মোহাম্মদপুরে গৃহকর্মীকে পিটিয়ে হত্যা
প্রতীকী ছবি
সমকাল প্রতিবেদক
প্রকাশ: ২৪ অক্টোবর ২০১৯ | ০৯:৩৬
রাজধানীর মোহাম্মদপুরে ১২ বছর বয়সী এক গৃহকর্মীকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। তার নাম জান্নাতি। হত্যার ঘটনায় গৃহকর্ত্রী রোখসানা পারভীন ও তার স্বামী প্রকৌশলী সাইদ আহম্মেদকে আসামি করে বৃহস্পতিবার মোহাম্মদপুর থানায় মামলা হয়েছে।
রোখসানাকে ইতোমধ্যে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গত মঙ্গলবার রাতে এ হত্যার ঘটনা ঘটে। বুধবার রাজধানীর শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ মর্গে লাশের ময়নাতদন্ত করা হয়। জান্নাতির শরীরে একাধিক আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
মেয়েটি হত্যার আগে ধর্ষণের শিকার হয়েছিল কি-না তা পরীক্ষার জন্য আলামত সংগ্রহ করেছে ফরেনসিক বিভাগ। বৃহস্পতিবার মর্গ থেকে স্বজনরা লাশ গ্রামের বাড়ি নিয়ে যায়।
জানা গেছে, সাইদ আহম্মেদ পিরোজপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী হিসেবে কর্মরত। তার বাসা মোহাম্মদপুরের ইকবাল রোডে। বাসায় সন্তানসহ স্ত্রী রোখসানা পারভীন থাকেন। সাইদ আহম্মেদ পিরোজপুর থেকে মাঝেমধ্যে বাসায় আসেন। তার বাসায় জান্নাতি ছাড়াও আরও দু'জন গৃহকর্মী রয়েছে। জান্নাতি তিন বছর ধরে কাজ করছিল। তার বাবার নাম জানু মোল্লা। বাড়ি বগুড়ার গাবতলী উপজেলায়।
পুলিশ জানিয়েছে, মঙ্গলবার গভীর রাতে রোখসানা পারভীন নিজেদের গাড়িতে করে জান্নাতিকে অচেতন অবস্থায় শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। কর্তব্যরত চিকিৎসক জানিয়ে দেন, হাসপাতালে নেওয়ার আগেই জান্নাতির মৃত্যু হয়েছে। হাসপাতাল থেকে মোহাম্মদপুর থানায় খবর দেওয়া হলে পুলিশ লাশ উদ্ধার করে মর্গে পাঠায়। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রোখসানাকে আটক করে থানায় নেওয়া হয়। পিটিয়ে হত্যার পর জান্নাতিকে হাসপাতালে নেওয়া হয় বলে ধারণা পুলিশের।
খবর পেয়ে বৃহস্পতিবার জান্নাতির বাবা জানু মোল্লাসহ স্বজনরা ঢাকায় আসেন। জানু মোল্লা বাদী হয়ে রোখসানা পারভীন ও সাইদ আহম্মেদকে আসামি করে মোহাম্মদপুর থানায় মামলা করেন। বাসার অন্য দুই গৃহকর্মীকে থানায় নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।
শুক্রবার রোখসানাকে ঢাকার আদালতে পাঠিয়ে রিমান্ডের আবেদন করা হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
জানু মোল্লা সমকালকে বলেন, তিনি হতদরিদ্র। পেটের দায়ে মেয়ে জান্নাতিকে ঢাকায় গৃহকর্মীর কাজে পাঠিয়েছিলেন। জান্নাতিকে প্রায়ই রোখসানা পারভীন মারধর করতেন। এমনকি বাবা-মায়ের সঙ্গে ফোনে কথাও বলতে দেওয়া হতো না। তার মেয়েকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে।
মোহাম্মদপুর থানার ওসি গোপাল গণেশ বিশ্বাস বলেন, ধারণা করা হচ্ছে, জান্নাতিকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। তার শরীরে কালশিটে দাগ রয়েছে। তবে কেন, কী কারণে তাকে হত্যা করা হয়েছে সে সম্বন্ধে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। হত্যার আগে ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে কি-না সে বিষয়টিও তদন্তে দেখা হবে বলে জানান ওসি।