ঢাকা শুক্রবার, ১৯ জুন ২০২৬

স্বামী-পুত্র হত্যার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার চান কবি রুবী রহমান

স্বামী-পুত্র হত্যার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার চান কবি রুবী রহমান
×

ছবি: সমকাল

সমকাল প্রতিবেদক

প্রকাশ: ০৪ ডিসেম্বর ২০১৯ | ০৮:৫৭

'আপনাদের হয়তো মনে আছে ২০০৮ সালের ৩ ডিসেম্বরের সে ঘটনা। ওই বছর জাতীয় নির্বাচনের মাত্র ২৬ দিন আগে একমাত্র পুত্রসহ নির্মমভাবে নিহত হন গণতন্ত্রী পার্টির সাবেক সভাপতি ও শ্রমিক অধিকার আন্দোলনের নেতা নুরুল ইসলাম। লালমাটিয়ার ফ্ল্যাটে রাতে ঘুমন্ত অবস্থায় এক রহস্যজনক দহনের শিকার হয়ে প্রাণ হারান তারা। এরপর ১১ বছর পার হয়েছে। তদন্তকারী সংস্থা ও তদন্ত কর্মকর্তা বদল হয়েছে বহুবার। বর্তমানে মহাজোট সরকারও ক্ষমতায়। এ দীর্ঘ সময়ে মহাজোটের তৎকালীন সমন্বয়ক নুরুল ইসলাম ও ছেলে ইসলাম তমোহরের মৃত্যু রহস্যের কিনারা হয়নি।' 

বুধবার জাতীয় প্রেসক্লাবে নুরুল ইসলাম স্মৃতি পরিষদ আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে স্বামী-সন্তান হারানোর বেদনা বুকে চেপে এভাবেই নিজের আক্ষেপের কথা বলছিলেন কবি রুবী রহমান। এ সময় স্বামী ও ছেলে হত্যার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবি করেন তিনি। 

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন- নুরুল ইসলাম স্মৃতি পরিষদের সভাপতি জাতীয় অধ্যাপক আনিসুজ্জামান, ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের সাধারণ সম্পাদক ডা. ওয়াজেদুল ইসলাম খান, হাজারীবাগ ট্যানারি ইউনিয়নের সভাপতি আবুল কালাম আজাদ।

লিখিত বক্তব্যে রুবী রহমান বলেন, ২০০৮ সালের নির্বাচনের আগে গণতন্ত্রী পার্টির সভাপতি নুরুল ইসলামসহ বেশ কয়েকটি হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়, যা ছিল রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। কিন্তু তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে কোনো তদন্ত ছাড়াই পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়, বৈদ্যুতিক দুর্ঘটনায় নুরুল ইসলাম ও তার ছেলে তমোহরের মৃত্যু হয়েছে, যা ছিল মিথ্যা। কারণ ডিপিডিসির তদন্তে ওই ফ্ল্যাটে শর্টসার্কিটের প্রমাণ পাওয়া যায়নি। আগুনের শিখাও দেখা যায়নি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগের তদন্তকারী দলও শর্টসার্কিট হয়নি বলে প্রতিবেদন দিয়েছে। পরে মহাজোট সরকারের নির্দেশে মামলার তদন্ত কার্যক্রম চাঞ্চল্যকর মামলার তালিকায় স্থান পেয়েছিল। 

তিনি বলেন, দিনের পর দিন টেলিফোন করে নুরুল ইসলাম ও তমোহরকে মৃত্যুর হুমকি দেওয়া হয়েছিল। নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর হুমকিও ছিল। মৃত্যুশয্যায়ও নুরুল ইসলাম সে বিষয়টি উল্লেখ করেছিলেন। এর পরও এ বিষয়ে কোনো স্বচ্ছ তদন্ত হয়নি। তাকে নির্বাচনে অযোগ্য ঘোষণা করতে ঋণখেলাপির মিথ্যা তথ্য দিয়েছিল সোনালী ব্যাংক। এ ছাড়া ভবন মালিককে তদন্তের আওতায় আনতে হবে। সরকারের একটি রাসায়নিক গবেষণা রিপোর্টে ওই রুমে বিপজ্জনক রাসায়নিক দ্রব্য আরসাইন ও অসামিয়াম পাওয়া গেছে, যা দ্রুত শ্বাসতন্ত্রকে আক্রমণ করে। অগ্নিকাণ্ডে রহস্যজনক কারণে বইপত্র, কাগজ ও প্লাস্টিক পণ্য পোড়েনি। এমনকি তমোহরের গায়ের সিন্থেটিক টি-শার্টটিও পোড়েনি। আহতদের উদ্ধারের জন্য দরজা ভেঙে যে প্রতিবেশীরা ফ্ল্যাটে ঢুকেছিলেন, তারাও কেউ আগুনের শিখা দেখেননি। তারা শুধু কালো ধোঁয়া দেখেছিলেন এবং তীব্র উত্তাপ অনুভব করেছিলেন। মামলার তদন্তে এসব বিষয় যাচাই করে দেখতে হবে।

পুলিশ, র‌্যাব-সিআইডির পর গত বছর এ-সংক্রান্ত মামলার তদন্ত পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) কাছে হস্তান্তর করা হয়। পিবিআইর ওপর আস্থা রেখে রুবী রহমান বলেন, এখন হয়তো রহস্যের সমাধান হবে। আমরা হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবি করছি।

সংবাদ সম্মেলনে জাতীয় অধ্যাপক আনিসুজ্জামান দ্রুত এ হত্যা রহস্যের কিনারা করতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।

আরও পড়ুন

×