কড়াইল বস্তির টিনশেড ঘরে মজুদ ছিল শিশা সেবনের বিপুল সরঞ্জাম
প্রতীকী ছবি
সমকাল প্রতিবেদক
প্রকাশ: ২২ মে ২০২৬ | ১৯:৫০
রাজধানীর বনানীর কড়াইল বস্তি ও খিলক্ষেত এলাকায় পৃথক অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ অবৈধ শিশা, হুক্কা সামগ্রী ও গাঁজা জব্দ করেছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (ডিএনসি)। এ সময় জড়িত ছয়জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ডিএনসি বলছে, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর চোখে ধুলো দিতে বস্তির ঘরে মজুদ করা হয়েছিল শিশা সেবনের সরঞ্জাম।
এ বিষয়ে বিস্তারিত জানাতে আজ শুক্রবার বিকেলে রাজধানীর তেজগাঁও শিল্পাঞ্চলে ডিএনসি মহানগর উত্তর কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। এতে ডিএনসির পরিচালক (অপারেশন) বশির আহমেদ বলেন, ডিএনসি মহানগর উত্তর কার্যালয়ের উপ-পরিচালক শামীম আহম্মেদের নেতৃত্বে বৃহস্পতিবার প্রথম অভিযান চালানো হয় বনানীর কড়াইল বস্তির বিটিসিএল কলোনি এলাকায়। সেখানে একটি টিনশেড বাসা থেকে ২০ কেজি অবৈধ শিশা, ৩৪টি হুক্কা সেট, ৭৪টি মাটির কল্কি, ৪ কেজি কয়লা ও একটি মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়। অভিযানে জাহানারা বেগম ও শাহীন রাড়ী নামে দু’জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ ঘটনায় বনানী থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা করা হয়েছে। তাতে শিশা বার ‘এক্সোটিক লাউঞ্জ’র মালিক শরীফ আল জাওয়াদকে পলাতক আসামি হিসেবে দেখানো হয়েছে।
তিনি আরও জানান, কড়াইল বস্তির ওই বাসা ব্যবহার করে শিশা সেবনের উপকরণ সংরক্ষণ করা হতো। সেগুলো পরবর্তীতে বনানী ১১ নম্বর সড়কের একটি বহুতল ভবনে অবস্থিত লাউঞ্জে সরবরাহ করা হতো। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজর এড়াতে এভাবেই একটি চক্র দীর্ঘদিন ধরে অবৈধ শিশা ব্যবসা পরিচালনা করে আসছিল।
এদিকে ওই অভিযানের ধারাবাহিকতায় গুলশান সার্কেল পরিদর্শক এমদাদুল হক খানের নেতৃত্বে খিলক্ষেত বাসস্ট্যান্ড এলাকায় একটি বাসে তল্লাশি চালিয়ে ১৮ কেজি গাঁজা উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় দেলোয়ার হোসেন, ইরন মিয়া, মো. ইয়াছিন ও আলেয়া বেগম নামে চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
ডিএনসি কর্মকর্তারা জানান, কড়াইল ও বনানী এলাকার অবৈধ শিশা বারকে লক্ষ্য করে নিয়মিত অভিযান চালানো হচ্ছে। অবৈধ শিশা বার সম্পূর্ণ নির্মূল না হওয়া পর্যন্ত অভিযান অব্যাহত থাকবে। একইসঙ্গে মাদক পরিবহন ও সরবরাহ চক্রের বিরুদ্ধে অভিযান আরও জোরদার করা হয়েছে।
- বিষয় :
- রাজধানী
