শাহজালাল বিমানবন্দর
পণ্য আমদানির আড়ালে আসছে অবৈধ স্বর্ণ
তিন ঘটনায় ৫৪ কেজি স্বর্ণ জব্দ
ছবি- সংগৃহীত
শহিদুল আলম
প্রকাশ: ২৯ আগস্ট ২০২৬ | ০৮:২৩ | আপডেট: ২৯ আগস্ট ২০২৬ | ০৯:৪০
| প্রিন্ট সংস্করণ
ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরকেন্দ্রিক সংঘবদ্ধ একটি চক্র ভুয়া ঠিকানা ব্যবহার করে দেশে স্বর্ণের অবৈধ চালান আনছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। সর্বশেষ একটি ভুয়া ঠিকানায় আসা ফলের চালানে ১৬ কেজি স্বর্ণ আসে। পৃথক ঘটনায় বিমানবন্দরের কার্গো হোল্ড থেকে আরও দুটি চালানে ৩৮ কেজি স্বর্ণ জব্দ করা হয়।
পুলিশ জানায়, গত ১৯ জুলাই হংকং থেকে ক্যাথে প্যাসিফিক এয়ারওয়েজের একটি ফ্লাইটে রাজধানীর উত্তরখানের মন্ডার ওই ভুয়া ঠিকানায় ফুড লিংক প্রতিষ্ঠানের নামে ফলের দুটি ক্যারেট আসে। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে বিমানবন্দরের কার্গো আমদানি শাখায় কাস্টমস কর্তৃপক্ষ তল্লাশি চালিয়ে ফলের একটি ক্যারেট থেকে ১৬ কেজি স্বর্ণ জব্দ করে। বিমানবন্দরের গোয়েন্দা তথ্য অনুযায়ী, ওই প্রতিষ্ঠানের মালিক মো. গোলাম মোস্তফা।
সংশ্লিষ্টরা জানান, এ নিয়ে বিমানবন্দরে পৃথক তিনটি ঘটনায় মোট ৫৪ কেজি স্বর্ণবার জব্দ করা হয়। এ ঘটনায় গোলাম মোস্তফার নামে বিমানবন্দর থানায় একটি মামলা হয়।
পুলিশ জানায়, বিমানবন্দরকেন্দ্রিক সংঘবদ্ধ একটি চোরাই চক্র বিভিন্ন পণ্যের আড়ালে ভুয়া ঠিকানা ব্যবহার করে বিদেশ থেকে কৌশলে স্বর্ণের অবৈধ চালান আনছে। ১৯ জুলাই স্বর্ণ জব্দের ঘটনায় মামলা হলে রাজধানীর কাফরুল এলাকায় অভিযান চালিয়ে ফল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান ফুড লিংকের মালিক গোলাম মোস্তফাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা বিমানবন্দর থানার এসআই রোকনুজ্জামান চৌধুরী সমকালকে বলেন, আদালতের মাধ্যমে রিমান্ডে নিয়ে গোলাম মোস্তফাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে পুলিশ। বর্তমানে তিনি কারাগারে। এ ঘটনায় তদন্ত অব্যাহত আছে।
তদন্ত কর্মকর্তা আরও বলেন, সংঘবদ্ধ একটি চক্র ভুয়া ঠিকানা ব্যবহার করে বিদেশ থেকে বিভিন্ন পণ্য আমদানির নামে কৌশলে আনছে কোটি কোটি টাকার স্বর্ণের চালান। রিমান্ডে গোলাম মোস্তফার দেওয়া স্বর্ণ পাচারের চাঞ্চল্যকর তথ্য গুরুত্বসহকারে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
মামলার তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, চোরাকারবারিরা পাচারের নিরাপদ রুট হিসেবে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরকে ব্যবহার করছে। চক্রটি ফল আমদানির আড়ালে বিদেশ থেকে কৌশলে দেশের ভুয়া ঠিকানায় আনছে কোটি কোটি টাকার স্বর্ণের চালান। শুধু তাই নয়, স্বর্ণ পাচারে নিরাপদ স্থান হিসেবে চোরাই চক্রটি ব্যবহার করছে বিমানের কার্গো হোল্ডও।
জানতে চাইলে বিমানবন্দর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামরুল হাসান তালুকদার সমকালকে জানান, সম্প্রতি দুবাই থেকে আসা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের পৃথক দুটি ফ্লাইটে তল্লাশি করে প্রায় ৩৮ কেজি স্বর্ণ জব্দ করে ঢাকা কাস্টমস হাউস কর্তৃপক্ষ। এ ঘটনায় থানায় পৃথক দুটি মামলা করা হয়। ওসি আরও জানান, বিমানের কার্গো হোল্ডে স্বর্ণ পাচারের ঘটনায় এখন পর্যন্ত জড়িত কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ। তবে মামলার তদন্ত অব্যাহত আছে।
সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, চোরাকারবারিরা স্বর্ণ পাচারের নিরাপদ বাহন হিসেবে ব্যবহার করছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের উড়োজাহাজের কার্গো হোল্ডসহ গোপন স্থান। অথচ সংশ্লিষ্ট বিমানকর্মীর সহযোগিতা ছাড়া কোনো যাত্রীর পক্ষে সেখানে যাওয়া সম্ভব নয়।
ঢাকা কাস্টমস হাউসের অতিরিক্ত কমিশনার কামরুল হাসান সমকালকে বলেন, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে কাস্টমস, গোয়েন্দাসহ অন্যান্য সংস্থা পৃথকভাবে যৌথ অভিযান চালায়। এ সময় বিমানের উড়োজাহাজের কার্গো হোল্ড ও ফলের ক্যারেট থেকে জব্দ করা হয় মোট ৫৪ কেজি স্বর্ণ। এর মধ্যে ফলের ক্যারেট থেকে ১৬ কেজি এবং বিমানের পৃথক দুটি উড়োজাহাজের কার্গো হোল্ড থেকে জব্দ করা হয় ৩৮ কেজি স্বর্ণবার। এ ঘটনায় বিমানবন্দর থানায় মামলা করা হয়েছে। মামলার তদন্তে এসব স্বর্ণ পাচারের সঙ্গে জড়িত চক্রকে শনাক্ত করার দায়িত্ব হচ্ছে পুলিশের।
- বিষয় :
- স্বর্ণ