ করছে। একসময় তারা আমাদের ওপর কর্তৃত্ব করত। এখন আমরাই সেখানকার কয়েকটি এলাকায় দারিদ্র্য দূর করায় সহায়তা দিচ্ছি। এটাই ইতিহাসের বিচিত্র গতি। সেখানে আমাদের একশ' অফিস রয়েছে। পাঞ্জাব, সিন্ধু, সীমান্ত প্রদেশ- সর্বত্র আমরা শহর ও গ্রামে কাজ করছি। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, এখানে বড় এনজিও যে সফল হতে পারে, তার পথিকৃৎ ব্র্যাক। আপনারা চ্যালেঞ্জে জয়ী হয়েছেন এবং অন্যরা তা থেকে শিক্ষা নিতে পারবে।
সমকাল : ব্র্যাকের কাজের অন্যতম প্রধান দিক শিক্ষা কর্মসূচি। প্রাক্-প্রাথমিক ও প্রাথমিক থেকে বিশ্ববিদ্যালয়- সর্বত্র আপনাদের কর্মীরা কাজ করছে। এ অভিজ্ঞতা নিয়ে বলুন।
ফজলে হাসান আবেদ : শিক্ষার আলো থেকে বঞ্চিত যারা, তাদের পাশে আমরা দাঁড়িয়েছি। এদের কেউ যখন ব্র্যাক কিংবা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় বা প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের করিডোর দিয়ে গর্বিত ভঙ্গিতে হেঁটে যায়- এ যে কী পরিতৃপ্তি, বোঝাতে পারব না। আমরা গর্বিত নাগরিক তৈরির জন্য কাজ করছি এবং এটাই আমাদের শিক্ষা কর্মসূচির মূল লক্ষ্য। ব্র্যাক স্কুল থেকে বের হয়ে আসা ৩৪ লাখ শিক্ষার্থীর কেউ কেউ এখন চীন ও জাপানের মতো দেশে পড়াশোনা করছে। আমরা চাই, শিশুদের সুপ্ত প্রতিভা ও মেধার বিকাশের সুযোগ করে দিতে। সরকারও এ কাজ করছে। তবে এখনও উল্লেখযোগ্যসংখ্যক শিশু প্রাথমিক বিদ্যালয়ের আওতার বাইরে। দরিদ্র পরিবারের সন্তানরাই এ অবস্থার শিকার। তাদের জন্য সবার করণীয় রয়েছে। এ প্রসঙ্গে আমি সরকারের প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষার্থীদের বিনামূল্যে পাঠ্যবই বিতরণ কর্মসূচিকে স্বাগত জানাই। অনেক দরিদ্র পরিবারের সন্তান বই কিনতে পারে না। ব্র্র্যাকের এক হাজার ৪০০ স্কুলে গ্রন্থাগার কর্মসূচি রয়েছে। আমরা সেখানে কয়েক সেট পাঠ্যবই রাখতাম, যাতে দরিদ্র পরিবারের ছেলেমেয়েরা অন্তত ধার নিয়ে পড়তে পারে। এখন এ সমস্যা থাকবে না। বইয়ের দারিদ্র্য দূর করা নিঃসন্দেহে বড় অর্জন।
সমকাল : তারপরও শিক্ষা কিন্তু এ দেশে এখনও সুযোগ রয়ে গেছে, অধিকার নয়...।
ফজলে হাসান আবেদ : আমরা এটা প্রতিষ্ঠার জন্য কাজ করছি। এ প্রসঙ্গে আমি ভারতের একটি সাম্প্রতিক আইনের কথা বলতে চাই। সেখানে কোনো প্রতিষ্ঠানে কোনো শিশু ভর্তি হতে চাইলে তাকে না করা যাবে না। বাংলাদেশে অনেক বেসরকারি প্রতিষ্ঠান রয়েছে, যেখানে বেতন ও অন্যান্য চার্জ খুব বেশি। ভারতে আইন হয়েছে যে এ ধরনের প্রতিষ্ঠানে ২৫ শতাংশ আসন দরিদ্র পরিবারের সন্তানদের জন্য রাখতে হবে। তাদের কাছ থেকে বেতন-চার্জ নেওয়া যাবে না এবং এটা সরকার থেকে পরিশোধ করা হবে। আগামী ১৬-১৭ ফেব্রুয়ারি নোবেল পুরস্কার বিজয়ী অমর্ত্য সেনের কলকাতা গ্রুপ ঢাকা আসছে। তিনি শিক্ষা ও স্বাস্থ্য নিয়ে কাজ করছেন। আমরা তাদের কাছ থেকে এ ক্ষেত্রে অভিজ্ঞতা জানার চেষ্টা করব। আমাদের কাছ থেকেও তারা নিশ্চয় কিছু শিখবেন।
সমকাল : ব্র্যাক ও নারীর ক্ষমতায়ন অনেকটা সমার্থক হয়ে উঠেছে বলে অনেকে মনে করেন। এ এক বড় অর্জন...
