ঢাকা সোমবার, ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

নারী উদ্যোক্তার অভিযোগ

গোয়েন্দা পরিচয়ে হুমকি ঘরে বন্দি দুই সন্তান

গোয়েন্দা পরিচয়ে হুমকি ঘরে বন্দি দুই সন্তান
×

জাতীয় প্রেস ক্লাবের আকরম খাঁ হলে এক সংবাদ সম্মেলন করা হয়। ছবি: সমকাল

 সমকাল প্রতিবেদক

প্রকাশ: ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ১২:৪৪

নারী উদ্যোক্তা নাজমা খাতুনের দুই মেয়ে নিরাপত্তার কারণে ঘর থেকে বেরোতে পারছে না। ঘরে বন্দির মতো সময় কাটাচ্ছে তারা। গতকাল রোববার জাতীয় প্রেস ক্লাবের আকরম খাঁ হলে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি লিখিত বক্তব্যে এই অভিযোগ করেন।

নাজমা খাতুন কুসুম কলি সু ফ্যাক্টরি নামে একটি প্রতিষ্ঠানের মালিক। তাঁর অভিযোগ, এনএসআই কর্মকর্তার পরিচয় ব্যবহার করে তাঁর সঙ্গে প্রতারণা করা হচ্ছে, তাঁর প্রতিষ্ঠানের সম্পদ আটকে রাখা হয়েছে। নানা ভয়ভীতি ও হুমকির কারণে বর্তমানে পরিবারের নিরাপত্তা এবং কুসুম কলি ফ্যাক্টরি রক্ষা নিয়ে তিনি নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। সরকারের কাছে তিনি এর প্রতিকারের জোর দাবি জানান।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে নাজমা খাতুন বলেন, ‘একজন নারী উদ্যোক্তাকে বাঁচানো মানে একটি পরিবার, শত শত কর্মসংস্থান এবং একটি সম্ভাবনাময় শিল্পপ্রতিষ্ঠানকে বাঁচানো। আমি করুণা চাই না, ন্যায়বিচার ও বাঁচার সুযোগ চাই।’

নাজমা খাতুন বলেন, ‘আমি কোনো রাজনৈতিক বক্তব্য দিতে আসেনি। আমি একজন মা, একজন স্ত্রী, একজন নারী উদ্যোক্তা এবং একজন বিপর্যন্ত মানুষের শেষ আশ্রয়স্থল হিসেবে আপনাদের সামনে এসেছি। আমি আপনাদের মাধ্যমে সরকারের কাছে বলতে চাই, আমি বাঁচতে চাই। আমার পরিবারকে বাঁচাতে দিন। আমার সন্তানদের নিরাপদ রাখতে দিন।’

সংবাদ সম্মেলনে তিনি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং সরকারের সংশ্লিষ্ট সব কর্তৃপক্ষের জরুরি দৃষ্টি আকর্ষণ করছেন। তিনি বলেন, ‘আমি সেই নাজমা, যে শূন্য থেকে শুরু করে কারখানাটি গড়েছে। আমি কোনো বিত্তশালী পরিবারের সন্তান নই, বাংলাদেশের একটি প্রত্যন্ত, গ্রামের একজন সাধারণ নারী।’

নাজমা খাতুন বলেন, ‘২০০৫ সালে মাত্র ২০ হাজার টাকা মূলধন নিয়ে আমি কুসুম কলি প্রতিষ্ঠা করি। আকরাম হোসেন নামে এক ব্যক্তি নিজেকে জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা হিসেবে পরিচয় দেন। তিনি আমাকে আশ্বাস দেন, ঢাকার সাভারের বিরুলিয়া এলাকার তাঁর ভবনে কারখানা স্থানান্তর করলে তিনি ব্যাংক ঋণের ব্যবস্থা এবং চায়না কোম্পানি থেকে বাকিতে কাঁচামাল ও কেমিক্যাল সংগ্রহের ব্যবস্থা করতে সহযোগিতা করবেন। একজন বিপর্যস্ত উদ্যোক্তা হিসেবে আমি তাঁকে বিশ্বাস করি। আমার প্রতিষ্ঠানের প্রায় পাঁচ কোটি টাকা মূল্যের মেশিনারি, যন্ত্রপাতি ও কাঁচামাল তাঁর ভবনের চারটি ফ্লোরে স্থানান্তর করি। কারখানা চালুর প্রস্তুতির জন্য নিজের অর্থে মেরামত, বিদ্যুৎ সংযোগসহ বিভিন্ন কাজে প্রায় ১০ লাখ টাকা ব্যয় করি। পরে তিনি প্রতিশ্রুত ঋণ ও কাঁচামালের ব্যবস্থা না করে বিভিন্ন ধরনের অর্থের দাবি ও চাপ সৃষ্টি করেন। পরিস্থিতির কারণে চলতি ফেব্রুয়ারিতে আমাকে কার্যক্রম বন্ধ করতে হয়। এরপর আমার মেশিন ও মালাপত্র কম মূল্যে বিক্রি করে দেওয়ার জন্য চাপ সৃষ্টি করা হয়। আমি এতে রাজি হইনি। কারণ এগুলোই ছিল আমার ঘুরে দাঁড়ানোর শেষ সম্বল।’

এ বিষয়ে জানতে চাইলে গোয়েন্দা সংস্থার সাবেক কর্মকর্তা আকরাম হোসেন সমকালকে বলেন, ‘সংবাদ সম্মেলনে নাজমা খাতুন আমার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ তুলেছেন, তা সম্পূর্ণ মিথ্যা, বানোয়াট এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।’ তিনি বলেন, ‘নাজমা খাতুনের কাছে ২০ লাখ টাকা ভাড়া পাই আমি। তাঁর দুই মেয়েকে আটকে রাখা বা হুমকি দেওয়ার প্রশ্নই আসে না। ওই টাকা না দেওয়ার জন্য এই সংবাদ সম্মেলনসহ বিভিন্ন অভিযোগ তুলছেন নাজমা খাতুন।’ 

আরও পড়ুন

×