ঢাকা শুক্রবার, ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

মার্চ-মে মাসের বিলে জরিমানা লাগছে না ডিপিডিসির শিল্প গ্রাহকদের

মার্চ-মে মাসের বিলে জরিমানা লাগছে না ডিপিডিসির শিল্প গ্রাহকদের
×

সমকাল প্রতিবেদক

প্রকাশ: ২৮ জুন ২০২০ | ১২:২৬

করোনাভাইরাসের কারণে উদ্ভূত পরিস্থিতিতে আবাসিকের মতো বাণিজ্যিক ও শিল্প গ্রাহকদেরও জরিমানা ছাড়া মার্চ, এপ্রিল ও মে মাসের বিল পরিশোধের সুযোগ দিচ্ছে ঢাকা বিদ্যুৎ বিতরণ কোম্পানি (ডিপিডিসি)। সরকারি কোনো নির্দেশনা জারি না হওয়ায় সাময়িকভাবে এই সুবিধা দেওয়া হচ্ছে। পরবর্তীতে সরকারি সিদ্ধান্ত অনুসারে বিল সমন্বয় করা হবে।

রোববার সন্ধ্যায় গ্রাহকদের 'ভুতুড়ে বিল' নিয়ে অনুষ্ঠিত এক ভার্চুয়াল গণশুনানিতে এই কথা বলেছেন ডিপিডিসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী বিকাশ দেওয়ান।

করোনাকালে বিদ্যুতের 'ভুতুড়ে বিল' নিয়ে অতিষ্ঠ গ্রাহক। সংশ্লিষ্ট অফিসে অভিযোগ করলেও সমাধান পাচ্ছে না অনেকেই। সংক্ষুব্ধ এমন গ্রাহকদের জন্য ভার্চুয়াল গণশুনানির আয়োজন করে ডিপিডিসি। শুনানিতে বিল নিয়ে ভোগান্তিতে পড়া গ্রাহকেরা সরাসরি সংস্থার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কাছে নিজেদের সমস্যার কথা তুলে ধরেন। এ সময় ডিপিডিসি কর্তৃপক্ষ তাৎক্ষণিক সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে অভিযোগের সুরাহার নির্দেশ দেয়। 

গণশুনানিতে জানানো হয়, করোনা পরিস্থিতির কারণে অনেক গ্রাহকের বিলে হিসেবের গরমিল হয়েছে। এজন্য কারও অবহেলা থাকলে দায়ীদের দ্রুত শাস্তির আওতায় আনা হবে। রোববার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টা থেকে রাত সাড়ে ৯টা পর্যন্ত অনুষ্ঠিত এই ভার্চুয়াল শুনানিতে সভাপতিত্ব করেন ডিপিডিসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী বিকাশ দেওয়ান। সংস্থাটির নির্বাহী পরিচালক হারুন অর রশিদসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এতে অংশ নেন।

বিকাশ দেওয়ান বলেন, 'করোনা সংক্রমণ রোধে মার্চ ও এপ্রিলে গ্রাহকদের বাসা-বাড়ি গিয়ে সরাসরি মিটার রিডিং নেওয়া সম্ভব হয়নি। গত বছরের একই সময়ের বিদ্যুৎ ব্যবহারের সঙ্গে মিল রেখে একটা গড় বিল দেওয়া হয়েছিল। এরপর মে মাসে সরাসরি মিটার রিডিং নেওয়া হয়েছে। এই প্রক্রিয়ায় কিছু গ্রাহকের বিলের ক্ষেত্রে গড়মিল ঘটেছে। তারা দ্রুত এই সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করছেন।'

তিনি আরও বলেন, 'কিছুদিনের মধ্যে সবার বিল নিয়ে অভিযোগের সুরাহা হবে। বিল গড়মিলে কারও দায় থাকলে তাকে বিভাগীয় শাস্তির আওতায় আনা হবে। এজন্য একটি কমিটি কাজ করছে। এ সপ্তাহের মধ্যে বিষয়টির সুরাহা হবে।'

শুনানিতে অংশ নিয়ে মোহাম্মদপুরের গ্রাহক ইমরুল কায়েস ইমন অভিযোগ করেন, মার্চে তার বিদ্যুৎ বিল এসেছে ৪০০ টাকার বেশি। আর এপ্রিলে বিল পেয়েছেন ৬০০ টাকার বেশি। মে মাসে এই বিল এক লাফে আড়াই হাজার টাকার উপরে ওঠে। দু'বার ডিপিডিসির সংশ্লিষ্ট দপ্তরে অভিযোগ করেছেন। আট দিন পেরিয়ে গেলেও কোনো সাড়া মেলেনি। জাববে বিকাশ দেওয়ান দ্রুত তার অভিযোগের সুরাহার আশ্বাস দেন।

এ সময় নির্বাহী পরিচালক (অপারেশন) হারুন অর রশিদ বলেন, 'মার্চে পর গরম বাড়তে থাকে। এতে বিদ্যুতের ব্যবহার বাড়ে। এবার করোনা পরিস্থিতিতে অধিকাংশ গ্রাহক বাসায় অবস্থান করায় বিদ্যুতের ব্যবহার বেশি হচ্ছে। এ ছাড়া মার্চ থেকে বিদ্যুতের বর্ধিত বিল কার্যকর হয়েছে। সব মিলিয়ে গ্রাহকের বিলের পরিমাণ বেড়েছে। এরপরও করোনা পরিস্থিতিতে মিটির রিডিং না নিয়ে মার্চ ও এপ্রিলের বিল দেওয়ায় কিছু গ্রাহকের বিল কম-বেশি হয়েছে। ১৪ হাজার গ্রাহকের বিল বেশি দেওয়া হয়েছে। ১৬ হাজার গ্রাহকের বিল ব্যবহারের চেয়ে কম হয়েছে। মে মাসে সবার বিল সমন্বয় করে পাঠানো হয়েছে।'

শুনানিতে অংশ নিয়ে নবাবপুর কাপ্তান বাজার এলাকার ব্যবসায়ী খন্দকার রুহুল আমিন আবাসিক গ্রাহকদের মতো বাণিজ্যিক গ্রাহকদের জন্য জরিমানা ছাড়া সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বিল পরিশোধের সুযোগ চান। তিনি বলেন, 'করোনার কারণে তাদের ব্যবসা-বাণিজ্য প্রায় বন্ধের উপক্রম হয়েছে।' 

নারায়ণগঞ্জের শোভন গার্মেন্টেসের মালিক তৌফিকুল ইসলাম শিল্প গ্রাহকদের জন্য অনুরূপ সুবিধার দাবি জানান। জবাবে বিকাশ দেওয়ান বলেন, 'শিল্প ও বাণিজ্যিক গ্রাহকদের বিষয়টি তারা বিবেচনা করছেন। কিন্তু এখনো এ বিষয়ে সরকারি নির্দেশনা মেলেনি। পরবর্তী সরকারি সিদ্ধান্ত অনুসারে তাদের জরিমানার বিষয়টি বিবেচনা করা হবে।' 

আরও পড়ুন

×