ফজলে হাসান আবেদ : আমরা এ বিষয়টি সবচেয়ে উপযোগী কাজ হিসেবে বেছে নিয়েছি। দেশে ও দেশের বাইরে নারী সমাজের একটি অংশকে স্বাবলম্বী করার কাজে আমরা মোটামুটি সফল। এর ফলে জেন্ডার অসাম্য কমে আসছে। ছেলেমেয়ে, নারী-পুরুষ সবাই জাতীয় উন্নয়নে সমান অবদান রাখবে, এটাই আমাদের লক্ষ্য।
সমকাল : দেশের বাইরে কাজের অভিজ্ঞতা নিয়ে জানতে চাই।
ফজলে হাসান আবেদ : দেশে সাফল্য এসেছে বলেই বিদেশে হবে, সেটা নিশ্চিত করে বলা যায় না। তবে এটা ঠিক, দরিদ্ররা সব দেশেই উন্নত জীবনের স্বপ্ন দেখে। তাদের সাধনা থাকে এবং এ বিষয়ে মিল সর্বত্র। প্রতিদিনের খাবার চাহিদা মেটানো, সন্তানকে স্কুলে ভালো পোশাক ও বই-খাতা দিয়ে পাঠানো, রোগব্যাধিতে চিকিৎসাসেবা- এসব সব দেশের নারী-পুরুষ সবার আকাঙ্ক্ষা থাকে। তবে সাংস্কৃতিক পার্থক্য থাকে এবং আমরা কাজের ক্ষেত্রে সেটা বিবেচনায় রাখি। আফগানিস্তানের কথা আগে বলেছি। সেখানে নারীদের সংগঠিত করা পুরুষ কর্মীদের দিয়ে সম্ভব নয়। সেখানে এ বিষয়টি বিবেচনায় রেখে কাজ করছি এবং অন্য সব সংগঠন তাতে সহায়তা দিচ্ছে। আমাদের অর্থের কোনো সমস্যা হচ্ছে না। আমাদের অভিজ্ঞতা নিয়ে এখন অনেক দেশে স্থানীয় এনজিও গড়ে উঠছে।
সমকাল : কেউ কেউ এখন ক্ষুদ্রঋণের কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন...
ফজলে হাসান আবেদ : বাংলাদেশের যে কোনো গ্রামে গেলেই দেখবেন কিছু করার ক্ষেত্রে অর্থের সমস্যা প্রকট। দরিদ্র মানুষের চাহিদা বেশি নয়, কিন্তু তাদের কে সহায়তা দেবে? আমরাসহ আরও কয়েকটি সংগঠন তাদের পাশে দাঁড়িয়েছে। ক্ষুদ্রঋণ কর্মসূচি এ ক্ষেত্রে সফল। তবে এটাই দারিদ্র্য দূর করার একমাত্র উপায়, সেটা বলছি না।
সমকাল : সাম্প্রতিক সময়ে এনজিওগুলোর বিরুদ্ধে ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ডে যুক্ত হওয়ার অভিযোগ উঠছে। এ বিষয়ে কিছু বলবেন কি?
ফজলে হাসান আবেদ : ১৯৮০ সালে আমরা আড়ং চালু করি। এ সংগঠন গ্রামে নারীদের সংগঠিত করে এবং কাজ শেখানো হয়। তাদের উৎপাদনের জন্য মূলধন দেওয়া হয়। কিন্তু বাস্তব ক্ষেত্রে তাদের পণ্য বিক্রয়ে সমস্যা দেখা দেয়। শেষ পর্যন্ত আমরাই এর ব্যবস্থা করে দিই। এখন আড়ংয়ে পণ্য সরবরাহ করছে বিপুলসংখ্যক নারী। তারা কি ব্যবসা করছে বলবেন? আমরা তাদের জন্য সুযোগ সৃষ্টি করে দিয়েছি। আমাদের কাজের এলাকায় শাকসবজি উৎপাদন হয়। আমরা লক্ষ্য করলাম, ভালো মানের বীজের অভাব সর্বত্র। এ থেকেই উন্নত মানের বীজ জোগানোর কর্মসূচি হাতে নিই। হাঁস-মুরগির খামারে ভালো মানের বাচ্চা জোগান দেওয়ার জন্য এভাবেই চালু হয়েছে হ্যাচারি কর্মসূচি। দেশি জাতের একটি মুরগি থেকে বছরে ৬০টি ডিম পাওয়া যায়। কিন্তু উন্নত জাত থেকে মেলে ২৭০টি ডিম। এ জন্য আমরা কাজ করে চলেছি। এটা অবশ্যই ব্যবসা, কিন্তু তার মূল লক্ষ্য দরিদ্র জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়ন। তাদের তাগিদ থেকেই এসব কর্মসূচি চালু হয়েছে। ব্র্যাক ব্যাংকও ব্যবসার জন্য