মেট্রোরেলের এমআরটি পাসের জন্য লম্বা সারি
ফাইল ছবি
অমিতোষ পাল
প্রকাশ: ০১ জানুয়ারি ২০২৩ | ১৮:০০ | আপডেট: ০২ জানুয়ারি ২০২৩ | ০৬:৫৫
ঘড়িতে তখন ২টা ৪৪ মিনিট। গেট খুলবে বিকেল ৩টায়। এমআরটি পাসের জন্য রাজধানীর আগারগাঁও মেট্রোরেল স্টেশনের দক্ষিণ-পশ্চিম প্রান্তের সিঁড়ির সামনের ফুটপাতে কয়েকশ মানুষের সারি। ঘণ্টা দুই আগেই তাঁরা দাঁড়িয়ে গেছেন লাইনে। এমআরটি পাস কিনলে প্রতিদিন লাইনে দাঁড়িয়ে টিকিট নিতে হবে না। মেশিনে কার্ডটি টাচ করে প্ল্যাটফর্মে ঢোকা যাবে। কার্ডের টাকা শেষ হলে রিচার্জ করলেই মেট্রোতে চলাচলের সুযোগ মিলবে। কার্ডের মেয়াদ থাকবে ১০ বছর। পাশাপাশি পাওয়া যাচ্ছে ১০ শতাংশ ছাড়।
মেট্রোরেল ভ্রমণের জন্য প্রতিদিন সকালে মানুষের দীর্ঘ লাইন তো আছেই। টিকিট না পেয়ে হতাশ হয়ে ফিরে যাওয়া মানুষের সংখ্যাও শত শত। টিকিটের পর এবার দেখা যাচ্ছে এমআরটি পাস পাওয়ার জন্য মানুষের সারি। গতকাল রোববার বছরের প্রথম দিনও এমন চিত্র দেখা গেছে রাজধানীর আগারগাঁও ও উত্তরা দিয়াবাড়ী মেট্রোরেল স্টেশনে।
সংশ্নিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, প্রতিদিন টিকিট কাটার ভোগান্তি এড়াতে মেট্রোরেল কর্তৃপক্ষ উদ্বোধনের পর থেকেই চালু করেছে এমআরটি পাস। ৫০০ টাকায় মিলছে এই পাস। এমআরটি পাসে ভ্রমণ করলে এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে যেতে ৬০ টাকার বদলে খরচ পড়বে ৫৪ টাকা। এ ছাড়া থাকবে না ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে টিকিট কাটার দুর্ভোগ। পাসটি হস্তান্তরযোগ্য হলেও, একসঙ্গে দু'জন যাত্রী একই পাস ব্যবহার করে মেট্রোরেলে সওয়ার হতে পারবেন না। বিষয়টি জানা না থাকায় অনেকেই পড়ছেন ভোগান্তিতে। এ ছাড়া দিনের টিকিট দিনে বিক্রি হওয়ায়, আগের দিন টিকিট কেটে রাখারও সুযোগ নেই। এ বিষয়েও যাত্রীদের রয়েছে অভিযোগ।
নিউ ইস্কাটনের বাসিন্দা অনিক উত্তরার একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন। এমআরটি পাস কেনার সময় তাঁর সঙ্গে কথা হয়। তিনি বলেন, কার্ডের দাম রাখা হচ্ছে ২০০ টাকা। বাকি ৩০০ টাকা রিচার্জে থাকছে। ওই ৩০০ টাকা দিয়ে তিনি তিন দিনও ভ্রমণ করতে পারবেন না। তাই তিনি চেয়েছিলেন একসঙ্গে ২ হাজার টাকা রিচার্জ করতে। সেটা করেনি এমআরটি পাস বিক্রেতা। কাজেই তিন দিন পর আবারও তাঁকে টাকা রিচার্জের জন্য লাইনে দাঁড়াতে হবে। তাঁর প্রশ্ন, এমন কম টাকা রিচার্জের ব্যবস্থা থাকবে কেন?
