বনানীতে এইচ বি এম ইকবালের কার্যালয়ে দুদকের অভিযান, সিলগালা
ছবি: সংগৃহীত
সমকাল প্রতিবেদক
প্রকাশ: ১৮ আগস্ট ২০২৬ | ০২:৫৯
রাজধানীর বনানীতে সাবেক এমপি ও প্রিমিয়ার ব্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যান ডা. এইচ বি এম ইকবালের অফিসে (ইকবাল সেন্টার) অভিযান চালিয়ে তিনশ'র বেশি স্থাবর সম্পদের দলিল, ব্যাংকের চেকবইসহ অন্যান্য সম্পদের কাগজপত্র ও আলামত জব্দ করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
দুদকের প্রধান কার্যালয়ের উপপরিচালক হোসাইন শরীফের নেতৃত্বে ইকবাল সেন্টারের ১৬ তলায় তার অফিসে গত কয়েকদিন ধরে এই অভিযান চালানো হয়। অভিযান শেষে কার্যালয়টি সিলগালা করা হয়। দুদকের সংশ্লিষ্ট সূত্র এই তথ্য জানিয়েছে।
অভিযানের সঙ্গে যুক্ত থাকা একটি সূত্র জানায়, ব্যাংকের কয়েকশ চেকবই, মেয়াদি আমানত সংক্রান্ত এফডিআরের নথি, নগদ প্রায় দেড় লাখ টাকা, সাতটি আধুনিক ইলেকট্রনিক ডিভাইসও জব্দ করা হয়। জব্দ করা সামগ্রীর তালিকা (ইনভেন্টরি) তৈরি করা হয়েছে। সম্পদের দলিলের তালিকা প্রায় ৩৭ পৃষ্ঠার। ইলেক্ট্রনিক ডিভাইসের মধ্যে রয়েছে একটি ম্যাকবুক, কয়েকটি মোবাইল ফোন, একটি নেক্সাস ট্যাব ও একটি আইপ্যাড।
সূত্র জানায়, অভিযানে পাওয়া সামগ্রী ও নথি শিগগির আদালতে উপস্থাপন করা হবে। পরে আদালতের আদেশ অনুযায়ী এগুলো সংরক্ষণ করা হবে।
প্রিমিয়ার গ্রুপের ৩ কর্মকর্তাকে জিজ্ঞাসাবাদ
ডা. এইচ বি এম ইকবালের বিরুদ্ধে অনিয়ম, দুর্নীতি ও অর্থ পাচারের অভিযোগ অনুসন্ধানের অংশ হিসেবে প্রিমিয়ার গ্রুপের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোস্তফা তালুকদারসহ উচ্চ পদস্থ তিন কর্মকর্তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
গতকাল সোমবার দুদকের প্রধান কার্যালয়ের উপপরিচালক মো. হোসাইন শরীফের নেতৃত্বে অনুসন্ধান টিমের সদস্যরা তাদেরকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। দুদকের একটি সূত্র এই তথ্য জানিয়েছে।
দুদকের প্রধান কার্যালয়ে বেলা সাড়ে তিনটা থেকে প্রিমিয়ার গ্রুপের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোস্তফা তালুকদার, জিএম নাজমুল ইসলাম, ও সিএফও মিজানুর রহমানকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। গত ৩ আগস্ট তাদের কাছে চিঠি পাটিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তলব করা হয়েছিল। তাদের বিরুদ্ধে অনিয়ম, দুর্নীতি, বেআইনীভাবে অন্যের সম্পদ দখল ও অর্থ পাচারের অভিযোগ রয়েছে।
জানা গেছে, এইচ বি এম ইকবাল আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে গত ১৩-১৪ বছরে দেশে-বিদেশে শত শত কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জন করেছেন। দেশে হোটেল, রিসোর্টসহ বিভিন্ন বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের মালিক হয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্রসহ একাধিক দেশে বিপুল পরিমাণ সম্পদ রয়েছে। দুদকের গোয়েন্দা ইউনিটের গোপন অনুসন্ধানে ইকবালের সম্পদের তথ্য-প্রমাণ বেরিয়ে এসেছে। যা তার জ্ঞাত আয়ের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয়। এই অভিযোগেরও অনুসন্ধান করা হচ্ছে।
গত বছরের ১২ অক্টোবর ৬৮ কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে ইকবাল এবং তার ছেলের বিরুদ্ধে পৃথক দুটি মামলা দায়ের করেছে দুদক। তার স্ত্রী ও আরেক সন্তানের বিরুদ্ধেও জ্ঞাত আয় বহির্ভুত সম্পদ অর্জেনের অনুসন্ধান চলছে। গত বছরের ২৫ নভেম্বর ইকবালসহ ২০ জনের বিদেশ গমনে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছেন আদালত।
- বিষয় :
- সাবেক এমপি
- দুদক
- দুর্নীতি দমন কমিশন