নয়, বরং এ লক্ষ্যেই স্থাপন করা হয়েছে। এ ব্যাংকের সব শাখা থেকে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পে ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত বিনা জামানতে ঋণ দেওয়া হচ্ছে। এখন বাংলাদেশ ব্যাংক বলছে, ব্র্যাক ব্যাংক পারলে অন্যরা কেন পারবে না? ব্র্যাক ব্যাংক ছাড়া আমাদের বিভিন্ন ইউনিট থেকেও ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প খাতে ঋণ দেওয়া হচ্ছে। ব্র্যাক ব্যবসা করছে ঠিকই, তবে এর লক্ষ্য ব্যবসা নয়; বরং দরিদ্রদের ক্ষমতায়ন। এতে বিপুলসংখ্যক মানুষের কাজের সুযোগ সৃষ্টি হচ্ছে। তাদের হাতে অর্থ যাচ্ছে এবং এর ফলে তারা বাজারে পণ্যের ক্রেতা হয়ে উঠছে। অন্যদের জন্য উৎপাদন বাড়ানোর এটাও সুযোগ বৈকি। অর্থাৎ আমরা সবার জন্য ব্যবসায়ের প্রসার ঘটাতে অবদান রাখছি।
সমকাল : আপনার কাজের স্বীকৃতি পেয়েছেন দেশে ও বিদেশে। এর মধ্যে কোনটিকে আপনি বিশেষভাবে মনে রাখতে চাইবেন?
ফজলে হাসান আবেদ : ইউএনডিপি থেকে পাওয়া মাহবুবুল হক হিউম্যান ডেভেলপমেন্ট অ্যাওয়ার্ডের কথাই আমি বিশেষভাবে বলব। আমার আগে এ সম্মান পেয়েছেন ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট। সাধারণত রাষ্ট্রপ্রধান বা সরকারপ্রধানেরই এ ধরনের সাফল্য থাকে। কিন্তু ইউএনডিপি থেকে আমাকে বলা হয়, আপনাকে আমরা পৃথিবীর রাষ্ট্রপতি হিসেবে এ সম্মান দিচ্ছি। সুইডেনের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ওলফ পামের নামে যে পদক চালু করেছেন তার স্ত্রী, সেটাকেও আমি মূল্যবান মনে করি।
সমকাল : জীবনের সবচেয়ে আনন্দের ঘটনা জানতে চাই...
ফজলে হাসান আবেদ : দেশের সর্বত্র রয়েছে ব্র্যাকের স্কুল। এসব স্কুলে এমন অনেকে পড়াশোনা করতে আসে, যাদের ঘরে খাবারের সংস্থান থাকে না। আমরা তাদের শিক্ষার অধিকার নিশ্চিত করার সুযোগ করে দিয়েছি। তারা যখন প্রাথমিক পর্যায়ের শিক্ষাজীবন শেষ করে, তখন আনন্দ পাই। তারপর একে একে শিক্ষার অনেক ধাপ অতিক্রম করে যখন সর্বোচ্চ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে হাজির হয়, তখন তাদের কাছে জীবনের অর্থ হয়ে ওঠে অন্যরূপ। এর স্রষ্টা ব্র্যাক। এর এখনও অনেক কাজ বাকি। আমাদের মতো আরও অনেক প্রতিষ্ঠান এ কাজ করছে। সবাই মিলেই দেশকে আমরা সমৃদ্ধ করে তুলতে পারব।
সমকাল : আর জীবনের কষ্টের কথা বলবেন কি?
ফজলে হাসান আবেদ : আমাদের কাজের সমালোচনা হবেই এবং সেটা স্বাভাবিকভাবে মেনে নিই। কিন্তু প্রকৃত ঘটনা না জেনে কেউ সমালোচনা করলে সেটা কষ্টের কারণ হয়। তারা এমনকি আমরা কী করছি এবং কেন করছি ও কীভাবে করছি, সেটা জানারও চেষ্টা করে না। এসব দেখে মনে কষ্ট লাগে। হয়তো নিজেদের কাজ আরেকটু ভালোভাবে সবার কাছে তুলে ধরলে এ ধরনের সমালোচনা কমতে পারে। তবে আমাদের কাজের ভুলত্রুটি কেউ ধরিয়ে দিলে তাকে অবশ্যই স্বাগত জানাব।
সমকাল : সমকালের পক্ষ থেকে আপনাকে ধন্যবাদ।
ফজলে হাসান আবেদ : সমকালের পাঠক ও শুভানুধ্যায়ীদের নববর্ষের শুভেচ্ছা।
