ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

আমতলা ও আজিমপুরে অন্যরকম একুশ

আমতলা ও আজিমপুরে অন্যরকম একুশ
×

দ্রোহী তারা

প্রকাশ: ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | ০৮:৫১ | আপডেট: ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | ১০:১১

| প্রিন্ট সংস্করণ

একুশে ফেব্রুয়ারি মানেই বাঙালির আবেগ, আত্মপরিচয়ের শিকড় আর চেতনার মহামিলন। ২০২৬ সালের একুশের ভোরেও এর ব্যত্যয় ঘটেনি। হাতে লাল-হলুদ গাঁদা আর গোলাপের স্তবক, গালে আঁকা শহীদ মিনার কিংবা লাল-সবুজ পতাকা নিয়ে ঢল নেমেছিল কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার পানে। পাশাপাশি ঐতিহাসিক আমতলা এবং আজিমপুর গোরস্তানেও কিছু মানুষকে দেখা গেছে।

ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের (ঢামেক) ঐতিহাসিক আমতলার গেটের কাছে দেখা যায়, এক আবেগঘন দৃশ্য। অনেক অভিভাবক তাদের সন্তানদের নিয়ে দাঁড়িয়ে আছেন সেখানে। আঙুল উঁচিয়ে দেখাচ্ছেন আর শোনাচ্ছেন, বায়ান্নর রক্তঝরা ইতিহাসের কথা।

মিরপুর থেকে সাত বছরের ছেলে অয়নকে নিয়ে আসা বেসরকারি ব্যাংক কর্মকর্তা শফিকুল ইসলাম বলেন, এই মেডিকেলের গেটেই তো বায়ান্নতে আমাদের দামাল ছেলেরা বুকের রক্ত দিয়েছিল। ছেলেকে আজ এখানে নিয়ে এসেছি শুধু ফুল দিতে নয়, ইতিহাসটা চেনাতে।

কিছু মানুষ শহীদ মিনারে ফুল দেওয়া শেষে ছুটে যায় আজিমপুর কবরস্থানের দিকে। সেখানে চিরনিদ্রায় শায়িত আছেন ভাষাশহীদ আবুল বরকত, শফিউর রহমান ও আবদুল জব্বার। তাদের কবর জিয়ারত করে চোখের পানি ফেলেন অনেকে। একই সঙ্গে দর্শনার্থীরা শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করেন এবং জিয়ারত করেন কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের মূল নকশাকার শিল্পী হামিদুর রহমানের কবরও। সেখানে কথা হয় ষাটোর্ধ্ব স্কুলশিক্ষক রহমত উল্লাহর সঙ্গে। তিনি বলেন, যাদের বুকের তাজা রক্তে আজ আমরা প্রাণ খুলে বাংলায় কথা বলছি, তাদের কাছে এসে একটু দোয়া না করলে একুশের দিনটি অসম্পূর্ণ থেকে যায়। 

বইমেলাহীন প্রাঙ্গণ
সকালের উপচেপড়া ভিড়, আবেগ আর শ্রদ্ধা নিবেদনের দৃশ্য যেন দুপুরের পর একেবারে ম্লান হয়ে যায়। প্রতি বছর একুশে ফেব্রুয়ারির ভোরে শহীদ মিনারে ফুল দিয়ে আর আজিমপুর কবরস্থান থেকে মানুষের গন্তব্য থাকে অমর একুশে বইমেলা। শহীদ মিনারের শোক আর বইমেলা মিলেমিশে একাকার হয়ে যায়। একুশে ফেব্রুয়ারির দুপুর ও বিকেল কাটে নতুন বইয়ের ঘ্রাণ আর লেখক-পাঠকের আড্ডায়। আগামী ২৫ ফেব্রুয়ারি বইমেলা শুরু। তাই, এবার চিত্রটা ভিন্ন।

বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণ এবং সোহরাওয়ার্দী উদ্যান যেন ধু ধু প্রান্তর। নেই স্টলের সারি, নেই নতুন বইয়ের মলাট উল্টানোর শব্দ, নেই দর্শনার্থীদের কোলাহল। মেলা না থাকায় পুরো এলাকার দৃশ্যপট জনশূন্য ও নিষ্প্রাণ। একুশের চেতনার সঙ্গে বইমেলার যে চিরায়ত মেলবন্ধন বাঙালি বছরের পর বছর দেখে অভ্যস্ত, তার ছেদ নগরবাসীকে হতাশ করেছে।

এ বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি এলাকায় শিক্ষার্থী সাদিয়া আফরিন বলেন, আজ মেলাটা নেই, এলাকাটা কেমন খাঁ খাঁ করছে। মনে হচ্ছে, একুশের উদযাপনে আজ বড় একটা শূন্যতা রয়ে গেল। শহীদ মিনারে ফুল দেওয়ার পর কোথাও যাওয়ার জায়গা নেই।

আরও পড়ুন

×