ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

আলোচনা সভায় বক্তারা

আবদুস সালামের সাহসী ও নির্মোহ সাংবাদিকতা আমাদের পথ দেখায়

আবদুস সালামের সাহসী ও নির্মোহ সাংবাদিকতা আমাদের পথ দেখায়
×

আলোচনা সভায় বক্তারা। ছবি: সমকাল

সমকাল প্রতিবেদক

প্রকাশ: ৩০ আগস্ট ২০২৬ | ২১:১৫ | আপডেট: ৩০ আগস্ট ২০২৬ | ২২:০৫

উপমহাদেশের প্রখ্যাত সম্পাদক ও ভাষাসৈনিক আবদুস সালামের সাহসী ও নির্মোহ সাংবাদিকতা আমাদের পথ দেখায়। পাকিস্তানি সামরিক শাসনসহ সব শাসনামলে তিনি ক্ষমতাসীনদের রক্তচক্ষু উপেক্ষা করে সত্য প্রকাশে অবিচল ছিলেন। তাই সাংবাদিকতার হারানো সম্মান ও মর্যাদা ফিরে পেতে তাঁর জীবন থেকে শিক্ষা গ্রহণ করতে হবে।

আজ রোববার বাংলাদেশ প্রেস ইনস্টিটিউট (পিআইবি) মিলনায়তনে পিআইবির প্রতিষ্ঠাতা মহাপরিচালক ও অবজারভারের প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক আবদুস সালামের ১১৬তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় বক্তারা এসব কথা বলেন। সাংবাদিক আবদুস সালাম স্মৃতি পরিষদ অনুষ্ঠানের আয়োজক। 

সভায় আবদুস সালামকে সাহসী সাংবাদিকতার প্রতীক হিসেবে উল্লেখ করে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী বলেন, আবদুস সালাম সারা জীবনই নিগ্রহের শিকার হয়েছেন। পাকিস্তানি সামরিক স্বৈরশাসক আইয়ুব খানের কঠোর সমালোচনা করে তিনি জেলে গেছেন। দেশে মৃদু গণতন্ত্র, স্বৈরাচার কিংবা ফ্যাসিবাদী শাসন থাকলেও তার ওপর নির্যাতন হয়েছে। কিন্তু শত আঘাতেও তিনি কর্তব্যকর্ম থেকে বিচ্যুত হননি। 

নতুন প্রজন্মকে আবদুস সালামের জীবন থেকে শিক্ষা নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে রুহুল কবির রিজভী বলেন, আজকের পৃথিবী যেভাবে গণতন্ত্রহীনতা ও যুদ্ধ-বিগ্রহে বিপন্ন হয়ে পড়েছে, সেখানে আবদুস সালামকে কেবল বাংলাদেশই নয়, গোটা বিশ্বেই প্রয়োজন। এ দেশের গণতন্ত্র ও স্বাধীনতা যদি আবারও বিপন্ন হয়ে পড়ে, তখনও তার মতো মানুষদের কথাই স্মরণে আসবে। 

বর্তমান সরকার গণমাধ্যমের সমালোচনার প্রতি সহিঞ্চু বলে মন্তব্য করে প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার এবং সংস্কৃতি বিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদুর রহমান বলেন, আবদুস সালাম স্বৈরশাসকদের বিরুদ্ধে অ্যাক্টিজম করেছেন। গণতন্ত্র ও স্বাধীনতা রক্ষায় এ ধরনের অ্যাক্টিজমের প্রয়োজন আছে। আমরা আর কোনো গণঅভ্যুত্থান চাই না; আবু সাঈদ, মুগ্ধরা জীবন দিক— সেটাও চাই না। সেই প্রেক্ষাপটে আবদুস সালামদের অ্যাক্টিজমও যেন আর ফিরে না আসে, সেটাই চাই। তবে ভবিষ্যতে আবারও  স্বৈরশাসক ফিরে এলে তখন এই অ্যাক্টিভিজমে ফিরে যেতে হবে।’ 

আলোচকদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে আবদুস সালামের নামে ঢাকা নগরীর একটি সড়কের নামকরণ করার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের আশ্বাস দেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আবদুস সালাম। 

আবদুস সালাম নির্মোহভাবে ক্ষমতাসীনদের সমালোচনা করেছেন উল্লেখ করে সিপিডির সম্মানীয় ফেলো অধ্যাপক ড. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, যারা সরকারে থাকেন, তারা মনে করেন গণমাধ্যমে সরকারের সমালোচনা হলে তারা দুর্বল হয়ে পড়বেন। কিন্তু তারা সমালোচনাকে গ্রহণ করে নিজেকে সংশোধন করতে পারলে দেশ ও জাতিও এগিয়ে যাবে। 

বাসসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান সম্পাদক কাদের গণি চৌধুরী বলেন, ‘গত ১৭ বছরের ফ্যাসিবাদী শাসনে আমাদের সম্পাদক ও সাংবাদিকরা ক্ষমতামুখী ও দলদাসে পরিণত হওয়ায় সাংবাদিকতার ইতিহাস কলঙ্কিত হয়েছে।’ তিনি বলেন, সাংবাদিকতার হারানো সম্মান ও মর্যাদা ফিরে পেতে আবদুস সালামের জীবন থেকে থেকে শিক্ষা নিতে হবে।

সভাপতির বক্তব্যে পিআইবির মহাপরিচালক ফারুক ওয়াসিফ প্রখ্যাত এই সাংবাদিদের নামে পিআইবি থেকে একটি পদক চালুর ঘোষণা দেন। 

বাংলাদেশ প্রতিদিনের সম্পাদক ও আবদুস সালাম স্মৃতি সংসদের সাধারণ সম্পাদক লোটন একরামের সঞ্চালনায় সভায় সূচনা বক্তব্য দেন আবদুস সালামের মেয়ে ও স্মৃতি সংসদের সভাপতি রেহানা সালাম। অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন দ্য ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেসের সম্পাদক শামসুল হক জাহিদ, জাতীয় প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক আইয়ুব ভূঁইয়া, টেলিভিশন এডিটরস কাউন্সিলের আহ্বায়ক ড. আবদুল হাই সিদ্দিক, সদস্য সচিব জুবায়ের আহমেদ বাবু প্রমুখ। সভার শুরুতে সাংবাদিক আবদুস সালামের জীবন ও কর্ম এবং পিআইবি প্রতিষ্ঠার সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষে দুটি প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়।

আরও পড়ুন

×