ঢাকা বুধবার, ১৫ জুলাই ২০২৬

অঘোষিত লকডাউন পশ্চিম রাজাবাজারেও

অঘোষিত লকডাউন পশ্চিম রাজাবাজারেও
×

রাজধানীর পশ্চিম রাজাবাজারে লকডাউন পালনের জন্য মাইকিং করছেন স্বেচ্ছাসেবীরা সমকাল

ইন্দ্রজিৎ সরকার

প্রকাশ: ২৮ জুন ২০২০ | ১২:০০

করোনার সংক্রমণ রোধে রাজধানীর পূর্ব রাজাবাজারে ২১ দিনের পরীক্ষামূলক লকডাউন শেষ হতে চলল। প্রায় একই সময় ধরে অঘোষিত 'লকডাউন' চলছে পশ্চিম রাজাবাজারেও। পূর্ব অংশের বিধি-ব্যবস্থা অনুসরণ করে একদল স্বেচ্ছাসেবী এলাকার মানুষকে সুরক্ষিত রাখতে এ উদ্যোগ নিয়েছে। তবে তারা মূলত বিকেল ৪টা থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেন। এ সময় দোকানপাট বন্ধ রাখা, জরুরি প্রয়োজন ছাড়া প্রবেশ বা বের হওয়া নিরুৎসাহিত করা, আড্ডা ও অযথা ঘোরাঘুরি করা লোকজনকে বুঝিয়ে ফেরত পাঠানোর মতো কাজ করেন তারা। পাশাপাশি কেউ অসুস্থ হলে হাসপাতালে নেওয়া বা অসহায় মানুষকে মানবিক সহায়তাও তারা দিয়ে যাচ্ছেন। পশ্চিম রাজাবাজারে স্বেচ্ছাসেবায় নিয়োজিত ২০ জনের দলটির সমন্বয়ক রেজাউল হোসাইন রাজ পেশায় ঠিকাদার। তিনি ডিজে হিসেবেও কাজ করেন। করোনার কারণে এখন তার কোনো ব্যস্ততা নেই। এ সুযোগে তিনি এলাকার মানুষের কল্যাণে কাজ শুরু করেছেন। তিনি জানান, করোনাকালের শুরু থেকেই স্থানীয় ২৭ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর ফরিদুর রহমান খান ইরান ও তার একান্ত সচিব মাসুদ হোসেন সুমনের স্বেচ্ছাসেবী দলে কাজ করে আসছেন। ফেসবুকে তাদের ওয়ার্ডের একটি পেজও রয়েছে। সেখানে কেউ কোনো সমস্যার কথা বললে বা সহায়তার আবেদন জানালে দ্রুততম সময়ে তারা সেবা দেওয়ার চেষ্টা করেন। এর মধ্যে পূর্ব রাজাবাজার লকডাউনের সিদ্ধান্ত আসে। এ ক্ষেত্রেও তিনি কাজ শুরু করেন। পাশাপাশি লকডাউনের আওতার বাইরে থাকা পশ্চিম রাজাবাজারের মানুষের সুরক্ষার বিষয়েও ভাবতে থাকেন। দু-তিন দিন পর কাউন্সিলরের অনুমতি নিয়ে পশ্চিম রাজাবাজারের জন্যও একটি স্বেচ্ছাসেবক দল গড়ে তোলেন।
রেজাউল হোসাইন রাজ সমকালকে বলেন, 'স্বেচ্ছাসেবকরা এলাকার বাসিন্দা হওয়ায় সারাদিনই বিভিন্ন সড়কে ঘুরে মানুষের আড্ডা-জটলা ভেঙে দিয়ে তাদের বুঝিয়ে ঘরে ফেরত পাঠান। মাস্ক ছাড়া বাইরে বের হতে দেন না। আর বিকেল ৪টার মধ্যে যেহেতু দোকানপাট বন্ধ রাখার নির্দেশনা আছে, তাই তখন থেকেই শুরু হয় মূল কার্যক্রম। তারা হ্যান্ডমাইকে ঘোষণা দিয়ে সব দোকান বন্ধ করতে বলেন। কেউ আহ্বানে সাড়া না দিলে তাকে প্রশাসনের আদেশের বিষয়ে অবহিত করা হয়। বিকেল-সন্ধ্যাতেই মূলত কিছু মানুষ বিভিন্ন স্থানে আড্ডা দেওয়ার চেষ্টা চালান। তাদেরও বুঝিয়ে ফেরত পাঠানো হয়। বিকেল ৫টার পর মোটামুটি লকডাউনের মতো পরিস্থিতি বিরাজ করে এলাকায়। প্রথম কয়েকদিন অনেকে জিজ্ঞাসা করেছেন, তোমরা কারা? এই এলাকা তো লকডাউন না, তাহলে এত কড়াকড়ি কেন? এ জন্য পরে কাউন্সিলরের কার্যালয় থেকে স্বেচ্ছাসেবকদের পরিচয়পত্র করে দেওয়া হয়। এখন অবশ্য এলাকার মানুষ বেশ সহায়তা করছেন।'
রাজ জানান, আনুষ্ঠানিকভাবে লকডাউন না হওয়ায় তারা সবকিছু নিয়ন্ত্রণ করতে পারেন না। যেমন সন্ধ্যার পর জরুরি প্রয়োজন ছাড়া এলাকায় প্রবেশ বা বের হওয়ার ক্ষেত্রে কার্যত বাধা দেওয়া হয়। কিন্তু কেউ কথা শুনতে না চাইলে কিছু করার থাকে না। বিশেষ করে প্রবেশমুখগুলো খোলা থাকায় কেউ কেউ গাড়ি নিয়ে ঢোকেন বা বের হন, তাদের বাধা দেওয়া সম্ভব হয় না।
আরেক স্বেচ্ছাসেবক রুবেল মাজেদ সমকালকে বলেন, 'পশ্চিম রাজাবাজারে ঢোকার কয়েকটি রাস্তায় স্থায়ী লোহার গেট আছে। সেগুলো বিকেল থেকেই বন্ধ থাকে। কিন্তু কয়েকটি প্রবেশপথে যান বা মানুষ চলাচল ঠেকানোর কোনো সুযোগ নেই। তাই আমরা বিভিন্ন সড়কে রাত ১১টা পর্যন্ত টহল দেই। আর এলাকার মানুষের যে কোনো সমস্যায় যোগাযোগের জন্য ফেসবুক পেজে নম্বর দেওয়া আছে। তেমন কিছু থাকলে স্বেচ্ছাসেবকরা ছুটে যান।'
স্থানীয় ওয়ার্ড কাউন্সিলরের একান্ত সচিব মাসুদ হোসেন সুমন সমকালকে বলেন, 'পশ্চিম রাজাবাজারে আমাদের একদল স্বেচ্ছাসেবক খুব ভালো কাজ করছেন। তারা এলাকাবাসীর সুরক্ষার স্বার্থে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা ও প্রশাসনের নির্দেশনা বাস্তবায়নে সহায়তা করছেন। পূর্ব রাজাবাজারের অভিজ্ঞতা তারা ওখানে কাজে লাগাচ্ছেন। প্রত্যেক এলাকার মানুষ স্বেচ্ছায় এমন উদ্যোগ নিলে করোনাযুদ্ধে জয়ী হওয়া সহজ হবে।'

আরও পড়ুন

×