এমআরটি পাস কিনতে যাওয়া নগরবাসীর অভিযোগ, একটি পাস একই পরিবারের সদস্যরা একসঙ্গে ব্যবহার করবেন- সে সুযোগও রাখা হয়নি। আবার একজনের কাছে তিনটির বেশি পাস বিক্রিও করছে না কর্তৃপক্ষ। এক পরিবারের চারজন যদি একসঙ্গে ভ্রমণ করতে চান, তাহলে আরেকজনের টিকিটের জন্য আবার সেই লাইনে দাঁড়াতে হবে। মেট্রোরেলের এ বিষয়গুলো নির্বিঘ্ন করা প্রয়োজন। তাহলে মানুষ অনেক ভোগান্তি থেকে রেহাই পাবে।
বরিশাল বিএম কলেজের শিক্ষার্থী ফিরোজ জানান, মেট্রোরেলে চড়ার জন্য তিনি ঢাকা এসেছেন। একদিন চড়েছেনও। মাঝেমধ্যেই চড়বেন বলে তিনি একটি এমআরটি পাস কিনবেন। সেটা কিনতেও তাঁকে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়াতে হয়েছে। স্টেশনে পৌঁছানো থেকে পাস কিনে বের হতে তাঁর প্রায় তিন ঘণ্টা সময় ব্যয় হয়েছে। কারণ মানুষ শত শত। আর পাস বিক্রি করছেন মাত্র দু'জন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছিুক এক নারী জানান, এমআরটি পাস কিনতে গিয়ে তিনিও ভোগান্তিতে পড়েছেন। স্টেশনের চারটি দিক দিয়ে ওঠা-নামার সুযোগ থাকলেও একটি মাত্র গেট খোলা। ফলে তাঁকে অনেক ঘুরে ঘুরে ওই গেটে পৌঁছতে হয়েছে। এদিকে মেট্রোরেল চালু হওয়ার পর রোকেয়া সরণির রাস্তাটিতে যান চলাচল অনেক বেড়েছে। রাস্তা পার হওয়ারও তেমন সুযোগ রাখা হয়নি। আবার মেট্রোরেল স্টেশনকে ফুট ওভারব্রিজ হিসেবে ব্যবহারের সুযোগ আছে বলা হলেও কাউকে ফুট ওভারব্রিজ হিসেবে ব্যবহার করতে দেওয়া হচ্ছে না।
গেটের নিরাপত্তাকর্মী মোয়াজ্জেম হোসেন বলেন, গত পাঁচ বছর তিনি মেট্রোরেল প্রকল্পে কাজ করছেন। তবে এ দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে তাঁকে হিমশিম খেতে হচ্ছে। যাত্রীরা জোর করে ভেতরে ঢুকে যেতে চান। দুপুরের পর শুরু হয় এমআরটি পাসের লাইনের ধাক্কাধাক্কি।
জানা গেছে, গত বুধবার উদ্বোধনের পর বৃহস্পতিবার থেকে শুরু হয় সাধারণের মেট্রোরেলে চলাচল। ওই দিনই শুরু হয় এমআরটি পাস দেওয়া। প্রথম দিনে পাঁচ শতাধিক পাস বিক্রি করা হয়। পরদিন ভিড় উপচে পড়ে। এর পর প্রতিদিন প্রায় দুই হাজার মানুষ এমআরটি পাস কিনতে পারছেন। মাত্র ছয় ঘণ্টা পাস বিক্রির সময় থাকায় অনেকে কিনতে না পেরে ফিরে যাচ্ছেন।
এসব বিষয়ে মেট্রোরেলের এমআরটি পাস বিক্রির অপারেটর শেখ ইমরান বলেন, 'আমরা সমস্যাগুলো বুঝতে পারছি। মানুষের চাহিদার কথাও বুঝতে পারছি।' এ ব্যাপারে তিনি স্টেশন ইনচার্জ সামিউল কাদিরের সঙ্গে কথা বলার পরামর্শ দেন।
সামিউল কাদির বলেন, মেট্রোরেল-সংক্রান্ত যাবতীয় তথ্য সরবরাহের জন্য তাঁদের একজন জনসংযোগ কর্মকর্তা আছেন। তিনিই বিস্তারিত বলতে পারবেন।
এসব বিষয়ে মেট্রোরেলের জনসংযোগ কর্মকর্তা নাজমুল ভুইয়া বলেন, 'আস্তে আস্তে সব সমস্যার সমাধান হবে। চিন্তার কোনো কারণ নেই।'
- বিষয় :
- মেট্রোরেল
- এমআরটি পাস