আন্তর্জাতিক রোবট অলিম্পিয়াড
স্বর্ণসহ লাল-সবুজের ১১ পদক
আন্তর্জাতিক রোবট অলিম্পিয়াডে বাংলাদেশ দল
শামীম হায়দার
প্রকাশ: ১৯ জানুয়ারি ২০২৬ | ১১:০৯ | আপডেট: ১৯ জানুয়ারি ২০২৬ | ১১:০৯
আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের খুদে রোবটবিজ্ঞানীরা আবারও নিজেদের মেধার শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ করেছে। অস্ট্রেলিয়ার গোল্ড কোস্ট শহরে অনুষ্ঠিত ২৭তম আন্তর্জাতিক রোবট অলিম্পিয়াডে (আইআরও) একটি স্বর্ণসহ মোট ১১টি পদক জয় করেছে লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা। স্বর্ণপদকের পাশাপাশি দলটি ছয়টি ব্রোঞ্জ ও চারটি টেকনিক্যাল পদক অর্জন করে বিশ্বমঞ্চে দেশের নাম উজ্জ্বল করেছে।
গত ১৭ থেকে ২০ ডিসেম্বর গোল্ড কোস্টের মান্ত্রা সাউথপোর্ট শার্ক কনভেনশন সেন্টারে অনুষ্ঠিত হয় রোবটিক্সের এই বিশ্ব আসর। প্রতিযোগিতায় ক্রিয়েটিভ ক্যাটেগরির সিনিয়র গ্রুপে বাংলাদেশের হয়ে স্বর্ণপদক জয় করেন আনন্দ মোহন কলেজের শিক্ষার্থী মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল টিটু। ২১ ডিসেম্বর সমাপনী অনুষ্ঠানে বিজয়ীদের হাতে এই সম্মানজনক পদক তুলে দেওয়া হয়।
ব্রোঞ্জপদক বিজয়ীদের তালিকায় রয়েছেন নুসাইবা তাজরিন (ক্রিয়েটিভ মুভি ও ফিজিক্যাল কম্পিউটিং), জুবাইদাহ জাফরিন (ফিজিক্যাল কম্পিউটিং জুনিয়র লো), রিদোয়ান রাব্বানী (ফিজিক্যাল কম্পিউটিং জুনিয়র হাই), খোন্দকার মুশফিকুল ইসলাম এবং প্রিয়ন্তী দাস। অন্যদিকে টেকনিক্যাল পদক অর্জন করেছেন মোহাম্মদ জারিফ বিন সালেক, নাফিয়া বাসার, জাইমা যাহিন এবং প্রিয়ন্তী দাস। বাংলাদেশের এই সাফল্যের পথচলা দীর্ঘদিনের। দলের সঙ্গে কোচ হিসেবে আছেন বাংলাদেশ রোবট অলিম্পিয়াডের কোচ মিশাল ইসলাম ও সহকারী কোচ এম তানজিম আল ইসলাম দিবস, দলনেতা হিসেবে আছেন বাংলাদেশ ওপেন সোর্স নেটওয়ার্কের সভাপতি এ এ মুনির হাসান। এ ছাড়া আন্তর্জাতিক রোবট অলিম্পিয়াডের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য হিসেবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রোবটিক্স অ্যান্ড মেকাট্রনিক্স ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ড. লাফিফা জামাল অলিম্পিয়াডে অংশগ্রহণ করেছেন।
২০১৮ সাল থেকে প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে গত ৮ বছরে বাংলাদেশ মোট ১৫টি স্বর্ণসহ ৯৪টি পদক অর্জন করেছে। এবারের আসরের আগে সিঙ্গাপুরে অনুষ্ঠিত আরেকটি বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায়ও বাংলাদেশি ৯টি দল অংশ নিয়ে অভাবনীয় সাফল্য দেখায়। সেখানে টিম লেইজি-গো ষষ্ঠ স্থান এবং সোরাল্যাবস ও সাইবার স্কোয়াড নবম স্থান অর্জন করে বিশ্ববাসীকে তাক লাগিয়ে দেয়। বাংলাদেশ ওপেন সোর্স নেটওয়ার্কের (বিডিওএসএন) আয়োজনে জাতীয় পর্যায়ের বিভিন্ন ধাপ পেরিয়ে মেধাবী এই শিক্ষার্থীদের নির্বাচন করা হয়। অধ্যাপক ড. লাফিফা জামাল ও মুনির হাসানের নেতৃত্বে এবং কোচ মিশাল ইসলামের নির্দেশনায় শিক্ষার্থীরা এই কৃতিত্ব অর্জন করে। সরকারের তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগ এবং অধিদপ্তর এই যাত্রায় পূর্ণ পৃষ্ঠপোষকতা প্রদান করেছে। খুদে বিজ্ঞানীদের এই জয়জয়কার প্রমাণ করে যে, সঠিক দিকনির্দেশনা ও সুযোগ পেলে বাংলাদেশের শিক্ষার্থীরা প্রযুক্তির বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় পুরোপুরি সক্ষম যা আগামীর দক্ষ ও উদ্ভাবনী প্রজন্ম গড়তে সহায়ক হবে।
- বিষয় :
- রোবট
