মুজিববর্ষে মোদি এলে বঙ্গবন্ধুকে অসম্মান করা হবে: ভিপি নুর
বিক্ষোভ সমাবেশে কথা বলেন ভিপি নুর- সমকাল
বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক
প্রকাশ: ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২০ | ১০:৫১ | আপডেট: ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২০ | ১০:৫৮
মুজিববর্ষের অনুষ্ঠানে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি আসলে বঙ্গবন্ধুকে অসম্মান করা হবে বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) ভিপি নুরুল হক নুর।
বুধবার বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের সন্ত্রাস বিরোধী রাজু ভাস্কর্যের সামনে ‘সাম্প্রদায়িক মোদি সরকার কর্তৃক ধর্মীয় সম্প্রীতি বিনষ্টকারী ও সিএএ নিয়ে আন্দোলনরতদের উপর হামলার প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ'-এ এই মন্তব্য করেন। ‘বাংলাদেশ ছাত্র অধিকার পরিষদ’ কর্মসূচিটির আয়োজন করে।
ভিপি নুর বলেন, বঙ্গবন্ধু রাজনৈতিক কোনও দলের নেতা নন। তিনি বাংলার সকল শ্রেণি-পেশার মানুষের নেতা। তিনি বিশ্বের মুক্তিকামী মানুষের নেতা। তার জন্মদিনে কখনও সাম্প্রদায়িক দাঙ্গাবাজ মোদি আসতে পারে না। তিনি এই অনুষ্ঠানে তিনি আসলে বঙ্গবন্ধুকে অসম্মান করা হবে।
তিনি বলেন, মোদির হাতে মুসলিমদের রক্ত লেগে আছে। তার হাতে গণ মানুষের রক্ত লেগে আছে। মোদি একজন সাম্প্রদায়িক দাঙ্গাবাজ। তিনি ২০০২ সালে গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী থাকাকালে একটি সামান্য ঘটনা নিয়ে শুধুমাত্র রাজনৈতিক ফায়দা নেওয়ার জন্য মুসলিম-হিন্দু সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা ঘটিয়েছিলেন।
ভিপি নুর বলেন, আজ ট্রাম্প মোদিকে বলছেন ‘ঘনিষ্ঠ বন্ধু’। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র ২০০৫ সালে সাম্প্রদায়িক কাজে জড়িত থাকার জন্য মোদিকে তখন ডিপ্লোমেটিক ভিসা দেয়নি। পাশাপাশি অনেক রাষ্ট্রও তার ওপর নিষেধাজ্ঞা জারী করেছিল। সে রকম একজন সাম্প্রদায়িক দাঙ্গাবাজ, যিনি সন্ত্রাসী বাহিনীর সদস্য ছিলেন, সেই মোদি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশত বার্ষিকীতে যদি আসে, তাহলে দেশের মানুষকে অপমান করা হবে, বঙ্গবন্ধুর প্রতি অসম্মান করা হবে।
তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধু বিশ্বের মুক্তিকামী মানুষের নেতা। তার জন্মদিনে কখনও সাম্প্রদায়িক দাঙ্গাবাজ মোদি আসতে পারে না। মোদির মতো একজন সাম্প্রদায়িক ব্যক্তিকে বঙ্গবন্ধুর জন্মশত বার্ষিকীরে অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করতে দেবো না। বরং আমরা অসাম্প্রদায়িক এবং প্রগতিশীল ব্যক্তিদের অভ্যর্থনা জানাবো।
সমাবেশে অন্যদের মধ্যে ডাকসুর সমাজসেবা সম্পাদক আখতার হোসেন, পরিষদের আহ্বায়ক হাসান আল মামুন, যুগ্ম আহ্বায়ক ফারুক হাসান, মুহাম্মদ রাশেদ খাঁন, বিন ইয়ামিন মোল্লাসহ সংগঠনটির শতাধিক নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন।
সমাবেশ শেষে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়। মিছিলটি রাজু ভাস্কর্য থেকে শুরু হয়ে ক্যাম্পাসের গুরুত্বপূর্ণ স্থান প্রদক্ষিণ করে আবার রাজু ভাস্কর্যের সামনে এসে শেষ হয়।
