খাদ্যে বিষক্রিয়ায় বেশি আক্রান্ত হচ্ছে শিশুরা: খাদ্য প্রতিমন্ত্রী
২০২৫–২৬ অর্থবছরের ফেলোশিপের ইনসেপশন সেমিনার ও অনুদানের চেক বিতরণ অনুষ্ঠানে খাদ্য প্রতিমন্ত্রী।
সমকাল প্রতিবেদক
প্রকাশ: ২৩ মে ২০২৬ | ১৯:০৪
খাদ্যে বিষক্রিয়ায় দেশে সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত হচ্ছে শিশুরা বলে জানিয়েছেন খাদ্য ও জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী মো. আব্দুল বারী। তিনি বলেন, ‘খাদ্যদ্রব্যে অনিরাপদ উপাদান ও মাত্রাতিরিক্ত কীটনাশক ব্যবহারের কারণেই এ পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে। একই সঙ্গে নিরাপদ খাদ্যের ঘাটতির কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে খাদ্যপণ্য রপ্তানির সুযোগ থেকেও বঞ্চিত হচ্ছে বাংলাদেশ।’
শনিবার রাজধানীর বিএফএসএ কার্যালয়ে বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের ফেলোশিপ কার্যক্রমের আওতায় ২০২৫–২৬ অর্থবছরের ফেলোশিপের ইনসেপশন সেমিনার ও অনুদানের চেক বিতরণ অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘শাক-সবজি ও ফলমূলে সীমাহীন কীটনাশক ব্যবহার করা হচ্ছে। যেখানে এক কেজি কীটনাশকের প্রয়োজন, সেখানে তিন কেজি ব্যবহার করা হচ্ছে। আমে এমন কীটনাশক দেওয়া হয়, যা পাকার সময় বাড়িয়ে দেয়। পাবদা মাছ ও শসাতেও নিয়মিত স্প্রে করা হয়।’
তিনি বলেন, ‘খাদ্যে ভেজাল এখন সারা বিশ্বের সমস্যা হলেও বাংলাদেশে এটি আরও ভয়াবহ। ২০ বছর আগেও এত ক্যান্সার ছিল না। এখন ক্যান্সারের প্রকোপ বেড়েছে। খাদ্যে বিষক্রিয়ায় শিশুরা বেশি আক্রান্ত হচ্ছে। চিকিৎসায় বিপুল অর্থ ব্যয় হচ্ছে। তাই অধিক রাসায়নিক সার ও কীটনাশকের পরিবর্তে জৈব সারের ব্যবহার বাড়াতে হবে।’
রপ্তানি প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘বিভিন্ন দেশে খাদ্যপণ্য ও প্রক্রিয়াজাত খাবার রপ্তানির সুযোগ থাকলেও খাদ্যের বিশুদ্ধতার অভাবে বাংলাদেশ সেই বাজারে প্রবেশ করতে পারছে না। কারণ আন্তর্জাতিক বাজারে কঠোর মানদণ্ড মেনে নিরাপদ খাদ্য উৎপাদন করতে হয়।’
দীর্ঘদিনের অপশাসন ও দুর্নীতির কারণে সমাজ অসুস্থ হয়ে পড়েছে মন্তব্য করে তিনি বলেন, ‘এ অবস্থা থেকে বেরিয়ে আসতে হলে আইনের কঠোর প্রয়োগ নিশ্চিত করতে হবে।’
খাদ্য সচিব আবু তাহের মো. মাসুদ রানা বলেন, ‘খাদ্যে ভেজাল এখন নীরব ঘাতক হিসেবে কাজ করছে। খাদ্যের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা ছাড়া জাতিকে রক্ষার অন্য কোনো পথ নেই। গবেষণায় বাজেটের সীমাবদ্ধতা থাকলেও তা দূর করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।’
বিএফএসএর চেয়ারম্যান (অতিরিক্ত দায়িত্ব) আনোয়ারুল ইসলাম সরকার বলেন, ‘ফেলোশিপের অধিকাংশ গবেষণাই খাদ্য নিরাপত্তা সংশ্লিষ্ট বিষয়ে হবে। ভবিষ্যতে গবেষণার জন্য আরও বেশি বাজেট বরাদ্দ প্রয়োজন।’
অনুষ্ঠানে জানানো হয়, নিরাপদ খাদ্য খাতে গবেষণার নতুন সম্ভাবনা তৈরি করতে বিএফএসএ প্রথমবারের মতো ‘ফেলোশিপ কার্যক্রম-২০২৬’চালু করেছে। এ বছর সাধারণ ফেলোশিপ–১ ক্যাটাগরিতে ৩২৩টি আবেদন থেকে ২০ জন ফেলো নির্বাচিত হয়েছেন।
ফেলোশিপ নীতিমালায় খাদ্য অণুজীব বিজ্ঞান, খাদ্য রসায়ন, খাদ্য বিষবিদ্যা, খাদ্য সংরক্ষণ, খাদ্য দূষণ নিয়ন্ত্রণ, ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা, উদীয়মান প্রযুক্তি ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনাসহ ১৪টি খাতে গবেষণার সুযোগ রাখা হয়েছে।
সাধারণ ফেলোশিপের আওতায় প্রতি ফেলোকে এক বছরে মাসিক ৭ হাজার টাকা হারে মোট ৮৪ হাজার টাকা দেওয়া হবে। এছাড়া সুপারভাইজারের সম্মানী ও গবেষণা ব্যয়সহ প্রতিজনের জন্য মোট ১ লাখ ৬৪ হাজার টাকা ব্যয় হবে। ভবিষ্যতে এমফিল ও পিএইচডি পর্যায়েও এ কার্যক্রম সম্প্রসারণের পরিকল্পনার কথা জানিয়েছে বিএফএসএ।
