ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৯ জুলাই ২০২৬

মেয়র আতিক দায়িত্ব নিচ্ছেন আজ

`গড়তে চাই সচল ও আধুনিক ঢাকা`

`গড়তে চাই সচল ও আধুনিক ঢাকা`
×

অমিতোষ পাল

প্রকাশ: ১২ মে ২০২০ | ১২:০০ | আপডেট: ৩০ নভেম্বর -০০০১ | ০০:০০

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) মেয়র নির্বাচিত হলেও এতদিন দায়িত্ব বুঝে পাননি আতিকুল ইসলাম। নির্বাচন কমিশনের আইনি বাধ্যবাধকতার কারণে আজ ১৩ মে পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয়েছে। ভারপ্রাপ্ত মেয়র জামাল মোস্তফার কাছ থেকে আজ বুধবার দায়িত্ব বুঝে নেবেন তিনি। এ উপলক্ষে আজ নগরভবনে অনলাইন সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়েছে। এর মাধ্যমে আতিকুল ইসলাম তার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা তুলে ধরবেন। সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নেরও জবাব দেবেন।
এদিকে দায়িত্ব পাওয়ার অপেক্ষা থাকলেও নির্বাচিত হওয়ার পর বসে থাকেননি আতিকুল ইসলাম। করোনার এই সংকটকালে রয়েছেন মানুষের পাশে। কখনও ত্রাণ নিয়ে বিভিন্ন এলাকায় বিতরণ করছেন, কখনও ভারপ্রাপ্ত মেয়র ও শীর্ষ কর্মকর্তাদের পরামর্শ দিয়েছেন করণীয় সম্পর্কে। কীভাবে বর্ষায় নগরবাসীকে জলাবদ্ধতা থেকে বাঁচানো যায়, সে জন্য ছুটেছেন খাল উদ্ধার করতে।
মেয়র আতিকুল ইসলামের সঙ্গে কথা বলে ও তার ঘনিষ্ঠদের সূত্রে জানা গেছে, মেয়র হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর বেশ কয়েকটি বিষয়কে গুরুত্ব দিয়ে ডিএনসিসিকে সাজানোর পরিকল্পনা করছেন তিনি। আতিকুল ইসলাম সমকালকে জানান, সচল ও আধুনিক ঢাকা গড়তে সর্বশক্তি নিয়োগ করবেন তিনি। ইতিমধ্যেই পরিকল্পণা গ্রহণ শেষ। শুরু হবে বাস্তবায়ন। করোনা পরিস্থিতি মোকাবিলার পাশাপাশি শুরুতেই তার কর্মসূচিতে গুরুত্ব পাবে এডিস মশার নিয়ন্ত্রণ। এরপর রয়েছে জলাবদ্ধতা নিরসন। এ ছাড়া কবরস্থানের জমির ব্যবস্থা করা, উন্মুক্ত খেলার মাঠ, পার্ক তৈরি, নতুন ওয়ার্ডগুলোর আধুনিকায়ন, গণপরিবহন ব্যবস্থায় শৃঙ্খলা ফেরানো, বর্জ্য ব্যবস্থাপনার আধুনিকায়ন, পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম জোরদার, নগরবাসীর সেবাপ্রাপ্তির সহজ করা ও ডিজিটাল নাগরিক সুবিধা নিশ্চিত করা। মূলত নির্বাচনী ইশতেহারে দেওয়া 'সবাই মিলে সবার ঢাকা, সুস্থ সচল আধুনিক ঢাকা'- স্লোগানই তিনি বাস্তবায়ন করতে চান।
আতিকুল ইসলাম সমকালকে জানান, নির্বাচিত হওয়ার পর এতদিন দায়িত্ব না পেলেও তিনি বসে ছিলেন না। প্রতিদিনই কাজ করে গেছেন। করোনার কারণে টোলারবাগ লকডাউন করলে সেখানে গিয়ে মানুষকে খাবার দিয়েছেন। বর্ষায় যাতে জলাবদ্ধতা না হয়, সে জন্য বিভিন্ন খালের অবস্থা দেখে সেগুলোর পানিপ্রবাহ সচল করার ব্যবস্থা করেছেন। এডিস মশার দৌরাত্ম্য যাতে দেখা না দেয়, সে জন্য ব্যবস্থা নিয়েছেন। নিয়মিত সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তা-কর্মচারী ও ভারপ্রাপ্ত মেয়রকে পরামর্শ দিয়েছেন। করোনার কারণে বিপদগ্রস্ত মানুষের মধ্যে খাবার বিতরণ করছেন ব্যক্তিগত তহবিল থেকে।
গত ১ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়নে ডিএনসিসির মেয়র পদে নির্বাচিত হন আতিকুল ইসলাম। এর আগেও তিনি ডিএনসিসির মেয়র ছিলেন। পদত্যাগ করে নির্বাচনে অংশ নেন। এর পরই বিশ্বজুড়ে শুরু হয় করোনাভাইরাসের সংক্রমণ। বাংলাদেশও সেই সংক্রমণ থেকে বাদ যায়নি। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে গত ২৫ মার্চ থেকে সাধারণ ছুটি ঘোষণা করে সবাইকে ঘরে থাকার আহ্বান জানায় সরকার। কর্মহীন হয়ে পড়েন রাজধানীর বিপুলসংখ্যক শ্রমিক ও দিনমজুর। আতিকুল ইসলাম গত ২৫ মার্চ থেকে শুরু করেন অসহায় কর্মহীন মানুষের মধ্যে খাবার সরবরাহ কার্যক্রম। ৬১ হাজার পরিবারকে তিনি খাবার সরবরাহের উদ্যোগ নেন। এরই মধ্যে প্রায় ৫০ হাজার পরিবারকে খাবার সরবরাহ করেছেন। প্রত্যেক পরিবারকে দেওয়া হচ্ছে পাঁচ কেজি চাল, এক কেজি ডাল, দুই কেজি আলু, এক লিটার ভোজ্যতেল ও একটি সাবান। যারা আতিকুল ইসলামের ফেসবুক পেজে বা ব্যক্তিগতভাবে সমস্যার কথা জানাচ্ছেন, তাদের বাসায় এসব খাবার পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। এ জন্য প্রায় ৩০০ জনের একটি স্বেচ্ছাসেবী বাহিনী গড়ে তুলেছেন। প্রথমে বনানীর কামাল আতাতুর্ক এভিনিউর নিজস্ব অফিস থেকে খাবার সরবরাহ কার্যক্রম শুরু করলেও পরে জনসমাগমের বিষয়টি মাথায় রেখে তা বনানী বিদ্যানিকেতনের মাঠে স্থানান্তর করা হয়। যেসব পরিবারের খাবার শেষ হয়ে যাচ্ছে, তাদের আবারও খাবার পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে।
জানা গেছে, গত বছরের মতো যাতে রাজধানীতে ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব দেখা না দেয়, তার জন্য আতিকুল ইসলামের পরামর্শে ১০টি টিম গঠন করা হয়েছে। আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তাদের টিমের প্রধান করা হয়েছে। গত ১০ মে থেকে এসব টিম মাঠে কাজ করছে। কোনো বাসাবাড়িতে এডিস মশার লার্ভা বা মশার প্রজনন উপযোগী পরিবেশ পেলেই জরিমানা করা হচ্ছে। ডিএনসিসিতে যুক্ত হওয়া নতুন ১৮টি ওয়ার্ডও আধুনিকভাবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা করছেন আতিকুল ইসলাম।


আরও পড়ুন

×