ঢাকা সোমবার, ০৬ জুলাই ২০২৬

কাঁচাবাজার থেকে দোকান সরিয়ে লাভ হচ্ছে না

কাঁচাবাজার থেকে দোকান সরিয়ে লাভ হচ্ছে না
×

মিরাজ শামস

প্রকাশ: ২০ এপ্রিল ২০২০ | ১৩:৪৬ | আপডেট: ২০ এপ্রিল ২০২০ | ১৪:২০

করোনাভাইরাস সংক্রমণের ঝুঁকি কমাতে রাজধানীর অনেক কাঁচাবাজারের সবজি, ফল ও মাছের দোকান সরানো হয়েছে প্রশস্ত সড়কে ও খোলা জায়গায়। কিন্তু এর উদ্দেশ্য পূরণ হচ্ছে না। কারণ, ক্রেতা-বিক্রেতা কেউই করোনা সংক্রমণ ঝুঁকি এড়ানোর সামাজিক দূরত্ব মানছেন না। ক্রেতারা যেমন ভিড় করে পণ্য কিনছেন, তেমনি বিক্রেতারাও পাশাপাশি দোকান বসিয়ে বেচাকেনা করছেন। ফাঁকা জায়গার বাজারের সুবিধা এবং রমজান মাস ঘনিয়ে আসায় ক্রেতাদের ভিড়ও বেড়েছে বাজারে। সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে গতকাল রাজধানীর কয়েকটি স্থানান্তরিত বিভিন্ন কাঁচাবাজার ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে।

ক্রেতাদের মধ্যে অন্তত তিন ফুট দূরত্ব বজায় রাখার নিয়ম জানেন কি না- জানতে চাইলে মিরপুর-১নং বাজারের পাশে মূল সড়কে সবজি বিক্রেতা ফারুক হোসেন তার উত্তর না দিয়ে বললেন, ভাগ্যে যা আছে তাই হবে। তার কথায় সায় দেন সবজি কিনতে আসা কয়েকজন ক্রেতা। খানিকটা দূরত্বে থেকে আরেক ক্রেতা হাবিবুর রহমান অবশ্য  নিয়ম পরিপালনের পক্ষে। তিনি বললেন, বাজারে এমন অবস্থা চলতে থাকলে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ আমেরিকার মতো অবস্থা হতে খুব বেশি সময় লাগবে না।

ঢাকা মহানগরীর কাঁচাবাজারের ভেতরে স্থান স্বল্পতার জন্য ভিড় করে কেনাকাটা এড়াতে এ জন্য গত শুক্রবার ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করতে বাজারের ভেতর থেকে সবজি, ফল ও মাছের দোকান মূল সড়কে বসানোর উদ্যোগ নেয়। ডিএমপির আদেশে বলা হয়, কাঁচাবাজারে স্থান অনেক কম। অল্প জায়গায় গাদাগাদি করে মানুষকে কেনাকাটা করতে হয়, যা এখন ঝুঁকিপূর্ণ। এ অবস্থায় করোনাভাইরাসের সংক্রমণ রোধে মাছ ও সবজি বিক্রেতাদের প্রশস্ত সড়কে ২০ থেকে ২৫ ফুট দূরত্বে বসানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

সম্প্রতি ঢাকার সবচেয়ে বড় পাইকারি বাজার কারওয়ান বাজারে তিনজন ব্যবসায়ীর করোনা পজিটিভ শনাক্ত হয়। এর পরই কাঁচাবাজার স্থানান্তরের পরিকল্পনা করা হয়। এরপর ডিএমপির উদ্যোগে এ ব্যবস্থা নেওয়া হলে দু'দিন ধরে মূল বাজারের বাইরে প্রশস্ত সড়কে বাসানো হয়েছে কাঁচাবাজার। এতে মাছ ও সবজির পাশাপাশি ফল বিক্রেতারাও বসছেন। আর মুদি দোকান স্থায়ী কাঁচাবাজারে ভেতরে খোলা থাকছে।

