ঢাকা সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬

নিরাপত্তায় ছিল ২ হাজার পুলিশ

নয়াদিল্লিতে ‘আরশোলা’দের বিক্ষোভ

শিক্ষামন্ত্রী পদত্যাগ না করলে ভারতজুড়ে আন্দোলন

নয়াদিল্লিতে ‘আরশোলা’দের বিক্ষোভ
×

ভারতের নয়াদিল্লির সমাবেশস্থল যন্তর মন্তরে গতকাল শনিবার বিক্ষোভে যোগ দেন ককরোচ জনতা পার্টির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে (মাঝে)। সর্বভারতীয় বিভিন্ন পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস কেলেঙ্কারির জন্য কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ দাবিতে বিক্ষোভ শুরু করেছে তেলাপোকার

সমকাল ডেস্ক

প্রকাশ: ০৭ জুন ২০২৬ | ০৮:২৮

| প্রিন্ট সংস্করণ

ভারতের নয়াদিল্লিতে গতকাল শনিবার কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে বিক্ষোভ করেছে ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)। পূর্ব ঘোষণা অনুসারে, আন্দোলনে উপস্থিত ছিলেন সিজেপির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে। এতে অংশ নেন লাদাখের প্রখ্যাত অধিকারকর্মী সোনাম ওয়াংচুক। 

বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানায়, এবারই প্রথম ভারতের তরুণদের এই আন্দোলন সামাজিক মাধ্যমের গণ্ডি পেরিয়ে রাজপথে এলো। ৩০ বছর বয়সী দীপকে ককরোচ জনতা পার্টি গড়ে তোলার পর এবারই প্রথম ভারতে পা রাখলেন। দেশে ফিরে দিল্লি বিমানবন্দর ত্যাগ করার সময় গতকাল তাঁর কাছে ভারতের সংবিধানের একটি কপি দেখা যায়।

নয়াদিল্লির যন্তর মন্তরে শত শত বিক্ষোভকারী জড়ো হন। এই সমাবেশকে কেন্দ্র করে পুলিশ আশপাশে বেশ কিছু সড়কে ব্যারিকেড দিয়েছিল। আন্দোলন সামলাতে দুই হাজার পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছিল বলে এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি। বিক্ষোভকারীরা শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে স্লোগান দেন। অভিজিৎ দীপকে সংক্ষিপ্ত ভাষণে বলেন, দেশের যুবসমাজ আর ভয় পাবে না। তারা লড়বে। ককরোচ (তেলাপোকা) ভয় পায় না, মরেও না। এ ছাড়া শিক্ষামন্ত্রী পদত্যাগ না করলে ভারতজুড়ে আন্দোলন হবে বলেও গতকাল ঘোষণা দেওয়া হয় সমাবেশ থেকে। বলা হয়, আবারও ১৩ জুন যন্তর মন্তরে বিক্ষোভের আয়োজন করা হবে। 

মূলত একাধিক প্রশ্ন ফাঁসের ঘটনা, শিক্ষার্থীদের নম্বর মূল্যায়নে ত্রুটি, মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষা নিট-ইউজি বাতিল ইত্যাদি ইস্যুতে ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ দাবি করছে ককরোচ জনতা পার্টি। 
প্রতিবাদস্থলে দীপকে বলেন, ‘হাজার হাজার শিক্ষার্থী মাত্র কয়েক দিনের মধ্যে এ আন্দোলনে যুক্ত হয়েছেন। ককরোচ জনতা পার্টি কোনো পরিকল্পিত রাজনৈতিক দল নয়। এটি সরকারের ওপর ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীদের একটি কণ্ঠস্বর। 

নরেন্দ্র মোদি সরকার ককরোচ জনতা পার্টির সামাজিক মাধ্যম এক্স অ্যাকাউন্ট ব্লক করে দিয়েছে। এটি নিয়েও জোর সমালোচনা শুরু হয়েছে। দিল্লির  আদালতে বিষয়টিকে চ্যালেঞ্জ জানিয়েছে দলটি। 
এর আগে ভারতের মন্ত্রিসভার জ্যেষ্ঠ মন্ত্রী কিরেন রিজিজু অভিযোগ করেছিলেন, ককরোচ জনতা পার্টির বেশির ভাগ অনুসারী পাকিস্তান থেকে এসেছে এবং তারা ‘ভারতবিরোধী গোষ্ঠী’। এর আগেও ক্ষমতাসীন ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) নেতৃস্থানীয়রা কোনো কিছুকে দেশপ্রেমহীন বলে মনে করলে ভারতবিরোধী গোষ্ঠীর তকমা দিয়েছেন।

রিজিজুর ওই মন্তব্যের পর দীপকে ককরোচ জনতা পার্টির অনুসারীদের বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরেন। তিনি জানান, ইনস্টাগ্রামে তাদের অনুসারীর ৯৫ শতাংশ ভারতের অ্যাকাউন্ট। এর পরে সবচেয়ে বেশি অনুসারী রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রে। দলটির ইনস্টাগ্রামে দুই কোটি ২০ লাখেরও বেশি অনুসারী আছে। 

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, দলটির জনপ্রিয়তা মোদির ভাবমূর্তিতে প্রভাব ফেলতে শুরু করেছে। সাম্প্রতিক সময়ে ভারতের কয়েকটি রাজ্যে নির্বাচনে বিজেপি জয়ের দেখা পেলেও ভারতের অনেকের মধ্যেই যে ক্ষোভ বাড়ছে, তা স্পষ্ট হয় নতুন দলের প্রতি মানুষের আগ্রহের মধ্য দিয়ে। ভারতীয়রা তেলের দাম, গ্যাসের সংকটসহ নানা ইস্যু নিয়ে ক্ষুব্ধ। 
ভারতে ১৫-২৯ বছর বয়সী আছে প্রায় ৪০ কোটি।  নগরের তরুণদের মধ্যে বেকারত্বের হার গত এপ্রিলে ছিল প্রায় ১৪ শতাংশ। 

আরও পড়ুন

×