ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

গৃহকর্মী সেজে বাসায় ঢুকে একের পর এক চুরি

গৃহকর্মী সেজে বাসায় ঢুকে একের পর এক চুরি
×

গ্রেপ্তার বিলকিস বেগম

সমকাল প্রতিবেদক

প্রকাশ: ২৭ এপ্রিল ২০২৬ | ২২:০৬

রাজধানীর উত্তরায় চেতনানাশক খাইয়ে একাধিক চুরির ঘটনায় জড়িত বিলকিস বেগমকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। জিজ্ঞাসাবাদে সে নিজের অপরাধ স্বীকার করে আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে।

এ বিষয়ে বিস্তারিত জানাতে আজ সোমবার রাজধানীর পশ্চিম আগারগাঁওয়ে পিবিআই-ঢাকা মহানগর উত্তর কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করা হয়। এতে ইউনিটের ইনচার্জ অতিরিক্ত ডিআইজি এনায়েত হোসেন মান্নান বলেন, গত ১৭ ফেব্রুয়ারি উত্তরা পশ্চিম থানা এলাকায় গৃহকর্মী সেজে বাসায় ঢুকে মালিককে নেশা জাতীয় দ্রব্য খাইয়ে হত্যা করে নগদ অর্থ ও স্বর্ণালংকার নিয়ে পালিয়ে যায় এক নারী। এ ঘটনার সঙ্গে আগের একটি ঘটনার কৌশলগত মিল পেয়ে তদন্তে নামে পিবিআই। ২০২৫ সালের ১৩ আগস্ট উত্তরা-৪ নম্বর সেক্টরের এক বাসায় গৃহকর্মীর কাজের জন্য যায় এক নারী। পরে গৃহকর্তা ও তাঁর স্ত্রী কর্মস্থলে গেলে বাসায় থাকা বৃদ্ধা রওশনআরা বেগমকে নাশতার সঙ্গে চেতনানাশক মিশিয়ে খাইয়ে অচেতন করে। এরপর বৃদ্ধার স্বর্ণালংকার ও নগদ টাকা নিয়ে পালিয়ে যায়। এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর ছেলে ইবনুল আলম পলাশ বাদী হয়ে উত্তরা পূর্ব থানায় মামলা করেন। থানা পুলিশ দীর্ঘদিন তদন্ত করেও আসামিকে শনাক্ত করতে না পারায় চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করে। আদালত অধিকতর তদন্তের জন্য পিবিআইকে নির্দেশ দেন। পরে পিবিআই- ঢাকা মহানগর উত্তর ইউনিট মামলা তদন্তের দায়িত্ব নেয়।

পিবিআইর এ কর্মকর্তা জানান, তদন্ত কর্মকর্তা এসআই ফিরোজ আহমেদ মুন্সীর নেতৃত্বে একটি দল তথ্যপ্রযুক্তি ও সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে বিলকিস বেগমকে শনাক্ত করে। আগের একটি হত্যা মামলায় সে কারাগারে ছিল। তাকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে রিমান্ড আবেদন করলে ১৯ এপ্রিল আদালত চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। ২২ এপ্রিল জিজ্ঞাসাবাদে সে ঘটনায় জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে। তার দেওয়া তথ্যে গাজীপুরে অভিযান চালিয়ে শহরবানু নামে এক নারীর সন্ধান পাওয়া যায়। সেই সঙ্গে একটি জুয়েলারি দোকান থেকে চুরি হওয়া স্বর্ণ বিক্রির সত্যতা মেলে। এ ঘটনায় শহরবানু ও জুয়েলারি ব্যবসায়ী গোবিন্দ ঘোষ এবং রূপা সরকার সাক্ষী হিসেবে আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন। 

পিবিআইর তদন্ত ও স্বীকারোক্তি অনুযায়ী, বিলকিস বেগম ভুয়া পরিচয়ে গৃহকর্মী হিসেবে কাজ নেয়। পরে সুযোগ বুঝে নাশতার সঙ্গে চেতনানাশক মিশিয়ে খাইয়ে অচেতন করে স্বর্ণালংকার ও নগদ অর্থ নিয়ে পালিয়ে যায়। গাজীপুরে পরিচিতদের মাধ্যমে চোরাই মালপত্র বিক্রি করে সে।

আরও পড়ুন

×