সোমবার সকালে মিরপুর-১ বেড়িবাঁধ পাইকারি সবজি ও ফলের আড়তের দিকে শাহআলী মাজারের সামনে থেকে এগোতেই দেখা যায় লাইন ধরে সবজি বোঝাই ভ্যান আসছে। সেখান থেকে ডানদিকের সড়ক ধরে খানিকটা সামনে এগোতেই দেখা যায়, সড়কের মধ্যেই মানুষের জটলা। সবজি বোঝাই ভ্যানের সারি সারি লাইন। খুচরা ক্রেতারা ঠেলাঠেলি করে কেনাকাটা করছেন। সবজির ভ্যান নিয়ে খুচরা বাজারের বিক্রেতা মোবারক হোসেন জানান, রীতিমত যুদ্ধ করে আড়ত থেকে সবজি কিনে ফিরতে হচ্ছে। এটা এখানকার প্রতিদিনের চিত্র। তার মতে, ওই সময়েও আড়তে একসঙ্গে হাজারখানেক ক্রেতা সবজি কিনেছেন। সেখান থেকে ফিরে মিরপুর-১ নম্বর কাঁচাবাজারে সকাল ৮টায় দেখা যায়, ক্রেতারা ভিড় করে কেনাকাটা করেন। তখনও পুলিশের তদারকি শুরু হয়নি। যদিও এই বাজারে লাইন ধরে একদিক দিয়ে নিরাপদ দূরত্ব বজায় রেখে প্রবেশ করতে হয়। কেনাকাটা শেষ করে অন্যদিক দিয়ে বের হতে হয়। মূল বাজারের বাইরে সিটি করপোরেশন মার্কেটের বাইরে প্রধান সড়কের একপাশ বন্ধ করে বসানো হয়েছে সবজি ও ফলের বাজার। সেখানে দোকানি ও ক্রেতাদের জন্য ডিএমপির উদ্যোগে আলাদা চিহ্ন দিয়ে নির্দেশনা দেওয়া আছে। সে অনুযায়ী বিক্রেতারা বসলেও ক্রেতারা অনুসরণ করছেন না। এই বাজার থেকে কিছুটা দূরে পাইকপাড়া আনসারক্যাম্প থেকে ছাপাখানা মোড় পর্যন্ত সড়কে গাড়ি চলাচল বন্ধ করে বসানো হয়েছে বাজার। সকাল ৯টায় সেখানে দেখা গেছে, মাছ ও সবজির দোকান স্থায়ী বাজারের মতো একইভাবে পাশাপাশি বসেছে। ক্রেতারাও ভিড় করে কেনাকাটা করছেন।

মিরপুরের উত্তর পীরেরবাগ কাঁচাবাজারে সকাল ১০টায় দেখা যায় ক্রেতাদের বেশ ভিড়। এই বাজারের পাশে ৬০ ফুট সড়কে বসানো হয়েছে মাছ, সবজি ও ফলের দোকান। সেখানে দূরত্ব বজায় রেখে দোকান বসানো হলেও বেশিরভাগ ক্রেতা তা মানছেন না। এই বাজারের মাছ ব্যবসায়ী মো. জিহাদ বলেন, বাজারের মধ্যে আগে তেমন বেচাকেনা হয়নি। এখন ফাঁকা জায়গায় নেওয়ায় বেচাকেনা বেড়েছে। ক্রেতারাও আগের চেয়ে বেশি আসছেন। কিছু ক্রেতা বেশ সাবধানতা অবলম্বন করে কেনাকাটা করছেন। কেউ কেউ মানছেন না।

নিউমার্কেট, কারওয়ানবাজার, শ্যামবাজার. মগবাজার, শান্তিনগর, হাতিরপুলসহ বিভিন্ন বাজারে খোঁজ নিয়ে আরও জানা যায়, কিছু বাজারে নির্দিষ্ট কিছু সময় নিয়ম মানা হলেও বেশিরভাগ বাজারে সামাজিক দূরত্ব বাজায় থাকছে না। যখন আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তদারক করে, তখন সবাই সতর্ক হন। চলে গেলে আবার গাদাগাদি করে বেচাকেনা চলে।

কল্যাণপুরের নতুন বাজারের কাঁচাবাজার সড়কের পাশে বসেছে অস্থায়ী বাজার। কিন্তু সড়ক তেমন বড় না হওয়ায় ভিড় হচ্ছে। মোহাম্মদপুর টাউনহল বাজারেও ফাঁকা করে সড়কের মধ্যে দোকান বসানো হয়েছে বলে জানান ওই বাজারের সবজি বিক্রেতা মো. মামুন। তিনি বলেন, ব্যবসায়ীরা সাবধানতা অবলম্বন করলেও ক্রেতারা মানছেন না, এতে তাদের করোনা সংক্রামণ ঝুঁকি বাড়ছে। এতদিন কিছু দোকান বন্ধ ছিল। এখন ফাঁকা করে বসানোর পর অনেকেই সবজি বিক্রি করছেন।

আরও পড়ুন

×