ঢাকা সোমবার, ২৯ জুন ২০২৬

নিউইয়র্ক টাইমসের বিশ্লেষণ

শান্তি প্রচেষ্টায় বাধা চুক্তির অস্পষ্ট ভাষা

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান চুক্তি সত্ত্বেও হরমুজ প্রণালিতে উত্তেজনা অব্যাহত

শান্তি প্রচেষ্টায় বাধা চুক্তির অস্পষ্ট ভাষা
×

ফাইল ছবি

সমকাল ডেস্ক

প্রকাশ: ২৯ জুন ২০২৬ | ০২:০৯

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সম্প্রতি একটি অন্তর্বর্তীকালীন যুদ্ধবিরতি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। তবে ভাষাগত অস্পষ্টতার কারণে চুক্তি হওয়ার দুই সপ্তাহ পার হতে না হতেই নতুন সমস্যা দেখা দিয়েছে। এতে বড় ধরনের সংকটের মুখে পড়েছে চলমান শান্তি প্রচেষ্টা। চুক্তির ভাষাগত অস্পষ্টতার সুযোগ নিয়ে দুপক্ষই মাঠের পরিস্থিতি নিজেদের মতো ব্যাখ্যা করছে।

নিউইয়র্ক টাইমসের বিশ্লেষণে বলা হচ্ছে, ‘সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা’ বা ‘নিরাপদ যাতায়াত’-এর মতো শব্দগুলোর সুনির্দিষ্ট সংজ্ঞা উল্লেখ না থাকায় গতকাল পর্যন্ত ৭২ ঘণ্টায় হরমুজ প্রণালিতে সংঘর্ষ ও উত্তেজনা নাটকীয়ভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।

চুক্তিতে ৬০ দিনের জন্য হরমুজ প্রণালি দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজের নিরাপদ যাতায়াতের কথা বলা হয়েছিল। কিন্তু গত বৃহস্পতিবার ইরানি বাহিনী একটি কনটেইনার জাহাজে আঘাত হানলে নতুন করে উত্তেজনা শুরু হয়। ইরানের দাবি, প্রণালি পার হওয়ার একমাত্র পথটি তাদের জলসীমার ভেতর দিয়ে গেছে। তারা বাণিজ্যিক জাহাজগুলোকে ওমান উপকূলের মার্কিন-সমর্থিত বিকল্প পথ ব্যবহারে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করছে।

কার্গো জাহাজে হামলার জবাবে গত শুক্রবার রাতে মার্কিন বাহিনী ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র, ড্রোন মজুত কেন্দ্র এবং উপকূলীয় রাডার স্থাপনায় পাল্টা হামলা চালায়। এর কয়েক ঘণ্টা পর ইরানি ড্রোন হামলার শিকার হওয়ার কথা জানায় বাহরাইন। এই পাল্টাপাল্টি হামলা চলমান সাময়িক যুদ্ধবিরতিকে পুরোপুরি নস্যাৎ করার মতো পরিস্থিতি তৈরি করছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, চুক্তিটি দ্রুত করার জন্য ইচ্ছাকৃতভাবেই নমনীয় ভাষা ব্যবহার করা হয়েছিল। এখন চূড়ান্ত চুক্তিতে পৌঁছানোর আগেই দুপক্ষ মাঠ পর্যায়ে নিজেদের সুবিধা আদায়ের চেষ্টা করছে। অথচ তাদের টেবিলে বসে প্রাথমিক চুক্তির অনিশ্চয়তাগুলো স্পষ্ট করার কথা ছিল।

এদিকে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স সম্প্রতি বলেছেন, উত্তেজনা হ্রাসের লক্ষ্যে দুই দেশের সামরিক বাহিনীর মধ্যে একটি হটলাইন তৈরি করা হয়েছে। তবে ইরানের বিপ্লবী গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) এই দাবি অস্বীকার করেছে। উল্টো ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনির উপদেষ্টা ও সাবেক সামরিক কমান্ডার মোহসেন রেজাই যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে হরমুজ প্রণালিতে টানা উত্তেজনা সৃষ্টি এবং অন্তর্বর্তীকালীন শান্তিচুক্তি লঙ্ঘনের অভিযোগ এনেছেন। সামাজিক মাধ্যমে হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি বলেছেন, সমঝোতা স্মারকের যে কোনো ধারা লঙ্ঘনের জবাব হবে দ্রুত এবং নিষ্পত্তিমূলক।

পাশাপাশি হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ ও জাহাজ চলাচল থেকে টোল আদায় নিয়েও দ্বন্দ্ব তৈরি হয়েছে। ইরান এটিকে ‘সার্ভিস ফি’ হিসেবে দেখতে চাইলেও মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও স্পষ্ট জানিয়েছেন, কোনো দেশই এই আন্তর্জাতিক জলপথ দিয়ে যাতায়াতের জন্য টোল আদায় করতে পারবে না। অর্থাৎ, ওয়াশিংটন যেখানে টোলমুক্ত যাতায়াত চায়, তেহরান সেখানে ৬০ দিনের এই শিথিলতাকে দেখছে শুধুই একটি সাময়িক কৌশলগত বিরতি হিসেবে। 

আরও পড়ুন

×