ঢাকা মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬

মাঘে আষাঢ়ের বৃষ্টি, জেঁকে বসছে শীত

মাঘে আষাঢ়ের বৃষ্টি, জেঁকে বসছে শীত
×

ছবি: ফোকাস বাংলা

সমকাল প্রতিবেদক

প্রকাশ: ০৪ ফেব্রুয়ারি ২০২২ | ০৯:৪৪ | আপডেট: ০৪ ফেব্রুয়ারি ২০২২ | ১২:৩৩

'যদি বর্ষে মাঘের শেষ, ধন্যি রাজার পূণ্য দেশ' খনার বচন মতে মাঘের শেষের বৃষ্টি ক্ষেতের ফসলের জন্য ভালো। বৃহস্পতিবার রাত থেকে শুক্রবার দিনভর দেশের বিভিন্ন স্থানে বৃষ্টি ধান ও আমের জন্য আর্শিবাদ হয়ে এলেও আলুসহ বিভিন্ন রবি ফসলের জন্য সর্বনাশ ডেকে এনেছে। হিমেল হাওয়ার ঝাপটা ভোগান্তিতে ফেলেছে হতদরিদ্র শীতার্ত মানুষদের। পরিসংখ্যান বলছে, ফেব্রুয়ারি মাসের এ সময়ে এত বেশি বৃষ্টিপাত বাংলাদেশে সাম্প্রতিক সময়ে আর হয়নি। এ যেন মাঘ মাসে আষাঢ় নেমে এসেছে।

আবহাওয়া অধিদপ্তর বলছে, গত কয়েকদিন ধরে বিশেষ করে দেশের উত্তরাঞ্চলে তীব্র শীত অনুভুত হচ্ছে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে পশ্চিমা লঘুচাপ। এর প্রভাবে ঢাকা, রাজশাহী রংপুর ও খুলনা বিভাগের অধিকাংশ এলাকায় বৃষ্টি হচ্ছে। বৃষ্টির সঙ্গে রয়েছে হালকা দমকা হাওয়া। উত্তরাঞ্চল ও খুলনা বিভাগের জেলাগুলোতে বৃষ্টি বেশি হয়েছে। এতে করে ধান বাদে রবি শস্য, আলু, মসুর, পেঁয়াজ, রসুনসহ বিভিন্ন ফসল নিয়ে বিপাকে পড়েছেন চাষীরা। দিনভর বৃষ্টি ও জোরে বয়ে চলা শীতল বাতাসে কাজের খোঁজে পথে নামা শ্রমজীবি মানুষ ভোগান্তিতে পড়েছে। হতদরিদ্র ভাসমান মানুষের দুর্ভোগ বাড়িয়ে দিয়েছে এই শীতল হাওয়া ও বৃষ্টি।

আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে মাঘের শেষ সময়ে এই বৃষ্টিতে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে শীত আরও জেঁকে বসতে পারে। রোববার থেকে বৃষ্টি কমবে তবে তাপমাত্রও কমবে।

শুক্রবার তেঁতুলিয়ায় দেশের সর্বনিম্ন ১১.২ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে। ঢাকায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১৮.২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। গতকাল দেশের সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাত হয়েছে খুলনায়, ৪৫ মিলিমিটার। এ ছাড়া রাজশাহীতে ২৫ মি.লি. ঈশ্বরদীতে ৩৫ মি.লি. বগুড়ায় ২৯ মি.লি. দিনাজপুরে ৪১ মি.লি. রংপুরে ৩৪ মি.লি. এবং ঢাকায় ১১ মি.লি. বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।

আবহাওয়াবিদ আব্দুল মান্নান জানিয়েছেন, এবার ফেব্রুয়ারি এই সময়ে দেশে যে পরিমাণ বৃষ্টিপাত হলো তা গত ৫০ বছরও হয়নি। শনিবারও এমন আবহাওয়া থাকতে পারে বলে জানিয়েছেন আবহাওয়াবিদ ওমর ফারুক। তিনি বলেন, শৈত্যপ্রবাহ কেটে যাওয়ার পর দুয়েকদিন তাপমাত্রা বেড়েছে। তবে পশ্চিমা লঘুচাপের প্রভাবে শুক্রবার বৃষ্টি হচ্ছে, শনিবারও হবে। রোববার থেকে আকাশ পরিষ্কার হলেও তাপমাত্রা কমবে।

শুক্রবার সন্ধ্যায় আগামী ২৪ ঘণ্টার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে- রংপুর, রাজশাহী, ময়মনসিংহ, ঢাকা, খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারী ধরনের বৃষ্টি অথবা বর্জ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সারাদেশে রাতের তাপমাত্রা কমবে। উত্তরাঞ্চলে দিনের তাপমাত্র অপরিবর্তিত থাকতে পারে। দক্ষিণাঞ্চলে দিনের তাপমাত্রা ২-৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস কমতে পারে।

