মিরপুরে যুবক হত্যায় প্রধান আসামি নাজুর জবানবন্দি
টিউবয়েলের পানির ভাগ নিয়ে বিরোধে খুন হন রুবেল
মিরপুরে রুবেল হত্যায় গ্রেপ্তার প্রধান আসামি নাজমুল হাসান নাজু
ইন্দ্রজিৎ সরকার
প্রকাশ: ১৪ জুলাই ২০২০ | ০৬:০৬
রাজধানীর পশ্চিম শেওড়াপাড়া এলাকার ‘মায়াবি ভিলা’ নামে এক বাসার বিভিন্ন ঘরে ভাড়া থাকেন স্বল্প আয়ের কিছু মানুষ। তাদের পানির চাহিদা মেটানোর জন্য সেখানে একটি টিউবয়েল বসানো হয়েছিল। সব ভাড়াটেরা পালা করে কল থেকে খাওয়ার ও গৃহস্থালীর কাজের জন্য পানি নিতেন। এই পানির ভাগাভাগি নিয়েই রুবেলের পরিবারের সঙ্গে প্রতিবেশী নাজমুল হাসান নাজুর পরিবারের বিরোধের সূত্রপাত। দুই পক্ষেরই দাবি, অন্যরা বেশিরভাগ সময় কলতলা দখল করে রাখে, বেশি পানি নেয়। এই তুচ্ছ ঘটনার জের ধরেই ২২ বছরের রুবেলকে ছুরিকাঘাতে হত্যা করা হয়। এ মামলার প্রধান আসামি নাজুর আদালতে দেওয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দির বরাত দিয়ে এসব তথ্য জানিয়েছেন তদন্ত সংশ্লিষ্টরা।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মিরপুর থানার এসআই মেহেদী হাসান সমকালকে বলেন, ৬ জুলাই রাতের এ ঘটনায় নিহত রুবেলের বড় ভাই আকবর বাদী হয়ে আট আসামির বিরুদ্ধে মামলা করেন। ঘটনার রাতেই শহিদ, মাসুদ, ইউসুফ ও সাহাব উদ্দিনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তবে মূল আসামি নাজু পালিয়ে বেড়াচ্ছিল। কিছুতেই তার অবস্থান জানা যাচ্ছিল না। এমনকি মোবাইল ফোনের সূত্র ধরে পুলিশ তার অবস্থান জানতে পারে- এমন আশঙ্কায় সে ফোন ব্যবহার বন্ধ করে দেয়। তবে শেষ পর্যন্ত প্রযুক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহার করেই তার কাছে পৌঁছে যায় পুলিশ। গত ৯ জুলাই নোয়াখালীর চরজব্বার থানার সুবর্ণচর থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তার অভিযানের বিষয়ে তদন্ত কর্মকর্তা জানান, তদন্তের শুরুতেই নাজুর সম্পৃক্ততার বিষয়ে মোটামুটি নিশ্চিত হওয়া যায়। তবে তার অবস্থান সম্পর্কে কোনো তথ্য পাওয়া যাচ্ছিল না। এ পর্যায়ে মিরপুর থানার ওসি মোস্তাজিরুর রহমানসহ অন্যান্য উর্ধ্বতন কর্মকর্তার নির্দেশনায় কৌশলে তদন্ত এগিয়ে নেওয়া হয়। মোবাইল ফোন বন্ধ করে ফেলার আগে নাজু কথা বলেছে- এমন চার শতাধিক মোবাইল ফোন নম্বরের সূত্র ধরে প্রযুক্তিগত তদন্ত চলতে থাকে। দেখা যায়, তাদের পাঁচ-ছয়জনের সঙ্গে অন্য নম্বর থেকে তখনও নাজু যোগাযোগ করে চলছিল। এরপর সেই নম্বরের সূত্র ধরে নোয়াখালীর সুবর্ণচরে যায় পুলিশ। সেখানে বৃষ্টির মধ্যে সারারাত একটি এলাকা ঘিরে রেখে ধীরে ধীরে টার্গেট স্থানটি শনাক্ত করা সম্ভব হয়। ধরা পড়ে নাজু। প্রথমে পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে সে হত্যার দায় স্বীকার করে। পরে সে আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেয়।
তদন্ত সূত্র জানায়, ছোটখাটো বিষয় নিয়ে প্রায়ই রুবেল ও নাজুর পরিবারের সদস্যদের মধ্যে বাকবিতণ্ডা হতো। নাজুর ভাই শহিদ মাদকাসক্ত এবং চুরির সঙ্গে জড়িত। হত্যাকাণ্ডের একদিন আগে তাকে চুরি করতে দেখে ফেলেন রুবেলের মা আছিয়া বেগম। পরদিন কলতলায় পানির ভাগাভাগি নিয়ে দুই পরিবারের ঝগড়া বাঁধলে আছিয়া রেগে গিয়ে শহিদকে ‘চোর’ বলেন। এতে শহিদের মা কহিনুর বেগম প্রচণ্ড ক্ষেপে যান। তিনি ছেলেকে নির্দোষ দাবি করেন এবং কেউ কোনো অভিযোগ করলে তার খোয়া যাওয়া জিনিস কিনে দেবেন বলেও জানান। এ পর্যায়ে প্রথমে দুই পরিবারের সদস্যরা মারামারিতে জড়ায়। এতে উভয়পক্ষের কয়েকজন আহত হন। এরমধ্যে নাজু ছুরি নিয়ে রুবেলের ওপর হামলা চালায়। রক্তাক্ত অবস্থায় তাকে শহীদ সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
- বিষয় :
- যুবক হত্যা
- মিরপুর
- জবানবন্দি