বর্ষা-মাহিরের প্রেমের বলি ছাত্রদল নেতা জোবায়েদ: পুলিশ
জোবায়েদ হোসাইন
ইমরান হুসাইন
প্রকাশ: ২০ অক্টোবর ২০২৫ | ০৯:০৯ | আপডেট: ২০ অক্টোবর ২০২৫ | ১৫:৩০
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও ছাত্রদল নেতা জোবায়েদ হোসাইনের খুনের ঘটনায় উঠে এসেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য। পুলিশ জানিয়েছে, ছাত্রী বার্জিস শাবনাম বর্ষা ও তার সাবেক প্রেমিক মাহির রহমানের প্রেমের জেরে খুন হয়েছেন জোবায়েদ। তবে এই খুনের বিষয়ে বর্ষা কিছু জানেন না বলে পুলিশের কাছে দাবি করেছেন।
আজ সোমবার সকালে বংশাল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রফিকুল ইসলাম বর্ষাকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে সমকালকে এসব তথ্য জানান।
ওসি রফিকুল ইসলাম জানান, বর্ষার সঙ্গে মাহির রহমানের ৯ বছরের প্রেমের সম্পর্ক ছিল। মাহির পড়েন বোরহান উদ্দীন কলেজে প্রথম বর্ষে। আর বর্ষা পড়েন ঢাকা মহানগর মহিলা কলেজে দ্বিতীয় বর্ষে। ঢাকায় পাশাপাশি বাড়িতে তারা বেড়ে উঠেন। চতুর্থ শ্রেণি থেকে একে অপরকে পছন্দ করেন। কিন্তু তাদের সম্পর্কে টানাপোড়েন চলছিল এবং কিছুদিন আগে সম্পর্ক ভেঙে যায়।
ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম বলেন, 'বর্ষা কিছুদিন আগে মাহিরকে জানান যে, তিনি জোবায়েদকে পছন্দ করেন; কিন্তু পছন্দের কথা তাকে জানাননি। জোবায়েদের সঙ্গে হয়তো বর্ষার প্রেমের সম্পর্ক ছিল না। তবুও বর্ষার কথার ওপর ভিত্তি করে রাগে ক্ষোভে মাহির তার বন্ধুকে নিয়ে জোবায়েদকে খুন করেন। মূলত এটা প্রেমের সম্পর্ক নিয়ে খুন। বর্ষা-মাহিরের প্রেমের বলি জোবায়েদ। '
বর্ষার মধ্যে এখন কোনো হতাশা বা অনুশোচনা নেই জানিয়ে ওসি আরও বলেন, 'তার চেহারায় কান্নার ছাপও পাওয়া যায়নি। জিজ্ঞাসাবাদের সময়ও বর্ষার মধ্যে কোনো নার্ভাসনেস দেখা যায়নি। শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত বর্ষাকে চিন্তামুক্ত দেখা গেছে। আমরা আরও তদন্ত করব। তারপর আনুষ্ঠানিক বিস্তারিত জানানো হবে।'
জোবায়েদ হোসাইন বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০১৯- ২০ শিক্ষাবর্ষের পরিসংখ্যান বিভাগের শিক্ষার্থী ছিলেন। একইসঙ্গে তিনি বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক সদস্য ও কুমিল্লা জেলা ছাত্রকল্যাণ সমিতির সভাপতি ছিলেন। এক বছর ধরে তিনি পুরান ঢাকার আরমানিটোলার ১৫, নুরবক্স লেনে 'রৌশান ভিলা' নামের বাসায় মো. গিয়াসউদ্দিনের মেয়ে বর্ষাকে পদার্থ বিজ্ঞান, রসায়ন ও জীব বিজ্ঞান পড়াতেন।
পুলিশ জানিয়েছে, রোববার বিকেল ৪টা ৪৫ মিনিটের দিকে 'রৌশান ভিলা'য় খুন হন জোবায়েদ হোসাইন। বাসার তিনতলা থেকে নিচতলা পর্যন্ত সিঁড়িতে রক্ত পড়ে ছিল। পুলিশ পরে সেখান থেকে জোবায়েদের মরদেহ উদ্ধার করে।
পরে রাতে খুনিদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবিতে বংশাল থানার সামনে আগুন জ্বালিয়ে বিক্ষোভ করেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। পাশাপাশি তারা তাঁতিবাজার মোড় অবরোধ করেন। রাত ১১টার দিকে বর্ষাকে হেফাজতে নেয় পুলিশ। জিজ্ঞাসাবাদের পর পুলিশ তাকে থানা হেফাজতে রাখে।
হয়নি মামলা
জোবায়েদ খুনের ঘটনায় এখনও মামলা হয়নি। অভিযুক্ত মাহির রহমান ও তার বন্ধুকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ। তবে বংশাল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম জানিয়েছেন অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।
- বিষয় :
- জবি ছাত্রদল
- জবি