ফেব্রুয়ারি মাসের দীর্ঘমেয়াদী পূর্বাভাসে বলা হয়, এ মাসে দেশে একটি মৃদু শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যেতে পারে। মাসের শেষদিকে দেশের কোথাও কোথাও দুয়েক দিন শিলাবৃষ্টি ও বজ্রপাত হতে পারে।

শীতে যুবুথুবু উত্তর জনপদ: শীতের তীব্রতার মাঝেই উত্তরের জেলাগুলোতে বৃষ্টি বাড়িয়ে দিয়েছে শীতার্ত মানুষের ভোগান্তি। বিপাকে পড়েছেন আলু চাষিরা। দুর্ভোগ বেড়েছে শ্রমজীবি মানুষের। স্থবির হয়ে পড়েছে জনজীবন।

রাজশাহী ব্যুরো জানিয়েছে, শুক্রবার ভোর থেকে দিনভর রাজশাহীতে গুড়ি গুড়ি বৃষ্টি হয়েছে। বিকেল ৩টা পর্যন্ত ২৪ দশমিক ৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করেছে আবহাওয়া অফিস। এতে করে ধান বাদে রবি মৌসুমের আলু, মশুর, পেঁয়াজ, রসুনসহ প্রায় সব ফসলেরই ক্ষতি হবে বলে আশংকা করা হচ্ছে। জমিতে পানি জমলে আলুর নাভিধসা রোগ এবং রসুন ও পেঁয়াজের শেকড়পচা রোগ হতে পারে। তবে উপকার হয়েছে ধান ও আমের। প্রায় সব গাছেই মুকুল আসবে এই বৃস্টির ফলে। ধানে সেচের খরচ বাঁচবে কৃষকের। জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মোজদার হোসেন বলেন গুমোট আবহাওয়া থাকলে মসুরের ক্ষতি হবে।

বগুড়া ব্যুারো জানিয়েছে, হঠাৎ বৃষ্টিতে বিপাকে পড়েছে বগুড়ায় আলু চাষিরা। বৃহস্পতিবার রাত থেকে শুরু হয়ে শুক্রবারেও দিনভর ঝিরিঝিরি বৃষ্টি হয়েছে। আলু পচে যাওয়ার শংকায় বৃষ্টির মধ্যেই অনেক এলাকায় কৃষকরা জমি থেকে আলু তোলেন। আলুর দাম এমনিতেই কম। বৃষ্টির কারণে পচে গেলে আরো লোকসানে পড়বে কৃষক।

রংপুর অফিস জানিয়েছে, উত্তরের কয়েকটি জেলায় অবিরত বৃষ্টি হচ্ছে। শীতের সাথে হিমেল হাওয়া ও বৃষ্টিতে জনদূর্ভোগ চরমে উঠেছে। সাধারণ মানুষজন অতি প্রয়োজন ছাড়া ঘর থেকে বের হয়নি। অনেক এলাকায় রাতে বিদ্যুৎ না থাকায় রংপুর অনেকটা ভুতুরে নগরে পরিণত হয়।

দিনাজপুর প্রতিনিধি জানিয়েছেন, শুক্রবার বিকেল ৩ টা পর্যন্ন্ত এই জেলায় ৪০ দশমিক মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে। বৃষ্টিপাতের ফলে ছন্দপতন ঘটেছে নাগরিক জীবনযাত্রায়। দিনাজপুরের শাখারীপট্টি এলাকার অটোরিপচালক রফিকুল ইসলাম বলেন, সকাল থেকেই শহরে মানুষের চলাচল একেবারেই কম। তাই সেভাবে উপার্জন হয়নি। ঠান্ডা বতাসে যেন সব জমে যাচ্ছে।

জয়পুরহাট প্রতিনিধি জানিয়েছেন, দিনভর গুড়িগুড়ি বৃষ্টিতে ক্ষেতে পানি জমেছে। এতে আলু নিয়ে বিপাকে পড়েছে চাষীরা। আগামী ২/৩ দিনের রোদে এসব পানি না সরলে আলু পচে যেতে পারে। কালাই উপজেলার আঁওড়া গ্রামের আলু চাষী মোক্তাদিল হোসেন জানান, আরও বৃষ্টি হলে আলুর আশা ছেড়ে দিতে হবে।

গাইবান্ধা প্রতিনিধি জানিয়েছেন, বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত ৩টা থেকে থেমে থেমে বৃষ্টি হচ্ছে। সঙ্গে বইতে থাকে দমকা হাওয়া। বিদ্যুতের তার ছিড়ে বা লোডশেডিং এর কারণে অনেক এলাকা আছে অন্ধকারে। আকাশ মেঘাচ্ছন্ন থাকায় গাইবান্ধায় বিকেল ৫ টা পর্যন্ত সূর্যের মুখ দেখা যায়নি। জনজীবন স্থবির হয়ে পড়ে প্রচণ্ড ঠাণ্ডায়।

আরও পড়ুন

×