ডিএমপির ট্রাফিক সচেতনতা পক্ষ শুরু
'সন্তানরা আরেকবার রাস্তায় নামলে কারও পিঠের চামড়া থাকবে না'
বৃহস্পতিবার সকালে রাজারবাগ পুলিশ লাইন্সে ফিতা কেটে ট্রাফিক সচেতনতা পক্ষ উদ্বোধন করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল- ফোকাস বাংলা
সমকাল প্রতিবেদক
প্রকাশ: ২১ নভেম্বর ২০১৯ | ১০:৪৭ | আপডেট: ২১ নভেম্বর ২০১৯ | ১১:৪২
সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে ট্রাফিক সচেতনতা পক্ষ শুরু হয়েছে বৃহস্পতিবার। এ সচেতনতা কর্মসূচি চলবে ৫ ডিসেম্বর পর্যন্ত।
সকালে রাজারবাগ পুলিশ লাইন্সে পুলিশ অডিটোরিয়ামে ট্রাফিক সচেতনতা পক্ষ আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল। এ অনুষ্ঠানে ডিএমপি কমিশনার মোহা. শফিকুল ইসলাম বলেছেন, 'আমাদের সন্তানরা আরেকবার রাস্তায় নামলে কারও পিঠের চামড়া থাকবে না।'
প্রধান অতিথির বক্তব্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, নতুন সড়ক পরিবহন আইনের কয়েকটি বিষয়ে পরিবহন মালিক-শ্রমিকদের আপত্তি ছিল। তারা ৯ দফা দাবি উত্থাপন করেছেন। আইনের বাকি অংশগুলো যুগোপযোগী হিসেবে তারা সমর্থন জানিয়েছেন। প্রস্তাব আকারে ৯ দফা দাবি যোগাযোগ মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। কোথাও অসঙ্গতি থাকলে যাচাই-বাছাই করে যথাযথ প্রক্রিয়ায় সমাধান করা হবে।
মন্ত্রী আরও বলেন, ২০১৮ সালে পাস হওয়া নতুন সড়ক পরিবহন আইন প্রয়োগে যথেষ্ট সময় দেওয়া হয়েছে। সম্প্রতি আইনটি প্রয়োগের ঘোষণার পর কয়েকটি যৌক্তিক জটিলতা সামনে এসেছে। যেমন কারিগরি কারণে গাড়ির চালকদের উপযুক্ত লাইসেন্স দেওয়া যাচ্ছিল না। আগামী ৩০ জুনের মধ্যে চালকদের যথাযথভাবে উপযুক্ত লাইসেন্স করিয়ে নিতে হবে।
সড়কে গাড়ির চালক, হেলপার ও পথচারীর দায়িত্ব, করণীয় ও বর্জনীয় সম্পর্কে সচেতন করতে ডিএমপির উদ্যোগে ট্রাফিক সচেতনতা পক্ষ শুরু হয়েছে। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন পুলিশ মহাপরিদর্শক ড. মোহাম্মদ জাবেদ পাটোয়ারী, বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির মহাসচিব খন্দকার এনায়েত উল্লাহ, ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার মনিরুল ইসলাম ও মফিজ উদ্দিন আহম্মেদ।
আইজিপি জাবেদ পাটোয়ারী বলেন, নানা কারণে ঢাকা মহানগরে ট্রাফিক সমস্যা প্রকট আকার ধারণ করছে। যানজট ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে প্রধানত ট্রাফিক ইঞ্জিনিয়ারিং, ট্রাফিক এডুকেশন, ট্রাফিক এনভায়রনমেন্ট ও ট্রাফিক এনফোর্সমেন্ট গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। পুলিশ ট্রাফিক এনফোর্সমেন্টের একটি অংশ। সড়কে কোনো কিছু ঘটলে ট্রাফিক পুলিশকে দোষারোপ করা হয়। কিন্তু যারা রাস্তা ব্যবহার করেন, তাদেরও কিছু দায়িত্ব রয়েছে। সবার মধ্যে আইন না মানার সংস্কৃতি কাজ করে। ট্রাফিক পুলিশ রাস্তায় কারও গাড়ি আটকালে অনেকে নানা পরিচয় দিয়ে সংশ্নিষ্ট পুলিশ সদস্যকে বদলি করে দেওয়ার হুমকি দেয়। তবে আইন প্রয়োগের ক্ষেত্রে কোনো পুলিশ সদস্যকে বদলি করা হবে না বলে জানান আইজি। আইন প্রয়োগের সময় পুলিশ সদস্যদেরও অবশ্যই বিনয়ী হতে হবে।
সভাপতির বক্তব্যে ডিএমপি কমিশনার শফিকুল ইসলাম বলেন, সড়ক পরিবহন আইনটি করা হয়েছে সড়কে শৃঙ্খলা ফেরানোর জন্য। জরিমানা আদায় করা সরকার বা পুলিশের উদ্দেশ্য নয়। সড়কে শৃঙ্খলা থাকলে মামলা করার প্রয়োজন নেই।
কমিশনার আরও বলেন, 'সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে এই আইন কার্যকর করাই শেষ সুযোগ। আরেকবার যদি আমাদের সন্তানরা রাস্তায় নামে, তাহলে কারও পিঠের চামড়া থাকবে না। তাই সবাই আইন মেনে চলি। সড়কে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনি।'
খন্দকার এনায়েত উল্লাহ বলেন, আগামী ৩০ জুন পর্যন্ত বৈধ লাইসেন্স দিয়ে গাড়ি চালাতে পারবেন চালকরা। এই সময়ের মধ্যে ড্রাইভিং লাইসেন্স নবায়ন করে নিতে হবে। এটাই শেষ সুযোগ, এরপর কোনো আপত্তি চলবে না।
- বিষয় :
- ট্রাফিক সচেতনতা পক্ষ
- সড়কে শৃঙ্খলা
