ব্রাইট স্কুল অ্যান্ড কলেজ
দনিয়ায় ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ভাঙচুর, চেয়ারম্যান অবরুদ্ধ
চেয়ারম্যানের বকুনিতে ছাত্রীর আত্মহননের অভিযোগ
সমকাল প্রতিবেদক
প্রকাশ: ২২ মে ২০২৬ | ০৮:২৫
| প্রিন্ট সংস্করণ
রাজধানীর কদমতলীর দনিয়ায় ব্রাইট স্কুল অ্যান্ড কলেজের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী সাবিকুন নাহারের (১৬) ‘আত্মহত্যা’র ঘটনায় গতকাল বৃহস্পতিবার বিক্ষোভ করেছে শিক্ষার্থীরা। তাদের অভিযোগ, প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান মাসুদ হাসান লিটনের বকুনিতে অতিষ্ঠ হয়ে আত্মহত্যা করে ওই শিক্ষার্থী। এ জন্য দায়ীদের কঠোর শাস্তির দাবি জানায় তারা। বিক্ষোভ চলাকালে চেয়ারম্যানকে অবরুদ্ধ করা হয়। পরে বিকেলে পুলিশ তাকে উদ্ধার করতে গেলে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে।
পুলিশ সূত্র জানায়, ব্রাইট স্কুলের মানবিক শাখার শিক্ষার্থী ছিল সাবিকুন নাহার। সে পরিবারের সঙ্গে দনিয়ার নাসির উদ্দিন সড়কের বাসায় থাকত। গত বুধবার সে নিজের
বাসায় গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করে। পরিবার এ নিয়ে কোনো অভিযোগ করেনি। তাদের অনুরোধে ময়নাতদন্ত ছাড়াই লাশ হস্তান্তর করা হয়। এ ঘটনায় একটি অস্বাভাবিক মৃত্যু (ইউডি) মামলা হয়েছে। সাবিকুনের গ্রামের বাড়ি নরসিংদীতে। সেখানেই তাকে দাফন করা হয়েছে।
এদিকে সহপাঠীর মৃত্যুর কথা জানতে পেরে গতকাল সকাল ১০টা থেকে ব্রাইট স্কুল অ্যান্ড কলেজের পুরোনো ও নতুন ভবনের সামনে বিক্ষোভ শুরু করেন শিক্ষার্থীরা। তাদের সঙ্গে অন্য প্রতিষ্ঠানের কিছু শিক্ষার্থী ও এলাকাবাসীও অংশ নেন। এ সময় তারা স্কুলের চেয়ারম্যান মাসুদ হাসান লিটন ও অধ্যক্ষ মাঈদুল হাসান রানার বিচারের দাবি জানান।
তারা স্লোগান দেন– ‘সাবিকুন নাহার মরলো কেন, লিটন তুই জবাব দে’; ‘লিটনের বিচার চাই’; ‘আমার বোনকে মারলি কেন?’; ‘সাবিকুন হত্যার বিচার চাই, লিটনের বিচার চাই’ ইত্যাদি। একপর্যায়ে স্কুল ভবনে ভাঙচুর চালান ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা।
তাদের অভিযোগ, স্কুলের চেয়ারম্যান ওই ছাত্রীকে বুধবার পরীক্ষার হল থেকে ডেকে নিয়ে বকুনি দেন ও গালাগাল করেন। পরে তার মাকে স্কুলে ডেকে পাঠানো হয়। এ ঘটনায় তার মা বিরক্ত হয়ে মেয়েকে আরেক দফা বকুনি দেয়। এসব কারণে লজ্জায় সাবিকুন নাহার আত্মহত্যা করে।
আন্দোলনরত এক শিক্ষার্থী বলে, মেয়েদের খুবই আজেবাজে কথা বলেন চেয়ারম্যান। এটা ইভ টিজিংয়ের পর্যায়ে পড়ে।
আরেক শিক্ষার্থী বলে, সে (সাবিকুন) পরীক্ষায় নকল করেনি, অন্যের খাতা দেখেও লিখছিল না। তারপরও চেয়ারম্যান তাকে ডেকে নিয়ে গালাগাল করেন। তাঁর কারণে মেয়েটি আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছে।
এদিকে বিকেল ৪টার দিকে অবরুদ্ধ থাকা স্কুলের চেয়ারম্যানকে পুলিশ পাহারায় ভবন থেকে বের করে নেওয়ার সময় আবার উত্তেজনা দেখা দেয়। আন্দোলনকারীরা পুলিশের কাছে থেকে চেয়ারম্যানকে ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা চালায়। এ সময় ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ায় অন্তত ১০ জন আহত হন।
এর আগে স্কুলের চেয়ারম্যান মাসুদ হাসান লিটন সাংবাদিকদের কাছে দাবি করেন, সাবিকুন নাহার পড়ালেখায় অমনোযোগী ছিল, পরীক্ষার হলেও সে শৃঙ্খলা ভঙ্গ করে। বিষয়টি শিক্ষকদের নজরে এলে তারা আমাকে জানান। আমি শিক্ষার্থীর মাকে স্কুলে ডেকে পরীক্ষার হলের বিষয়টি জানাই। বাসায় মা-মেয়ে একসঙ্গে যাওয়ার পর তার মা হয়তো শাসন করেছে। তাই সে গলায় ফাঁস দেয়।
কদমতলী থানার ওসি শেখ মোহাম্মদ আশরাফুজ্জামান সমকালকে বলেন, মেয়েটি আত্মহত্যা করেছে বলে পুলিশকে জানায় পরিবার। এ ঘটনায় তারা কোনো
অভিযোগ করেনি।
মেয়েটির বাবা খলিলুর রহমান বলেন, মায়ের বকুনির কারণে মেয়ে আত্মহত্যা করেছে। সহপাঠীরা গতকাল সকাল থেকে বিক্ষোভ শুরু করে। তাদের বোঝানোর চেষ্টা করা হলেও শান্ত করা যায়নি। হয়তো নানা কারণে প্রতিষ্ঠানটির ওপর অনেকের ক্ষোভ আছে। ঘটনাস্থলে বাড়তি পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
- বিষয় :
- ভাঙচুর
