ঢাকা সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬

গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিয়ে মুক্ত আলোচনায় বক্তারা

সাংবাদিক নিপীড়নের হাতিয়ার হতে পারে এমন আইন নয়

সাংবাদিক নিপীড়নের হাতিয়ার হতে পারে এমন আইন নয়
×
×

ছবি: সংগৃহীত

সমকাল প্রতিবেদক

প্রকাশ: ১৯ অক্টোবর ২০২৬ | ১২:১৩ | আপডেট: ১৯ অক্টোবর ২০২৬ | ১২:২২

 সরকার পরিবর্তন হলেও গণমাধ্যমের ওপর নিয়ন্ত্রণের প্রবণতা বন্ধ হচ্ছে না। গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে সংস্কার কমিশনের সুপারিশ বাস্তবায়নের পাশাপাশি সাংবাদিকদের রাজনৈতিক বিভাজন ও মালিকপক্ষের নিয়ন্ত্রণ থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও সংস্কারের সঙ্গে দেশের গণতান্ত্রিক চর্চা সরাসরি জড়িত। সাংবাদিকদের ওপর নিপীড়ন চালানোর হাতিয়ার হতে পারে, এমন আইন মেনে নেওয়া হবে না।

গতকাল রোববার পান্থপথে দৃকপাঠ ভবনে ‘গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও সংস্কারের গুরুত্ব’ শীর্ষক মুক্ত আলোচনায় বক্তারা এসব কথা বলেন। দৃক আয়োজিত এ আলোচনায় সভাপতিত্ব নয়, সঞ্চালনা করেন প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও আলোকচিত্রী শহিদুল আলম। আলোচনায় জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক মাসুদ কামাল বলেন, সাংবাদিক সংগঠনগুলো রাজনৈতিকভাবে বিভক্ত। বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন (বিএফইউজে) ও ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের (ডিইউজে) নেতাদের কর্মকাণ্ডে রাজনৈতিক পক্ষপাত স্পষ্ট।

খুলনা অঞ্চলের জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক গৌরাঙ্গ নন্দী বলেন, উপকূলীয় এলাকার মানুষের সংকট গণমাধ্যমে তুলে ধরা কঠিন। গণমাধ্যম কতটা স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারবে, তা অনেক ক্ষেত্রে মালিকপক্ষের ইচ্ছার ওপর নির্ভর করে।

নেত্র নিউজের প্রধান সম্পাদক তাসনিম খলিল বলেন, দু-একটি ব্যতিক্রম ছাড়া দেশের অধিকাংশ গণমাধ্যমে সম্পাদকীয় নীতিমালা নেই। কোনো সরকারই গণমাধ্যমকে উপহার হিসেবে স্বাধীনতা দেবে না। স্বচ্ছতা ও নিজেদের উদ্যোগের মাধ্যমে এ স্বাধীনতা আদায় করতে হবে।

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের অধ্যাপক আ-আল মামুন বলেন, গণমাধ্যমের বিকাশে দেশে প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর ঘাটতি রয়েছে। গত ৩০ বছরে কোনো মিডিয়া কমিশন গঠিত হয়নি, যদিও এ সময়ে গণমাধ্যমে অনেক পরিবর্তন এসেছে। এখন উদ্যোগ না নিলে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা এবং সাংবাদিকদের নির্ভয়ে কাজ করার পরিবেশ নিশ্চিত করা কঠিন হবে।

গণমাধ্যম সংস্কার কমিশনের সাবেক সদস্য ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের অধ্যাপক গীতিআরা নাসরিন বলেন, বিএনপির ৩১ দফা ও নির্বাচনী ইশতেহারে গণমাধ্যমের পূর্ণ স্বাধীনতার কথা বলা হয়েছে। অন্তর্বর্তী সরকারও এ বিষয়ে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। তবে বাস্তবে অগ্রগতি নেই। তাঁর অভিযোগ, নির্বাচিত সরকারও গণমাধ্যমের ওপর প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ বাড়ানোর চেষ্টা করছে।

প্রস্তাবিত সাইবার সুরক্ষা আইন প্রসঙ্গে অ্যাসোসিয়েশন অব টেলিভিশন চ্যানেল ওনার্সের (অ্যাটকো) মহাসচিব এবং একুশে টেলিভিশনের চেয়ারম্যান ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আবদুস সালাম বলেন, এ ধরনের আইনের প্রয়োজন থাকতে পারে। তবে সাংবাদিকদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে হবে। 

টেলিভিশন চ্যানেলে বিজ্ঞাপনের অসম বণ্টন নিয়ে উদ্বেগ জানান আবদুস সালাম। নেত্র নিউজের আদিবাসীবিষয়ক সাংবাদিক ডেনিম চাকমা বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামের সত্য ও সঠিক খবর দেশের প্রথম সারির গণমাধ্যমে যথাযথ গুরুত্ব পায় না। গণমাধ্যমে ‘আদিবাসী’, ‘ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী’ নাকি ‘উপজাতি’–কোন শব্দ ব্যবহার করা হবে, সেই বিতর্কের আড়ালে প্রকৃত স্বাধীনতা ও সংস্কারের প্রশ্ন চাপা পড়ে যাচ্ছে কিনা, তা ভেবে দেখা দরকার।

আরও বক্তব্য দেন প্রথম আলোর উপসম্পাদক এ কে এম জাকারিয়া, সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী সারা হোসেন, গণমাধ্যম সংস্কার কমিশনের সাবেক সদস্য ও সাংবাদিক জিমি আমির, ইউনিভার্সিটি অব লিবারেল আর্টস বাংলাদেশের (ইউল্যাব) গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের প্রধান অধ্যাপক সুমন রহমান, আইনজীবী নজরুল ইসলাম, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষক শিবলী নোমান, সাবেক প্রেস সচিব ও দৈনিক ওয়াদার সম্পাদক শফিকুল আলম।

আরও পড়ুন

×